রাজশাহীতে স্বাচিপ নেতাকে মুক্তি না দিলে ফের চিকিত্সক ধর্মঘট

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০১৪, ২২:৫১
রোগী হত্যা মামলার আসামি ক্লিনিক মালিক ও স্বাধীনতা চিকিত্সক পরিষদের (স্বাচিপ) নেতা ডা. শিমুলের নিঃশর্ত মুক্তির ব্যাপারে ‘প্রশাসনের আশ্বাসে’র প্রেক্ষিতে চলমান ধর্মঘট আগামীকাল রবিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। টানা ৩০ ঘণ্টার ধর্মঘটে বিনা চিকিত্সায় এক রোগীর মৃত্যু এবং হাজার হাজার সাধারণ রোগীর ভোগান্তির পর সরকার সমর্থক চিকিত্সকরা শুক্রবার রাতে নগরীর একটি রেস্টুরেন্টে বৈঠকের পর চলমান ধর্মঘট স্থগিতের এই ঘোষণা দেন। স্বাচিপ রাজশাহী শাখার সভাপতি ও ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের প্রধান ডা. শহীদুর রহমান তরফদার সাংবাদিকদের বলেন, ‘শুক্রবার রাতে কারাবন্দী ডা. শামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুলের মুক্তির ব্যাপারে প্রশাসন আমাদের আশ্বাস দিয়েছে। এ জন্য আগামীকাল রবিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলমান চিকিত্সক ধর্মঘট স্থগিত করা হয়েছে। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রবিবার দুপুর ১২টার মধ্যে ডা. শিমুলকে আইনী প্রক্রিয়ায় মুক্তির আশ্বাস দিয়েছেন। ওই সময়ের মধ্যে ডা. শিমূলকে মুক্তি দেয়া না হলে আবারো চিকিত্সক ধর্মঘটের মাধ্যমে গোটা রাজশাহী বিভাগের চিকিত্সা ব্যবস্থা অচল করে দেয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছেন সরকার সমর্থক এই চিকিত্সক নেতা। সাধারণ মানুষের চিকিত্সায় অচলাবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগের কেন্দ ীয় নেতা এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন শুক্রবার সন্ধ্যায় বিএমএ ও স্বাচিপের রাজশাহী শাখার নেতৃবৃন্দকে ডেকে পাঠান। এসময় তিনি সাধারণ রোগীদের জিম্মি এবং আদালতের বিরুদ্ধে আকস্মিক চিকিত্সক ধর্মঘটের মতো কর্মসূচি ঘোষণা করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এরপর বিএমএ ও স্বাচিপ নেতারা ধর্মঘট স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেন। এছাড়া রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকদের সঙ্গে ধর্মঘটের বিষয়ে আলোচনা করেন। ধর্মঘট প্রত্যাহার করলে ডা. শিমুলের মুক্তির বিষয়ে তিনি প্রশাসনের কাছে সুপারিশ করারও প্রতিশ্রুতি দেন বলে জানা গেছে। জামায়াত-শিবিরের হামলায় ভেঙ্গে যাওয়া পায়ের চিকিত্সা করাতে গিয়ে গত ২৯ জানুয়ারি ডা. শিমুলের মালিকানাধীন ডলফিন ক্লিনিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আওয়ামী লীগ সমর্থক ব্যবসায়ী আনোয়ারুল হক টিপুর মৃত্যুর ঘটনায় তার স্ত্রী শারমিন আক্তার নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় তিন চিকিত্সকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় গত বৃহস্পতিবার আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন ডা. শিমুল। শুনানিশেষে আদালত জামিনের আবেদন না-মঞ্জুর করে ডা. শিমূলকে কারাগারে পাঠানো নির্দেশ দেন। এদিকে ৩০ ঘণ্টার চিকিত্সক ধর্মঘটে বৃহস্পতিবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত আশরাফুল ইসলাম (৩৫) রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শুক্রবার দুপুরে বিনা চিকিত্সায় মারা যান বলে দাবি করেছেন তার সহোদর আশরাফুল ইসলাম। দিনভর দূর-দূরান্তের হাজারো রোগী চিকিত্সা না পেয়ে ফিরে যায়। হত্যা মামলায় ক্লিনিক মালিক ও স্বাচিপ নেতা শামিলউদ্দিন আহমেদ শিমুলকে কারাগারের পাঠানোর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টা থেকে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিক সমিতি এবং পরে সরকার সমর্থক রাজশাহীর সকল চিকিত্সক ধর্মঘট শুরু করেন।