যেদিন প্রথম জাতীয় সঙ্গীত গাই

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০১৪, ২১:১২
২৬ মার্চ, আমাদের জীবনে এক বিশেষ তাত্পর্য বহন করে বলাই বাহুল্য। তবে ২০১৪ সালের ২৬ মার্চ বাঙালির জীবনে আর এক ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে। লাখো কণ্ঠে সোনার বাংলা গাওয়ার মধ্য দিয়ে আমরা এবছর রের্কড করেছি। এই অর্জনকে বিনম্র চিত্তে স্মরণ করে আমরা তিন শ্রদ্ধাভাজন নারীর কাছে তাদের প্রথম দিন জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার কথা জানতে চাই। সেই কথা নিয়েই এই প্রতিবেদন— রাবেয়া বেবী মুখে সোনার বাংলা, চোখে পানি —ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিনী ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের আনন্দে আমরা সবাই একসাথে ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’ গাইতে গাইতে রাস্তায় নেমে আসি। বিজয়ের আনন্দে সবাই চিত্কার করে গাইতে থাকি। আমাদের চোখে তখন বিজয় অশ্রু ছিল। আমার মনে আছে অনেক নারী রাস্তায় ছিল। নারীরা এমন করে তখন রাস্তায় না বের হলেও বিজয়ের সাথে অত্যাচারের বিরুদ্ধে জয়কে গর্বভরে স্মরণ আর শত্রুদের ধিক্কার জানাতে প্রতিবাদের কণ্ঠ নিয়ে তারা গান গায়। আমি তখন খুলনা শহরে ছিলাম এমন সময় অনেক মানুষ সাংবাদিকদের কাছে নিজেদের অনুভূতির কথা জানান। তবে আমার মধ্যে দ্বিধা ছিল বলে আমি সেদিন কোন কথা বলিনি। পরের জানুয়ারিতে স্বামীর অফিসিয়াল এক অনুষ্ঠানে আমরা স্বাধীনতার পর আবার আমার সোনার বাংলা গাই। নিজের অজান্তেই গেয়ে উঠি —লায়লা হাসান আমরা স্বাধীন বাংলা বেতারে কাজ করতাম। ভারতেই ছিলাম ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। যখন জানতে পারলাম তখন নিজের অজান্তেই মুখে চলে এলো আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি। আমার মনে হয় পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে গাওয়া হয় আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি। এই গানটি আমাদের কাছে এতটাই প্রাণের হয়ে গিয়েছিল যে স্বাধীনতার কথা শুনেই গাইতে শুরু করি। স্বাধীনতার পর আর বেশি দিন ভারতে থাকলাম না। দেশে ফিরে যে কত শতবার গেয়েছি এই গান। অনুভব করেছি স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগকারীর নারী-পুরুষের অবদান। হাজার হাজারবার গেয়েছিলাম —শাহীন সামাদ বাংলাদেশ মুক্তি সংগ্রামী শিল্পী হিসেবে কত হাজারবার যে আমি গেয়েছি আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি বলতে পারবো না। যখন জানতে পারলাম ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হয়েছে, তখন ভারতে বাংলাদেশ মিশনের সামনে সবাই জড়ো হয়ে সমস্বরে গেয়েছি আমরা সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি। সে এক অন্য আবহ, বলে বোঝানো যাবে না। দেশে ফিরেও গেয়েছি। শুধু জাতীয় সঙ্গীত নয় আমাদের মুক্তি সংগ্রামের জন্য আমরা যে গানগুলো গেয়ে মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছিলাম সেগুলো আবার গাইতে হল।