টাঙ্গাইল-৮ আসনের উপ-নির্বাচন

ফলাফল স্থগিত ১৯ ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা বরখাস্ত

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০১৪, ২২:৫৯
একটি কেন্দ্রে ভোট বাতিল হওয়ায় টাঙ্গাইল-৮ (সখিপুর-বাসাইল) আসনের উপনির্বাচনের ফলাফল স্থগিত করা হয়েছে। সেইসাথে অনিয়মের অভিযোগে সখিপুর উপজেলার ঘেচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারসহ ১৯ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এদের চাকরি থেকেও দুই মাসের জন্য বরখাস্তের আদেশ দেয়া হয়েছে। নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন ১৯৯১ এর ৫ ধারার ৩ উপ-ধারা অনুযায়ী উপ-নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা সৈয়দ মো. খুরশিদ আনোয়ার তাদের বিরুদ্ধে এই আদেশ দেন। বরখাস্তকৃতরা হলেন প্রিজাইডিং অফিসার কুতুবপুর রওশন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শুকুর মাহমুদ মিয়া, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এস এ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মাহিনুর রহমান, মো. আব্দুল জলিল মিয়া, জমসের নগর ভিএস আই উচ্চ বিদ্যালয়ের আব্দুস ছামাদ, মো. আজহার আলী, গোপীনাথ বসু ও প্রতিমা বংকী একতা উচ্চ বিদ্যালয়ের মোজাম্মেল হক, পোলিং অফিসার বেতুয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক লিলি আক্তার, আব্দুর রহমান, সেলিনা আক্তার, খাইরুন্নাহার, মীর লাভলী আক্তার, কাংগালীছের দক্ষিণপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নরেশ চন্দ্র সরকার, পোলক চন্দ্র সরকার, সরকার সুমন কুমার, বেলতলী কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক খোজেদা আক্তার, আরজিনা আক্তার , বড়চওনা কুতুবপুর কলেজের অফিস সহকারী মো. লুত্ফর রহমান ও আবুল কালাম। বাতিল কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণের দাবি একটি কেন্দ্র বাতিল করে ওই কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদন জানিয়েছেন রিটার্নিং অফিসার। গতকাল রবিবার দুপুরে রিটার্নিং অফিসার ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের নির্বাচন কর্মকর্তা খুরশীদ আনোয়ার এ বিষয়ে তার অফিসে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি শনিবার রাতেই এই নির্বাচনের ঘোষিত ফলাফল স্থগিত করা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানান। অন্যদিকে সহকারী রিটার্নিং অফিসার হাবিবা আখতার সরকারি দলের লোকজনের হুমকির মুখে প্রাণের ভয়ে এই ফলাফল ঘোষণা করেছিলেন উল্লেখ করে টাঙ্গাইল মডেল থানায় একটি জিডি করেছেন। গত শনিবার এই আসনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। চাপের মুখে ফল ঘোষণায় বাধ্য করার অভিযোগ রিটার্নিং অফিসার জানান, শনিবার এই আসনের ১১৭টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হয়। এরমধ্যে সখিপুরের ঘেচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে বেলা আড়াইটার দিকে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। ১১৬টি কেন্দ্রের ফলাফলে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অনুপম শাহজাহান জয় (নৌকা) পান ৭৩ হাজার ৫৬৫ ভোট এবং একই দলের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল মালেক মিঞা (হরিণ) পান ৭১ হাজার ৩২৯ ভোট। এতে অনুপম দুই হাজার ২৩৬ ভোটে এগিয়ে থাকেন। অপরদিকে স্থগিত কেন্দ্রের ভোট সংখ্যা দুই হাজার ৭০১। পরে সরকারদলীয় লোকজনের চাপের মুখে সখিপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হাবিবা আখতার রাত ১০টার দিকে স্থগিত কেন্দ্রের প্রদত্ত ভোট যোগ করে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করতে বাধ্য হন। রিটার্নিং অফিসার খুরশীদ আনোয়ার জানান, সহকারী রিটার্নিং অফিসার হাবিবা আখতারের এই ফলাফল ঘোষণা করার এখতিয়ার নেই। তাই অনিয়ম হওয়া কেন্দ্রটি বাতিল করার পাশাপাশি নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা স্থগিত করা হলো। একই সাথে বাতিল কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনে পুনরায় তারিখ নির্ধারণের আবেদন জানানো হয়েছে।