এবার ভারতের কাছে হারলো বাংলাদেশের মেয়েরা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এ নিয়ে টানা তৃতীয় হারের স্বাদ নিল সালমা খাতুনের দল। অভিজ্ঞ ওপেনার হারমানপ্রিত কাউরের (৭৭) নৈপুণ্যে ভারত গতকাল রবিবার সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়ামে নিজেদের প্রথম জয় পেল স্বাগতিকদের ৭৯ রানে হারিয়ে।
টসে জিতে ব্যাটিং নেয়ার পর ভারত উদ্বোধনী জুটির তোলা ১০৭ রানে পাঁচ উইকেটে ১৫১ রান করে। জবাবে বাংলাদেশ আবারো ব্যাটিং ব্যর্থতায় ভুগে আট উইকেটে ৭২ রানে গুটিয়ে যায়। আগের দুই ম্যাচে ৭৯ ও ৫৮ রান করেছিল স্বাগতিক ব্যাটসম্যানরা। সে দুটি খেলায় যথাক্রমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের কাছে হেরেছিল আয়োজক দেশের মেয়েরা।
উদ্বোধনী জুটিতে হারমানপ্রিত ও অধিনায়ক মিথালি রাজ ১৫ ওভার পর্যন্ত একত্রে খেলে ১০৭ রান তোলার পর শেষ পর্যন্ত এই জুটি ভাঙ্গতে সক্ষম হন খাদিজাতুল কুবরা। মিথালি স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়ার আগে পাঁচ বাউন্ডারির মারে করেন ৪১ রান। অপর প্রান্তে অবিচল থেকে হারমানপ্রিত ৬৪ বলে ১২টি বাউন্ডারি ও একটি ওভারে বাউন্ডারিসহ ৭৭ রান করে আউট হন। ৪৭টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা হারমানপ্রিতের এটি দ্বিতীয় অর্ধ শতক। তবে ওয়ানডেতে রয়েছে তার দুটি সেঞ্চুরি ও সাতটি হাফ সেঞ্চুরি। ভারতের হয়ে ৩৯টি ওয়ানডে খেলেছেন তিনি।
বাংলাদেশি পেসার জাহানারা আলম প্রথম স্পেলে দুই ওভারে ১৮ রান দেবার পর দ্বিতীয় স্পেলে এসে প্রথম বলেই হারমানপ্রিতকে বোল্ড করেন। তার আগেই দলকে ভাল অবস্থায় রেখে যান এই অভিজ্ঞ ভারতীয়। পড়শি দেশের দলটি শেষ পাঁচ ওভারে ৪১ রান তোলে।
রুমানা ৩৩ রানে নেন দুই উইকেট। সালমা, জাহানারা ও কুবরা পান একটি করে। স্বাগতিক অধিনায়ক চার ওভারে মাত্র ১১ রান দিয়ে উইকেটটি দখল করেন।
ভারতের চাইতে অভিজ্ঞতায় পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান আসে অধিনায়কের ব্যাট থেকে। সালমা বাংলাদেশের পক্ষে টুর্নামেন্টে একমাত্র ওভার বাউন্ডারি হাঁকান। তিনি এদিন করেন ১৮ বলে ১৯ রান।
বাংলাদেশের মেয়েদের অবস্থা বোঝা যায় একটি পরিসংখ্যান থেকে। এ নিয়ে ২০টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেললেও দলটি কেবল চারবার ১০০ পার হতে পেরেছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ হলো ১১৩। সিলেটের উইকেট স্পিন সহায়ক হলেও কাল ভারতীয় পেসাররাই দাপট দেখান। এর মধ্যে অভিজ্ঞ বোলার ঝুলান গোস্মামী ও পেসার শুভলক্ষি শর্মা তিনটি করে উইকেট নেন। এছাড়া লেগব্রেক বোলার পুনম যাদব নিয়েছেন দুটি উইকেট।
প্রতিটি ম্যাচেই স্বাগতিকদের কেন এই ব্যাটিং ব্যর্থতা, তারও কোন জবাব নেই। বাংলাদেশের সহ-অধিনায়ক জাহানারা আলম শুধু জানান প্রতিটি ম্যাচের আগে গেম প্ল্যান থাকে, কিন্তু কোনদিনই তারা পরিকল্পনামতো খেলতে পারছেন না। জাহানারা তাই খেলা শেষে অকপটেই স্বীকার করেন, ‘কিছুই বলার নেই। ভারতের সাথে টুর্নামেন্টে আগে কক্সবাজারে দুটি ম্যাচেই পরাজিত হয়েছি। এর আগেও দেখেছি তারা সবদিক দিয়েই অভিজ্ঞ। আমাদের কোনভাবেই তাদের সাথে তুলনা করা চলে না। আমাদের ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে তাদের বোলিং ছিল অনেক বেশি শক্তিশালী। শক্তির কোন ঘাটতি এখানে আছে বলে আমরা মনে করি না। অনুশীলনে তো আমরা ভালই করি। কিন্তু আমার মনে হয় কৌশলগত কোন সমস্যা আমাদের রয়েছে। সেগুলো কাটিয়ে ওঠাই এখন মূল লক্ষ্য।’
সালমা বাহিনী ১ এপ্রিল গ্রুপের শেষ খেলায় শ্রীলংকার মুখোমুখি হবে।
