সুগন্ধির কদর কে না জানে। কিন্তু বিশ্বখ্যাত সুগন্ধি হাতের নাগালে পায় না সবাই। আর্থিক সামর্থ্যও থাকে না। কিন্তু ইচ্ছে আছে। এই শ্রেণীর মানুষের জন্যই সস্তা সুগন্ধি বিক্রি জমজমাট এখন। জীবন সংগ্রামে টিকে থাকার তাগিদে এমন সুগন্ধির হাজারো দোকান রয়েছে ঢাকায়। ফুটপাত থেকে শুরু করে বিপণী বিতানে রয়েছে সুগন্ধির দোকান। বিনিময়ে অর্থযোগ হচ্ছে। যারা বড় বিপণী বিতানে যেতে পারেন না, তাদের জন্য ক্ষুদ্র দোকান রয়েছে।
চাকরি না পেয়ে কিংবা চাকরির যোগ্যতা না থাকায় অনেকেই ছোট্ট ব্যবসায় নাম লেখান। দিন শেষে যা লাভ হয়, তাই দিয়ে সংসার চলে যায়। সারাদিন এরা ব্যস্ত বিক্রেতার মন যোগাতে। দেশ, রাজনীতি নিয়ে ভাববার সময় নেই এদের। এরা শুধু নিজ কর্মে ব্যস্ত। আর এভাবে তারা দেশের অর্থনীতিকেও এগিয়ে যেতে সহায়ক ভূমিকা রাখছেন।
এদেরই একজন ফারুক পাটোয়ারি। তিনি বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে আতর আর তসবিহ বিক্রি করেন। বাড়ি চাঁদপুরের হাইমচর। নদী ভাঙনের কবলে পড়ে সব হারান তিনি। ভিটে-বাড়ি মেঘনায় বিলীন হয়ে গেলে ঢাকায় চলে আসেন। প্রথমে তেজগাঁওয়ে একটি কাজ নেন। সেই চাকরি ছেড়ে দেন ৫/৬ বছর পর। শুরু করেন তরি-তরকারির ব্যবসা। রাজধানীর শ্যামবাজারে তরকারি বেচে কিছু টাকা জমাতে সক্ষম হন। এই তার স্বপ্ন জাগে আরো কিছু করার।
স্বপ্ন বাস্তবায়ন হতে দেরি হয়নি। নিজের কিছু জমানো টাকা আর ধার করে শুরু করেন আতর আর তসবিহ বিক্রির ব্যবসা। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আতর কেনে। তসবিহও জপে। বললেন, ‘চকবাজার থেকে আতর, আর তসবিহ কিনে এনে এখানে বিক্রি করি। প্রতিদিন খরচাপাতি বাদ দিয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় হয়।’
তবে তার মত ছোট আয়ের এই স্বউদ্যোগীর মাথায় হাত পড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা কিংবা অন্য কোন গোলযোগ। সামপ্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার কথা স্মরণ করে তিনি বললেন, ওই কয় মাস বড় কষ্টে কেটেছে। হরতাল-অবরোধ আমাগো গরিবের মাথায় বাড়ি মারে। আর কখনো এমন কালো অতীত দেখতে চান না বলে জানালেন তিনি।
দেখতে দেখতে বেলা গড়িয়েছে অনেক। কেটে গেছে ২৮ বসন্ত। বয়সের ভার তাকে থামাতে পারেনি। স্ত্রী আর সাত ছেলে-মেয়ের বড় সংসারের ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করে যাচ্ছেন ফুটপাতের এই ছোট্ট দোকানের আয় থেকে।
