সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলা পরিষদের নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে ২টি বাড়ি ও ১টি মোটরসাইকেল ভাংচুর করা হয়।
বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আতাউর রহমানের অভিযোগ, বেশ কয়েক দিন থেকেই আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মোহাম্মাদ আলীর লোকজন তার কর্মী ও সমর্থকদের হুমকি দিয়ে আসছিল। শুক্রবার সকালে তার এক আত্মীয় স্থানীয় বাজারে গেলে মোহাম্মাদ আলীর সমর্থকরা তার উপর হামলা চালায় এবং মোটরসাইকেল ভাংচুর করে। খবর পেয়ে আতাউর রহমান সেখানে যাবার পথে তার সাথে থাকা কর্মীদের উপরও হামলা করে মোহাম্মাদ আলীর লোকজন। এর আগে তারা রাজাপুর গ্রামে মজনু মোল্লা নামে আতাউর রহমানের এক সমর্থকের বাড়িতে হামলা চালিয়ে সেখানে ভাংচুর চালায়। এ সময় হামলাকারীদের আঘাতে মজনু মোল্লার মেয়ে আহত হয়।
অপরদিকে মোহাম্মাদ আলী জানান, “বেশ কয়েকদিন আগে আমার কিছু পোষ্টার আতাউর রহমানের কর্মীরা ছিঁড়ে ফেলে। সে সময় যারা আমার পোষ্টার ছিঁড়তে বাধা দিয়েছিল, তাদের উপরই আজ (শুক্রবার) আতাউর রহমানের লোকজন হামলা করেছে। এছাড়া তারা আমার সমর্থক মজিদের বাড়িও ভাংচুর করেছে। আমরা শুধু প্রতিহত করেছি মাত্র।”
আগামী ৩১ মার্চ বেলকুচি উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের আগে এমন ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
সাতক্ষীরায় প্রার্থীর পথসভায় বোমা হামলা
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আবাদের হাটে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী গোলাম মোর্শেদের পথসভায় বোমা হামলা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে দু’টি বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। পরে বোমা বিস্ফোরণে পথসভাটি পন্ড হয়ে যায়। সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি ইনামুল হক বলেন, এ ঘটনায় কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সেনবাগে আওয়ামী লীগ নেতাকে পিটিয়ে জখম
চৌমুহনী (নোয়াখালী) সংবাদদাতা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল হক কোম্পানিকে কতিপয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী বেদম প্রহার করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সেনবাগ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ব্যাপারে সেনবাগ থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
গৌরীপুরে এমপি সমর্থকদের উপর হামলা
গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা জানান, সদ্য সমাপ্ত উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে শুক্রবার আওয়ামী লীগের উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র গ্রুপ স্থানীয় সাংসদ ক্যাপ্টেন (অব) মজিবুর রহমান ফকিরের সমর্থক, নেতা-কর্মীদের উপর হামলা চালিয়েছে। হামলায় ২ জন আহত, ২টি মটরসাইকেল ভাংচুর ও কয়েকজন সিনিয়র নেতাকে লাঞ্ছিত করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ই মার্চ অনুষ্ঠিত গৌরীপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে স্থানীয় সাংসদ ক্যাপ্টেন (অব) মজিবুর রহমান ফকিরের সমর্থকরা তৃণমূল ভোটে পরাজিত আওয়ামী লীগের প্রার্থী শরীফ হাসান অনুর পক্ষ হয়ে কাজ করেন। এ নিয়ে তৃণমূলের ভোটে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আলী আহাম্মদ খান পাঠান সেলভীর সমর্থকদের সাথে এমপি সমর্থকদের বিরোধ সৃষ্টি হয়।
হামলায় গুরুতর আহত রোমনকে (২৮) ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডাঃ ক্যাপ্টেন (অবঃ) মজিবুর রহমান ফকির এমপি বলেন, ম্যুরালের সামনে বসে থাকা অবস্থায় পৌর মেয়র লোকজন নিয়ে আমার সাথে কথা বলতে চাইলে উনাকে আমি ময়মনসিংহ নাছিমা নার্সিং হোম অথবা ঢাকায় এসে কথা বলার জন্য আহ্বান জানিয়ে চলে আসি। পরে আমার লোকজনকে মারধর করে বলে খবর পাই। পৌরসভার মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি এমপি মহোদয়ের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত্ করে বিবদমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে গেলে তিনি তড়িঘড়ি করে গাড়িতে উঠে চলে যান। এ সময় আমার সাথে থাকা লোকজন ও উনার সাথে থাকা নেতা-কর্মীদের মাঝে হাতাহাতি হয়।
গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হামিদুল ইসলাম জানান, পুলিশ হামলার সাথে জড়িতদের ধরার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
