নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় বছর দুয়েক আগে প্রতিষ্ঠিত এক কওমী মাদ্রাসার নামকরণকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষে এক স্কুল শিক্ষক নিহত ও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালে রূপগঞ্জের কুলিয়াদী গ্রামে প্রতিষ্ঠিত জামিয়া সাহবানিয়া কওমী মাদ্রাসার নতুনভাবে নামকরণকে কেন্দ্র করে গত বৃহস্পতিবার কুলিয়াদী ও পার্শ্ববর্তী দীঘলিয়ারটেক গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এই বিরোধের জেরে গতকাল শুক্রবার কুলিয়াদী গ্রামের রনি মালুমকে দীঘলিয়ারটেক গ্রামের লোকজন আটক করে। অন্যদিকে দীঘলিয়ারটেক গ্রামের বাবুল হোসেন ও নয়ন মিয়াকে কুলিয়াদী গ্রামের হলি হ্যাভেন কিণ্ডারগার্টেনে বসে মাদক সেবন করার অভিযোগে আটক করে কুলিয়াদী গ্রামের বাসিন্দারা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের মানুষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এক পর্যায়ে স্কুল শিক্ষক মেহেদী হাসান বাবু বিষয়টি মীমাংসা করে আটকদের ছাড়িয়ে দেন। এরই মধ্যে উভয়পক্ষ পুনরায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষকালে আহত মেহেদী হাসান বাবু, জিয়া উদ্দিন ও নাজিমউদ্দিনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিত্সকরা মেহেদী হাসান বাবুকে মৃত ঘোষণা করেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা দীঘলিয়ারটেক গ্রামে হামলা চালায় এবং গ্রামের অছিমউদ্দিন, আকতার হোসেন, মোকতার হোসেন, কাওছার, নাছিরউদ্দিন, বাবুল, আরমান মিয়া ও আফছার উদ্দিনের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। আগুনে একটি মোটর সাইকেল, ৩টি ট্রাক্টর ও ৪টি দোকানও ভস্মীভূত হয়। খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর কর্মীরা বিকাল ৪টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও রূপগঞ্জ থানা পুলিশের এসআই আতিকুর রহমান নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেন—এমন অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
নিহত মেহেদী হাসান বাবু কুলিয়াদী গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে ও স্থানীয় জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী শিক্ষক। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীঘলিয়ারটেক গ্রামের ৩ জন যুবক ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মেহেদী হাসান বাবুকে হত্যা করে। তার হাতে, পিঠে, গলায় ও মাথায় রক্তাক্ত জখমের চিহ্ন রয়েছে। কওমী মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা নেয়ামত উল্লাহ বলেন, ঢাকার দারুল উলুম সাহবানিয়া ২০১২ সালে জামিয়া সাহবানিয়া কওমী মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত করেন। মাদ্রাসার সুনাম আশপাশে ছড়িয়ে পড়লে দীঘলিয়ারটেক ও কুলিয়াদী গ্রামবাসী মাদ্রাসার নামকরণে এগিয়ে আসেন। এ নিয়েই গত কয়েকদিন ধরে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
রূপগঞ্জ থানার ওসি আসাদুজ্জামান মীর বলেন, লাশ উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এব্যাপারে রূপগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে।
