রাজশাহীতে হত্যা মামলায় কারাবন্দি চিকিত্সক শামিউল উদ্দিন আহম্মেদ শিমুল অবশেষে জামিন পেয়েছেন। সরকারি দলের প্রভাবশালী নেতা ও প্রশাসনের ‘আশ্বাসের’ পর গতকাল রবিবার রাজশাহীর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে তিনি জামিন লাভ করেন। এরপর বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি রাজশাহী কেন্দ ীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান। জেলার ইসমাইল হোসেন তার কারামুক্ত হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জানুয়ারি রাজশাহীর ডলফিন ক্লিনিকে ভাঙ্গা পায়ের চিকিত্সা করাতে এসে ব্যবসায়ী আনোয়ারুল হককে চেতনানাশক দেয়ার পর তিনি মারা যান। ওই ঘটনায় আনোয়ারুলের স্ত্রী শারমিন আক্তার ক্লিনিক মালিক ও স্বাচিপ নেতা শিমুলসহ তিনজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। গত ১ মার্চ এই মামলার আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশ করে পুলিশ আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। গত বৃহস্পতিবার আদালত প্রতিবেদনটি গ্রহণ না করে পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেন। সেই সঙ্গে শিমুলের জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। প্রতিবাদে ওইদিন বিকাল ৪টা থেকে কোনরূপ পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দেয়। এর সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে সরকার সমর্থক চিকিত্সকদের সংগঠন স্বাচিপ ও বিএমএ নেতৃবৃন্দ। এদিকে শুক্রবার চিকিত্সকদের ধর্মঘটের কারণে চিকিত্সা না পেয়ে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠে। এরপর রাতে সরকারি দলের প্রভাবশালী নেতা ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে রবিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ধর্মঘট স্থগিত করা হয়।
