সোনারগাঁওয়ে এক সাংবাদিককে কুপিয়ে হত্যা, মামলা

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০১৪, ২২:৫৩
উপজেলার নয়াপুর বেইলর গ্রামে গত শুক্রবার রাতে দেলোয়ার হোসেন (৪৫) নামে এক সাংবাদিককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্ত্রী রেহানা আক্তার। এ ঘটনায় তিনি গতকাল শনিবার দুপুরে সোনারগাঁও থানায় বাদী হয়ে দেলোয়ার হোসেনের তিন ব্যবসায়িক পার্টনার ও অজ্ঞাত ১০-১২ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। নিহত দেলোয়ার দৈনিক সমাচার ও দৈনিক ভোরের পাতা পত্রিকার সোনারগাঁও প্রতিনিধি ছিলেন। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। গতকাল বিকালে ময়না তদন্ত শেষে দেলোয়ারের লাশ তার পৈতৃক বাড়ি দোহারে দাফন করা হয়। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, দেলোয়ার হোসেন সাংবাদিকতার পাশাপাশি এলাকায় জমিজমা ক্রয়-বিক্রয় ও গ্যাস সংযোগেরও ব্যবসা করতেন। গত শুক্রবার বিকালে দেলোয়ার হোসেন মটর সাইকেল নিয়ে কাঁচপুরস্থ তার দেলোয়ার মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপে যান। রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি মদনপুরস্থ একতা মার্কেটের সামনে এসে চা পান করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত দেলোয়ার বাড়ি না ফেরায় রেহানা আক্তার তার স্বামীর মোবাইলে ফোন দেন। কিন্তু দেলোয়ার ফোন রিসিভ করেননি। ৫ মিনিট পর খবর আসে দেলোয়ারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের বড় ছেলে সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির বিবিএ’র ছাত্র আরিফ হোসেন রনি বলেন, ব্যবসার টাকা-পয়সার লেনদেনকে কেন্দ করে বাবার সঙ্গে তার পার্টনারদের বিরোধ চলে আসছিল। এর আগে বাবাকে ফোন করে হত্যারও হুমকি দেয়া হয়। অবশেষে তাকে ধারালো অস্ত্র দিকে কুপিয়ে হত্যা করা হল। আরিফ হোসেন জানান, তাদের পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। যে কোন সময় হামলা হতে পারে। এদিকে সাংবাদিক দেলোয়ার হোসেনকে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন। হত্যাকারীদের শাস্তির দাবিতে আজ রবিবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মদনপুর এলাকায় স্থানীয় সাংবাদিকরা মানববন্ধন করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। সোনারগাঁও থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মো: রিজাউল হক জানান, সাংবাদিক দেলোয়ার হোসেন হত্যাকান্ডের ঘটনায় থানায় মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। মামলার আসামিদের গ্রেফতার করতে পুলিশ বিভিন্নস্থানে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এদিকে এ হত্যাকান্ডের পরপরই নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) জীবন কান্তি সরকার, সোনারগাঁও থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মো: রিজাউল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।