ক্রিকেট এবং আমরা

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০১৪, ২১:১২
সহজে টিকেট পাওয়ার ব্যবস্থা করলে নারীদের অংশগ্রহণ আরো বাড়বে। বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত সব খেলাতেই নারী দর্শকের অংশগ্রহণ থাকে অনেক। তবে এবার টি-২০ বিশ্বকাপে নারীদের স্বতঃস্ফূর্ততা ও উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি। দিনে দিনে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে টি-২০ ক্রিকেট মানেই উত্তেজনায় ঠাসা ক্রিকেট ম্যাচ। মার মার কাট কাট এই ম্যাচে দর্শকের কমতি হয় না। আর বিশ্বকাপ হলেতো কথাই নেই। বাংলাদেশেও এর ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে না। প্রতিটি ম্যাচেই দর্শকের উপস্থিতি ভালো। তবে এবারের টি-২০ বিশ্বকাপের দর্শক সারীতে নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিয়ে বাড়তি করে বলতে হয়। প্রতিটি খেলায় অসংখ্য নারী আসছেন, গ্যালারি মাতিয়ে রাখছেন। ক্রিকেটের হাসি, আনন্দ আর বেদনায় অংশ নিচ্ছেন তারা। তাদের কান্না আর বেদনায় টিভির দর্শকদেরও বেদনাতুর করে তুলছে। একটা সময় ছিল যখন আমাদের দেশে খেলা হলে নারীরা মাঠে আসতেন, তবে সংখ্যা ছিল খুব কম। ধীরে ধীরে দিন বদলাতে শুরু করেছে। নারীরা মাঠে আসতে শুরু করেছেন। মাঠের খেলায় যেমন নারীরা এগিয়ে যাচ্ছেন দর্শক সারীতেও বাড়ছে নারীদের ভিড়। বাংলাদেশ বনাম নেপালের খেলা দেখতে আসা কলেজ ছাত্রী তাসফিয়া রহমানের সাথে কথা হলো এ নিয়ে। তাসফিয়া জানান, মাঠে এসে খেলা দেখার ইচ্ছা তার অনেকদিনের। তবে পরিবারের অনুমতি ছিল না। অবশেষে বড় ভাই ও ভাবীর সাথে খেলা দেখতে এসেছেন। প্রতি বলে বলে দর্শকদের চিত্কার আর আনন্দের ঢেউ তাসফিয়াকে দারুণ রোমাঞ্চিত করেছে। এ আনন্দ ভুলবার নয়। বার বার এ আনন্দ পাওয়ার ইচ্ছা তাসফিয়ার। নানা ঢংয়ের আল্পনা আর বাংলাদেশের জার্সি গায়ে বেসরকারি একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন মেমী ইসলাম। তিনি তার দুই কলিগ ও তিন বন্ধুর সঙ্গে মাঠে এসেছেন খেলা দেখতে। মাঠে এসে খেলা দেখার অনুভূতি জানতে চাওয়ার সাথে সাথেই তার চেহারায় ফুঠে উঠে আত্মতৃপ্তির হাসি। স্বতঃস্ফূর্তভাবেই বলে গেলেন পরের কথাগুলো। সবাই একসাথে খেলা দেখার আনন্দই আলাদা। তাছাড়া মাঠে কাছ থেকে খেলোয়াড়দের দেখা ও তাদের খেলা উপভোগ করার আনন্দ সত্যিই অন্যরকম। মাঠে না আসলে এ আনন্দ পাওয়া সম্ভব না। এবারই প্রথম তিনি মাঠে এসে খেলা দেখেছেন। ইচ্ছা থাকলেও মাঠে এসে খেলা দেখার সুযোগ হয়ে উঠছিলো না। তবে এবার খেলা দেখতে এসে যে অনুপ্রেরণা পেয়েছেন তাতে পরবর্তীতে খুব সমস্যা না থাকলে মাঠে এসেই খেলা দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। মাঠে খেলা দেখতে এসেছেন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রীরা। এসেছেন চাকরিজীবী ও গৃহিণীরা। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তাবাসসুম জান্নাত খেলা দেখতে আসার অনুভূতি জানিয়ে বলেন, মাঠে খেলা দেখা আর টিভির সামনে খেলা দেখার পার্থক্য অনেক। মাঠে আসলে সরাসরি খেলোয়াড়দের দেখা যায়। গ্যালারিতে আনন্দের ঢেউয়ে উদ্বেলিত হওয়া যায়। মাঠে দর্শকদের চিত্কার আর হর্ষ ধ্বনি হূদয়কে আনন্দের মিছিয়ে নিয়ে যায়। এ আনন্দ ঘরে বসে পাওয়া সম্ভব নয়। টিকেট পেতে নানা সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সহজে টিকেট পাওয়ার ব্যবস্থা করলে নারীদের অংশগ্রহণ আরো বাড়বে। বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত সব খেলাতেই নারী দর্শকের অংশগ্রহণ থাকে অনেক। তবে এবার টি-২০ বিশ্বকাপে নারীদের স্বতঃস্ফূর্ততা ও উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি। দিনে দিনে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে।