‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে’, ‘এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা’, ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাব বলে যুদ্ধ করি’ এই গানগুলো শুধু কালোত্তীর্ণ বললে ভুল হবে। এই একেকটি গানই একেকটি বাংলাদেশ। দেশপ্রেম জাগানোর অমর কাব্য। এই শব্দগুলো, এই কাব্যভাবনা যার কাছ থেকে পাওয়া সেই গোবিন্দ হালদার এখন অর্থাভাবে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন! গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন মিডিয়া ও ফেসবুকে এ নিয়ে নানান ধরনের মন্তব্য করছেন সাধারণ পাঠক আর গুণগ্রাহীরা। গোবিন্দ হালদার, আমাদের উদ্দীপনার প্রতীক এক অবিনাশী কণ্ঠস্বর। ধুঁকে ধুঁকে বেঁচে আছেন, আর দিন দিন এগিয়ে যাচ্ছেন মৃত্যুমুখে অবহেলা আর বিনা চিকিত্সায়। শারীরিকভাবে তিনি ভুগছেন কিডনি, লিভার, নিউরো, চর্ম ও চোখের সমস্যায়। বাকশক্তিও প্রায় রহিত হওয়ার পথে।
নিজ ঘর ছেড়ে পরবাসী হয়ে জীবনযাপন করছেন পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার বকুলতলার নজিরগঞ্জে, যেখানে গোবিন্দ হালদারের স্ত্রী পারুল হালদারের বাবার বাড়ি। গোবিন্দ হালদারের মেয়ে আর্থিকভাবে তার বাবাকে ঠকিয়েছে এবং জোর করে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দেওয়ারও পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি মেয়ে এবং মেয়ের জামাই তাকে শারীরিকভাবেও হেনস্থা করেছে বলে জানা যায়।
এই অবস্থায় বাংলাদেশের এই চিরবন্ধু আছেন এখন পারিবারিক আর মানসিক টানাপোড়েনে। তাকে এখন বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়েই দায় সারতে চাইছে তার পরিবার।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালে মুক্তিযুদ্ধে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘মুক্তিযোদ্ধা মৈত্রী সম্মাননা’ দিয়ে সম্মানিত করা হয়। এর আগে ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ত্রাণ তহবিল থেকে গোবিন্দ হালদারকে ১৫ লাখ টাকাও অনুদান দেন। কিন্তু কোনো আর্থিক সাহায্যই তার হাতে পৌঁছায়নি। এ অবস্থায় বাংলাদেশের একাধিক শিল্পী কলাকুশলী এই মানুষটির দেখাশোনার জন্য সরকারি উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন। কণ্ঠশিল্পী খুরশীদ আলম বলেন, ‘তিনি শুধু শিল্পী নন। আমাদের সম্পদ। আমাদের উচিত এখন রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে তাকে বাংলাদেশে এনে তার সেবা করা।’ গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীর বলেন, ‘তাকে বর্তমান সরকারই সম্মান জানিয়েছে। আমি বিশ্বাস করি এই সরকার অবশ্যই আমাদের প্রাণের এই শিল্পীর ব্যাপারে একটি উদ্যোগ নেবেন।’
