জিয়ার বলে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন রোহিত শর্মা। ওপরের দিকে তাকিয়ে দৌড়াতে দৌড়াতে ক্যাচ তো নিতে পারলেনই না; পরস্পরের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন সোহাগ ও এনামুল।
এই পড়ে যাওয়াটা যেন খুব প্রতীকি ব্যাপার হয়ে গেল বাংলাদেশের জন্য। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথমপর্বে হংকংয়ের বিপক্ষে যে পড়ে যাওয়া শুরু হয়েছিল, গতকালও চললো সেই পতন। আর তাই ভারতের বিপক্ষে ৮ উইকেটের বিশাল এক হারে শেষ হল গতকালের ম্যাচ।
বাংলাদেশের ছুঁড়ে দেয়া ১৩৯ রানের লক্ষ্য যে খুব ছোট ছিল, তা বলা যাবে না। কিন্তু রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির ১০০ রানের জুটিতে ম্লান হয়ে গেল বাংলাদেশের সব লড়াই।
বাংলাদেশের বোলাররা অবশ্য শুরুতেই নাড়িয়ে দিয়েছিলেন ভারতকে। প্রথম দুই ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়েছিলেন মাশরাফি ও সোহাগ। আর তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে আল আমিন ছক্কা হজম করলেও তুলে নেন শিখর ধাওয়ানের উইকেট। আর ওখান থেকেই শুরু হয়ে যায় কোহলি ও রোহিতের অসাধারণ প্রতিরোধ।
দুইজনই ফিফটি করে ভারতকে জয়ের পথে প্রায় পৌঁছেই দেন। এর মধ্যে মাশরাফি অবশ্য আরেকবার আনন্দ করার উপলক্ষ দিয়েছিলেন বাংলাদেশকে। ৫৬ রান করে মাশরাফির বলে ফিরে যান রোহিত শর্মা। ততোক্ষণে অবশ্য ম্যাচের ভাগ্য প্রায় ঠিক হয়ে গেছে।
আরও একটা ঝড় দিয়ে শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের ইনিংস; উইকেট পতনের ঝড়। অবশ্য বিনয় কুমারের প্রথম ওভারেই ১৩ রান তুলে নিয়ে এনামুল ও তামিম উল্টো ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন। কিন্তু ৬ বলের ব্যবধানে তামিম, সামসুর রহমান ও সাকিব আল হাসানের উইকেট হারিয়ে ঝড়ে টলোমলো হয়ে গেল বাংলাদেশ।
তৃতীয় ওভারের দ্বিতীয় তৃতীয় বলে তামিম ও সামসুরকে তুলে নিয়ে হ্যাটট্রিকের সামনেও দাঁড়িয়েছিলেন ভারতীয় স্পিনার রবিচন্দন অশ্বিন। সামসুর রহমান শুভ দলে ফেরার এই সুযোগটাকে একেবারেই কাজে লাগাতে পারলেন না। প্রথম বলেই ফিরে এলেন। এই ভয়ানক ধাক্কাটা সামাল দেন এনামুল হক বিজয় ও মুশফিকুর রহিম। চতুর্থ উইকেটে ৪৬ রানের জুটি করে এই দুইজন একটু স্বস্তি ফেরান। কিন্তু দুই ওভারের ব্যবধানে এই দুইজনও ফিরে যান। এবার বাকীটা হল স্রেফ প্রতিরোধের গল্প। নাসির ও মাহমুদউল্লাহ; দুই আউট অব ফর্ম ব্যাটসম্যান ৪৯ রানের জুটি করে আবার স্বপ্নও দেখাতে শুরু করেছিলেন।
কিন্তু আবারও দুর্ভাগ্য। ইনিংসের শেষ ওভারে কোথায় রানটা বাড়িয়ে নেবে বাংলাদেশ; তা নয়, উল্টো প্রথম দুই বলে দুই উইকেট তুলে নিয়ে এবার হ্যাটট্রিকের সামনে দাড়িয়ে পড়লেন অমিত মিশ্র। ১৬ রান করে নাসির এবং বিনা রানে জিয়া আউট হলেন। মাশরাফি তবু শেষ বলটায় ছক্কা মেরে অন্তত সাহস জোগানোর কাজটা করলেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৩৮/৭ (তামিম ৬, এনামুল ৪৪, সামসুর ০, সাকিব ১, মুশফিক ২৪, নাসির ১৬, মাহমুদউল্লাহ ৩৩*, জিয়া ০, মাশরাফি ৬*; মিশ্র ৩/২৬, অশ্বিন ২/১৫, বিনয় ১/২১, শামি ১/২৯)
ভারত: ১৮.৩ ওভারে ১৪১/২ (রোহিত ৫৬, ধাওয়ান ১, কোহলি ৫৭*, ধোনি ২২*; মাশরাফি ১/২৩, সোহাগ ০/২১, আল আমিন ১/৩৮, সাকিব ০/২৬, জিয়া ০/২৬, মাহমুদউল্লাহ ০/৭)
ফল: ভারত ৮ উইকেটে জয়ী
