কলমিকচার ঝোঁপে ছেয়ে গেছে যশোরের মানুষমারি বিল

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০১৪, ২১:৩৯
বিলটির বিশাল এলাকা জুড়ে দাঁড়িয়ে আছে বড় বড় কলমিকচার ঝোঁপ। এই ঝোঁপের কারণে বিলের এপ্রান্তে দাঁড়ালে ওপ্রান্তের কিছুই দেখা যায় না। কলমিকচার ঝোঁপের কারণে চাষাবাদ বন্ধ হয়ে আছে। বিলটির নাম মানুষমারি। যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার রায়পুর ও বন্দবিলা ইউনিয়নের কিছু অংশ নিয়ে বিস্তৃত এই বিল। ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং দুই কিলোমিটার প্রশস্ত বিলটি ৮ গ্রামকে বেষ্টন করে রেখেছে। দাদপুর গ্রামের শতবর্ষী রহমত গাজী, আজমপুর গ্রামের আতর আলী বললেন মানুষমারি বিলের দুর্গতির কথা। তাদের ভাষ্য এ রকম : বংশ পরম্পরায় তারা জেনে আসছেন ফসলের সমারোহ ছিল বিলটিতে। মাছের প্রাচুর্য বিলপাড়ের জেলে সম্প্রদায়ের জীবিকার একমাত্র উত্স ছিল। কিন্তু অদূরদর্শী মানুষ নিজেদের দুর্গতি নিজেরাই ডেকে আনে। বিলে কলমিকচার ডাল পুতে কৈয়ে জাল, পুটে জাল বেঁধে মাছ ধরতে শুরু করে। সেই ডাল বিল থেকে না উঠানোর ফলে কালে কালে তা কলমিকচা বনের সৃষ্টি করে। এই জঙ্গল বড় বড় ইঁদুর ও সাপের আবাসস্থল হওয়ায় মানুষ বিলে নামতে পারে না। ব্যক্তি উদ্যোগে কলমিকচার এই ঝোঁপ পরিষ্কার করে বিলকে ব্যবহারোপযোগী করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন বিলপাড়ের মানুষ। বিল থেকে পানি বের হবার একমাত্র পথ আজমপুর খাল পলি পড়ে ভরাট হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি বিল থেকে বের হতে পারে না। সামান্য বৃষ্টিতেই ৪-৫ ফুট পানি বৃদ্ধি পায়। আষাঢ়-শ্রাবণে তা ১০-১২ ফুটে দাঁড়ায়। স্থায়ী এই জলাবদ্ধতা আর কলমিকচার জঙ্গল বিলটির সকল সম্ভাবনাকে গ্রাস করে রেখেছে যুগ যুগ। ভদ্রাডাঙ্গা গ্রামের কৃষিজীবী আমজাদ আলী ও মো. মহিউদ্দীন, সেকেন্দারপুরের রবিউল, তেলেধান্যপুরের আলতাফ হোসেন, কলেজ শিক্ষক গোপীনাথ সরকার সকলেই একবাক্যে বললেন, যশোর জেলার অপার সম্ভাবনাময় বিলে পরিণত হতে পারে মানুষমারি। এখানে রয়েছে ৭৫০ বিঘা জমি। স্বাভাবিকভাবে প্রতি বিঘায় ২৫ মণ ধান উত্পাদন হলে প্রতিবছর কৃষকের গোলায় উঠবে ১৮ হাজার ৭৫০ মণ ধান। ধান চাষের পাশাপাশি বিলের পূর্বপাশ উঁচু করে চারদিকে সবজি, একপাশে গরুর খামার ও হাঁস চাষ সম্ভব। বিলের চারপাশে ফলজ, বনজ, ঔষধি গাছ লাগিয়ে পাখির অভয়ারণ্য তৈরি করে জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা যায়। বিল সমস্যার সমাধানে কাজ করছে বিভিন্ন এনজিওর সমন্বয়ে গড়া বিল ক্যাম্পেইন গ্রুপ। এতে সদস্য সচিবের দায়িত্বে আছেন উলাসী সৃজনী সংঘের নির্বাহী পরিচালক খন্দকার আজিজুল হক মনি। তিনি বলেন, মানুষমারি বিলকে এভাবে অনন্তকাল পতিত ফেলে রাখার সুযোগ নেই। বিলকে আবাদযোগ্য করার জন্য যা যা করা দরকার তা সরকারকেই করতে হবে। জাতীয়ভাবে খাদ্যনিরাপত্তায় এই বিল বিশাল ভূমিকা রাখতে সক্ষম। বিলপাড়ের মানুষকে সম্পৃক্ত করে সমাধানের ক্ষেত্রে আমরা সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করব। যশোরের জেলা প্রশাসক মো. মোস্তাফিজুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, বিলের জমি চাষাবাদের আওতায় আনা এবং মাছচাষে উপযোগী করার জন্য সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। এজন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (রাজস্ব) আহ্বায়ক করে ৬ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।