গল্প নয় সত্যি

জোম্বি তাড়ানোর সুগন্ধী!

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০১৪, ১৯:৫৯
কুিসত দর্শন সব মৃত কিংবা অর্ধ-মৃত মানুষ এগিয়ে আসছে জীবিতদের দিকে। কখনও তাদের ওপর নৃশংস আক্রমণ করে হত্যা করছে, আবার কখনও বা মাইলের পর মাইল তাড়া করে ফিরছে জীবিতদের সন্ধানে। হলিউডি চলচ্চিত্রে এ ধরনের জোম্বি আক্রমনের দৃশ্য হয়তো অনেকেই দেখেছেন। যদিও রুপালি পর্দার বাইরে বাস্তবে এদের অস্তিত্ব নেই, তবু কল্পকাহিনী কিংবা ভুডু চর্চায় ও প্রাচীণ লোকগাঁথা জোম্বিদের নানা গল্প খুঁজে পাওয়া যায়। তবে মজার বিষয় হলো, গল্পগাঁথা আর চলচ্চিত্রের এই জনপ্রিয় চরিত্রটিকেই এবার নিজেদের গবেষণাকে জনপ্রিয় করে তোলার জন্য বেছে নিয়েছেন আমেরিকার একদল গবেষক। আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটির এই গবেষকরা জানিয়েছেন যে, তারা সম্প্রতি এমন একটি পারফিউম বা সুগন্ধী তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন যেটি মানুষের কাছ থেকে জোম্বিদের দূরে রাখতে সাহায্য করবে। অউ ডি ডেথ নামের এই সুগন্ধীটিতে ব্যবহার করা হয়েছে পুটারসিন, ক্যাডাভেরিন ও মেথানেথিওলের মতো উপাদান যার সম্মিলিত ঘ্রাণ অনেকটা পঁচা ডিম ও সিদ্ধ বাঁধাকপির মতো। এদিকে এই সুগন্ধীটি কীভাবে জোম্বিদের আক্রমণ থেকে মানুষকে রক্ষা করবে সেই ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে প্রধান উদ্ভাবক ও নেব্রাস্কার ডোয়ান ইউনিভার্সিটির পোস্ট ডক্টরাল ফেলো র্যাচেল বার্ক্স জানিয়েছেন, জোম্বিরা জীবিত কারও ঘ্রাণ দ্বারা আকৃষ্ট হয় এই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করেই তারা এই জোম্বি প্রতিরোধক সুগন্ধীটি বানিয়েছেন। আর এই কাজে তাকে অনুপ্রাণিত করেছে জনপ্রিয় টিভি শো ‘ওয়াকিং ডেড’ প্রথম সিজন যেখানে প্রথম একটি পর্বে শো’টির কয়েকজন চরিত্রকে মৃত মানুষের শরীরের ঘ্রাণ নিজেদের শরীরে মেখে নিতে দেখানো হয়েছিল। তবে কাল্পনিক কোনো জোম্বির ভয়ে এভাবে মৃত মানুষের শরীরে হাত দেওয়ার চেয়ে ভালো বুদ্ধি কেমিস্ট্রি দিতে পারে বলেই বিশ্বাস করতেন র্যাচেল। আর সেই বিশ্বাস থেকেই পরিস্কার উপয়ে ও কম খরচে মৃতের ঘ্রাণ তৈরির কাজে মন দেন র্যাচেল ও তার সহযোগী গবেষকরা। এদিকে এ ধরনের গবেষণার বিষয় শুনতে উদ্ভট শোনালেও র্যাচেলের উদ্দেশ্যটি কিন্তু মোটেও অদ্ভুতুরে বা উদ্ভট নয়। বরং নিজেও জোম্বির অস্তিত্বে ঘোর অবিশ্বাসী এই বিজ্ঞানী জানিয়েছেন, অজ্ঞানতা, কুসংস্কার কিংবা পাগলামীতে আক্রান্ত মানুষ যেন বিজ্ঞানের কথা শোনে সেজন্য এ ধরনের গবেষণা হতে পারে অন্যতম।