বাইরে থেকে কারো কিছু বলতে হল না। মুশফিক নিজেই বললেন, এর চেয়ে খারাপ আর কিছুই হতে পারে না!
আসলেই তাই। হংকংয়ের বিপক্ষে পরাজয়ে যে ‘খারাপ’-এর শুরু, তাকে যেন ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। ন্যূনতম লড়াই নেই, ন্যূনতম প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই; প্রতি ম্যাচে অসহায় আত্মসমর্পণ। এই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে গতকাল পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ হারলো ৫০ রানের ব্যবধানে। পাকি-স্তানের ছুঁড়ে দেয়া ১৯১ রানের লক্ষ্যে ছুটতে গিয়ে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৪০ রানে আটকে গেল বাংলাদেশের ইনিংস।
রানের হিসেবে বাংলাদেশের বেশ উন্নতি হলেও, ম্যাচের হিসাবে কিছুই ছিল না। কারণ বাংলাদেশকে নামতে হয়েছিল ১৯০ রানের পাহাড় মাথায় নিয়ে। বিশাল লক্ষ্যে ছুটতে গিয়ে শুরুতেই যথারীতি বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ।
শুরুর বিপর্যয় এড়ানোর জন্য সাকিব আল হাসানকে আবারো তিন নম্বরে পাঠানো হয়েছিল গতকাল। সাকিব ৩৮ রানের ইনিংস খেলায় এদিন তিন নম্বরে সংকট না হলেও দুই ওপেনার তামিম ইকবাল এবং একমাত্র ধারাবাহিক এনামুল হক বিজয় ফিরে এলেন দলীয় ৩৬ রানের মধ্যে। দলীয় ৪৭ রানের মধ্যে ফিরে গেলেন ৪ ও ৫ নম্বরে নামা সামসুর রহমান শুভ ও মুশফিকুর রহিম। এই চারজন যথাক্রমে রান করলেন ১৬, ১৮, ৪ ও ২। এরপর নিশ্চয়ই আর খুব বেশি কিছু আশা করার বাকি থাকে না!
ওখান থেকে নাসিরকে নিয়ে ৪৪ রানের একটু জুটি করে একটু স্বস্তি ফেরালেন সাকিব। কিন্তু ৩২ বলে ২টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩৮ রান করে সাকিবও ফিরে আসেন। নাসিরকে অনেকদিন পর একটু সাবলীল বলে মনে হলেও ২৩ রান করে তিনিও ফেরেন। পরপরই আরও একবার কোনো রান না করেই আউট জিয়াউর রহমান। এরপর রিয়াদ ও মাশরাফি দুটি ১৭ রানের ইনিংস খেলে যা করলেন, সেটা সান্ত্বনা ছাড়া আর কিছুই নয়।
এর আগে পাকিস্তান বিশাল এই পুঁজি গড়ে তোলে সে দেশের প্রথম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরিয়ান আহমেদ শেহজাদের অপরাজিত ১১১ রানের ইনিংসকে কেন্দ করে। শেহজাদ ছাড়া পাকিস্তানের আর কেউই সেভাবে রুখে দাঁড়াতে পারেননি। ইনফর্ম উমর আকমল ও কামরান আকমল এবং মোহাম্মদ হাফিজ দুই অংকে পৌঁছানোর আগেই ফিরে আসেন। তারপরও শেহজাদকে না থামানোর মাশুলটা দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: পাকিস্তান: ২০ ওভারে ১৯০/৫ (শেহজাদ ১১১*, মালিক ২৬, আফ্রিদি ২২; মাশরাফি ০/৬৩, আল আমিন ১/৩৭, সাকিব ১/২১, রাজ্জাক ২/২০, মাহমুদউল্লাহ ১/২৪, জিয়া ০/২২)
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৪০/৭ (তামিম ১৬, এনামুল ১৮, সাকিব ৩৮, শুভ ৪, মুশফিক ২, নাসির ২৩, রিয়াদ ১৭*, জিয়া ০, মাশরাফি ১৭*; আজমল ২/২০, গুল ৩/৩০, জুলফিকার ১/২৪, আফ্রিদি ১/২১)।
ফল: পাকিস্তান ৫০ রানে জয়ী
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: আহমেদ শেহজাদ
