তানজিনা। পুরো নাম তানজিনা ঊর্মি। পড়ছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগে। এই সাহসী মেয়েটার বাড়ি ফেনীর ফুলগাজীতে। বাবা মুক্তিযোদ্ধা মো: নুরুল আবছার। মা উম্মে রাকিবা শিরিন। এমন মেয়ের বাবা-মাকে স্যালুট!
বন্দর নগরীর চশমাহিল। দিনটি ছিল ১৩ মার্চ। শান্ত বিকেল। বন্ধুর বাসায় যাচ্ছিলেন তানজিনা। একটা জটলা চোখে পড়ে তার। দাঁড়ালেন তানজিনা। দেখলেন, বস্তায় মোড়ানো নবজাতক। একজন বললেন, নালায় ফেলে রেখে গেছে কেউ। পরিচ্ছন্নতা কর্মী তুলে এনে রেখেছেন রাস্তায়। মরা বাচ্চা মনে করে চলে যাচ্ছিলেন তিনি। হঠাত্ কেঁদে উঠল শিশুটি। আর পা বাড়াতে পারলেন না তানজিনা। পরম মমতায় কোলে তুলে নিলেন। ছুটলেন হাসপাতালে। সঙ্গে ছিলেন পরিচ্ছন্নতা কর্মী বাবুল। প্রথমে দুই নম্বর গেট পর্যন্ত রিকশায়। সেখান থেকে অটোরিকশা নিয়ে সোজা চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। গাড়িতে বাবুল জানালেন, নালায় কুড়িয়ে পাওয়া সিমেন্টের বস্তায় বাচ্চাটা পান তিনি। কিন্তু সাহসে কুলাচ্ছিল না হাসপাতালে নেয়ার। গাড়িতে থাকতেই বন্ধু ওমর ফারুক ও বর্ষণ সিয়ামকে খবর দিয়েছেন তানজিনা। তারাও হাসপাতালে এসে হাজির। শুরু হলো শিশুটির চিকিত্সা। পাশে নির্ঘুম তানজিনা। মায়ের মমতায় পরিচর্যা করলেন। মেয়ের নাম রাখলেন নিধি। শুধু তানজিনা একা নন, পালা করে থাকলেন ওমর, বর্ষণ, রুমু, ইরফান, রাশেদ ও শুভ। কেউ নিধির জন্য জামা, কেউ কিনে এনেছেন ওষুধ আর পথ্য। হাসপাতালের চিকিত্সক ও সেবিকারাও এই তরুণ দলকে উত্সাহ দিলেন। সবার প্রচেষ্টায় পাঁচদিন পর সুস্থ হলো নিধি।
তানজিনা বলেন, ফেসবুকে আমার ওয়ালে নিধির ছবি আপলোড করার পর প্রায় দুই শতাধিক পরিবার তাকে দত্তক নেয়ার আগ্রহ দেখায়। অনেক যাচাই-বাছাই করে ঢাকার বাসিন্দা নিঃসন্তান এক দম্পতির হাতে তুলে দিয়েছি নিধিকে| তানজিনা আরো বলেন, ‘মানুষ কীভাবে এত পাষাণ হয়! নাড়িছেঁড়া ধনকে কেউ এভাবে ফেলে যায়! নিধির কোনো সমস্যা ছিল না। ওজন ছিল আড়াই কেজির ওপরে। শুধু নালার নোংরা পানি লাগায় ইনফেকশনের ঝুঁকি ছিল। কিন্তু সেটা আর কাবু করতে পারেনি আমাদের নিধিকে। সে এখন ভালো আছে। যখন তাকে বিমানবন্দরে দিতে গেছি, কষ্ট হচ্ছিল। যেন নিজের কাউকে তুলে দিচ্ছি অন্যের হাতে। স্বপ্নের মতো এসে চলে গেল আমাদের মেয়ে নিধি।’
