অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী সুলতানী আমলের পর থেকে এই ভূখণ্ডের স্বাধীনতা অর্জন পর্যন্ত রাজনীতি ও সমাজে ধর্মের অবস্থান তুলে ধরে বলেছেন, পুঁজিবাদ মানুষকে দরিদ্র করে ধর্মাশ্রয়ী করে। বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদ পুঁজিবাদ আশ্রয়ী তার প্রমাণ আজও দেশের অনেক মানুষ মাদ্রাসা শিক্ষা আশ্রয় করে আছে। তারা ধর্ম নিয়েই আছে আবার কখনও জঙ্গিবাদ উত্সাহিত করছে। তাই বলা যায় জাতীয়তাবাদ আন্দোলন আমাদের আজও ধর্ম থেকে মুক্তি দিতে পারেনি। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে নারীপক্ষ আয়োজিত ‘রাষ্ট্র হবে ইহজাগতিক, সমাজ হবে ধর্মনিরপেক্ষ এবং মানুষ হবে অসামপ্রদায়িক’ শীর্ষক পোস্টার উন্মোচন ও বিশেষ আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। গতকাল বাংলা একাডেমির আব্দুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মুখ্য আলোচক ছিলেন- এমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষণা পরিচালক ড. বিনায়ক সেন, সেন্ট্রাল উইমেন্স বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক পারভীন হাসান।
অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী রাজনীতি ও সমাজে ধর্মের অবস্থান তুলে ধরে আরও বলেন, পলাশীর যুদ্ধে যে প্রহসনের অভ্যুদয় হয় তা থেকে কার্যত আজও বেরিয়ে আসতে পারিনি। তিনি বলেন, তারপরে সিপাহী বিপ্লব ইংরেজ বড় ধরনের ধাক্কা দেয় এবং দ্বিজাতি তত্ত্ব ও শ্রেণী বৈষ্যমের উপর ভিত্তি করে ১৯০৫ সালে তারা ভূখণ্ড বিভাজন করে। তখন অনেকেই এই বিভাজন মেনে নিতে পারেননি। রবীন্দ্রনাথ তখনই লেখেন আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি। তিনি বলেন, লালা রাজপত রায় এবং গান্ধী রাজনীতি থেকে ধর্মকে আলাদা করতে পারেননি। বরং ধর্মকে প্রশ্রয় দিয়েছেন। ১৯৪৭ সালে জনমতের প্রতিফলন ছাড়াই সেই বিভাজন মতে দেশ ভাগ হয়। তিনি বলেন জাতীয়তাবাদের মূল হচ্ছে ভাষা, ধর্ম ও ক্ষেত্র বিশেষ মূল হতে পারে। তিনি এসব বিষয়ে বঙ্কিম চন্দ্রকে একজন শক্তিশালী লেখক বলে উল্লেখ করেন। একইভাবে তিনি একাত্তুরের কথা উল্লেখ করে বলেন আমরা তখনও ধর্মকে ছাড়তে পারিনি।
অনুষ্ঠানে নারীপক্ষ’র ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে একটি পোস্টার উন্মোচন করা হয়। শুরুতে কবিতা আবৃত্তি করেন তামান্না তিথি। আলোচনা শেষে মানবাধিকার ও নারী সংগঠনের প্রতিনিধি, ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ প্রশ্নোত্তরপর্বে অংশ নেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নারীপক্ষ’র আন্দোলন সম্পাদক ফিরদৌস আজীম।
