মালয়েশিয়ায় ছুটছে নিখোঁজ বিমানের ক্ষুব্ধ স্বজনরা

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০১৪, ২৩:০৭
মালয়েশিয়ার নিখোঁজ বিমানের চীনা যাত্রীদের কমপক্ষে ৩০ জন ক্ষুব্ধ স্বজন গতাকল রবিবার কুয়ালালামপুর গেছেন। তাদের প্রিয়জনদের ভাগ্যে কি ঘটেছে তা জানতে মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষকে চাপ দিতেই তারা সেখানে গেছেন বলে জানা গেছে। দ্য স্টারের অনলাইনে বলা হয়েছে, শোকার্ত এসব আত্মীয়-স্বজনের অভিযোগ, মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ নিখোঁজ বিমান এমএইচ৩৭০ সম্পর্কে তথ্য গোপন করছে। তারা প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক ও পরিবহন মন্ত্রী হিশামউদ্দিন হোসেনের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু নাজিবের একজন সহকারী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এসব স্বজনের বৈঠকের কোন সময়সূচি নির্ধারিত হয়নি। মালয়েশীয় এয়ারলাইন্সের একজন মহিলা মুখপাত্র এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। মালয়েশিয়ান চাইনিজ এসোসিয়েশনের এক কর্মকর্তা বলেন, শোকার্ত পরিবারগুলোর ২৯ সদস্য কুয়ালালামপুর এসে পৌঁছেছেন। এর আগে এক বিমান কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, ৩৯ জন এখানে এসেছেন। খবর এএফপির। এর আগে বিমান নিখোঁজের অল্প কয়েকদিন পরেই চীন থেকে বেশ কয়েকজন স্বজন কুয়ালালামপুর গিয়েছিলেন। তারা এখনো সেখানে অবস্থান করছেন। বিমান সম্পর্কে তথ্য জানাতে কুয়ালালামপুরের যে হোটেল থেকে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন করা হয় সেই হোটেলের বাইরে স্বজনরা অবস্থান নেন। এ সময় তারা ‘এমএইচ৩৭০ এর জন্য প্রার্থনা’ লেখা একটি টি-শার্ট পরা ছিলেন। তাদের হাতে একটি ব্যানারও ছিল। এতে লেখা ছিল, ‘আমাদের সত্য জানাও। আমাদের প্রিয়জনদের ফিরিয়ে দাও।’ গত সপ্তাহে দেশটির নাজিব রাজাক স্যাটেলাইট উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে ঘোষণা দিয়েছিলেন, ২৩৯ আরোহী নিয়ে নিখোঁজ বিমানটি ভারত মহাসাগরে বিধ্বস্ত হয়েছে। কিন্তু অনেক স্বজনই যথাযথভাবে বিষয়টি প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এ কথা মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। ফলাফল শুন্য:মালয়েশিয়ার ভাগ্যাহত এমএইচ৩৭০ ফ্লাইটির ধ্বংসাবশেষ সন্ধানে নতুন এলাকায় তল্লাশি তত্পরতায় গতকালও তাত্ক্ষণিক কোনো ফল মেলেনি। এদিকে অস্ট্রেলিয়া ভারত মহাসাগরে অনুসন্ধান অভিযান সমন্বয় করতে সহায়তা করার জন্য দেশের সামরিক বাহিনীর সাবেক প্রধানকে নিয়োগ করেছে। বিমানের মাধ্যমে সনাক্ত করার পর নতুন অনুসন্ধান এলাকা থেকে উদ্ধারকৃত বস্তুগুলো মালয়েশিয়া এয়ার লাইন্সের নিখোঁজ বোয়িং ৭৭৭-এর ধ্বংসাবশেষ নয় বলে প্রমাণিত হয়েছে বলে জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ান মেরিটাইম সেফটি অথরিটি (আমসা)। আমসার মুখপাত্র এএফপিকে জানান, এগুলো মাছ ধরার সরঞ্জাম বলে মনে হচ্ছে, স্রেফ সাগরপৃষ্ঠে ভাসমান জঞ্জাল। পার্থের পশ্চিমে এক হাজার ৮শ’ ৫০ কিলোমিটার এলাকায় অনুসন্ধান পুনরায় অভিযান শুরু করেছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটি জানয়েছে, অস্ট্রেলিয়া, চীন, মালয়েশিয়া, জাপান, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র এই সাত দেশের সামরিক বাহিনীর সমন্বয়ে পরিচালিত অনুসন্ধান অভিযানে সহায়তায় একটি নতুন ইউনিটের নেতৃত্ব দেয়ার জন্য প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাবেক প্রধান অ্যাঙ্গাস হিউসটনকে নিয়োগ করা হয়েছে।