সাভারে স্থানান্তর না করলে বন্ধ হবে ট্যানারি কারখানা

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০১৪, ২২:৫৯
রাজধানী থেকে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানাগুলো (ট্যানারি) অবিলম্বে সাভারের ট্যানারি পল্লীতে স্থানান্তর করার আহবান জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। তিনি বলেছেন, সাভারে না গেলে সংশ্লিষ্ট কারখানা বন্ধ করে দেয়া হবে। সেই সঙ্গে ট্যানারি পল্লী থেকে তাদের নামে প্লট বরাদ্দও বাতিল করা হবে। ফলে কেউ কারখানা স্থানান্তর না করলে দুই কূলই হারাতে হবে। গতকাল রবিবার মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) আয়োজিত তিন মন্ত্রীর সঙ্গে উদ্যোক্তাদের বৈঠকে শিল্পমন্ত্রী এই ঘোষণা দেন। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি অংশ নেন। এমসিসিআই সভাপতি রোকেয়া আফজাল রহমানের সভাপতিত্বে চেম্বার ভবনে অনুিষ্ঠত ওই বৈঠকে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। শিল্পমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগ প্রসারের জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে শিল্পের জন্য যথোপযুক্ত জমিরও যোগান দেয়া হবে। তবে জমি বরাদ্দ নেয়ার পর তা কাজে লাগাতে হবে। জমি ফেলে রাখা চলবে না। ট্যানারি শিল্প প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কারখানাগুলো স্থানান্তর না করা হলে সরকার কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে। জমি,গ্যাস ও বিদ্যুতের নিশ্চয়তা চান উদ্যোক্তারা এদিকে বৈঠকে দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে উপযুক্ত জমি ও গ্যাস-বিদ্যুতের নিশ্চয়তা চেয়েছেন উদ্যোক্তারা। এর সঙ্গে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষারও দাবি জানিয়েছেন তারা। উদ্যোক্তারা বলেন, কর্মসংস্থান বাড়াতে হলে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। আর এজন্য গ্যাস-বিদ্যুত্ ও অবকাঠামোসহ জমি দিতে হবে। সরকারের পরিকল্পিত অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে হবে। জেলায় জেলায় শিল্প গঠনের জন্য শিল্প জোন তৈরি করতে হবে। তারা বলেন, শিল্প অঞ্চল ভিত্তিতে বিনিয়োগ হলে কৃষি জমির উপরও চাপ পড়বে না, শিল্প খাতও এগিয়ে যাবে। ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ বিনিয়োগের স্বার্থে সুদের হার নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখার দাবি জানিয়ে বলেন, ব্যাংকগুলোতে অলস টাকা থাকলেও সুদের হার কমেনি। এ বিষয়ে সরকারের লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুত্ সঙ্কট অতিক্রম করতে আরও দু’য়েক বছর লাগবে। আগামীতে প্রায় ১৯ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন করা হবে। তবে কুইক রেন্টাল থেকে আমরা সহসাই বের হতে পারছি না। ব্যাংকিং সেক্টরে বড় জালিয়াতির বিষয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে বড় ধরনের জালিয়াতি হয়েছে। এজন্য ব্যাংক কর্মকর্তা ও পরিচালকরা দায়ী। চুরিটা এমন পর্যায়ে হয়েছে যে, আড়াই থেকে তিন হাজার কোটি টাকার কোনো হিসাব নেই। তবে জালিয়াতির ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সংশ্লিষ্টরা সতর্ক হয়েছে। উচ্চ সুদের হার বিষয়ে উদ্যোক্তাদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০০৪ সাল থেকেই সরকার সুদের হার নিয়ন্ত্রণ করে না। ব্যাংকগুলো চাহিদা ও যোগানের ভিত্তিতে তা নির্ধারণ করে। চা বাগানের জমি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মাধ্যমে দখল করে নেয়ার নিন্দা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আসলে ভূমিদস্যুতা আমাদের চরিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্ষমতাশালীরাই ভূমিদস্যু হয়ে উঠছে। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি বলেন, অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকা প্রয়োজন। বর্তমানে সেটা আছে। তবে কেউ কেউ বিশ্বে বাংলাদেশের ইমেজ নষ্ট করতে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। গার্মেন্ট শিল্পে এখনও খারাপ পরিস্থিতি রয়েছে বলে দূতাবাসে গিয়ে নালিশ করা হয়েছে। জিএসপি প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জিএসপি’র জন্য যেসব পূর্বশর্ত রয়েছে সেগুলো পূরণ করা হয়েছে। শিগগির এ বিষয়ে চিঠি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে অবহিত করা হবে। শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, বিসিকে কি পরিমাণ জমি অব্যবহূত পড়ে আছে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। গ্যাস বিদ্যুতের বিষয়ে তিনি বলেন, বিনিয়োগের সাথে সাথে গ্যাস-বিদ্যুত্ দেয়া সম্ভব নয়। বরং কিছুটা সময় লাগবে। বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন, সাবেক সভাপতি একে আজাদ, এমসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি সৈয়দ মনজুর এলাহি, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, ফরেন চেম্বারের সভাপতি রুপালি চৌধুরী, বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদি, চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম, হিমায়িত খাদ্য রপ্তানিকারক সংগঠনের সভাপতি আমান উল্লাহ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।