দারিদ্র্য বিমোচনে গঠন হচ্ছে ফাউন্ডেশন

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০১৪, ২১:২২
ক্ষুদ্র শিল্প বিকাশের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) বাস্তবায়িত ৪টি সমাপ্ত প্রকল্পের সমন্বয়ে ‘ক্ষুদ্র, মাইক্রো ও কুটিরশিল্প ফাউন্ডেশন’ গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ক্ষুদ্র ও মাইক্রো এবং কুটির শিল্প স্থাপনকারীদের ঋণ ও আনুষঙ্গিক সহায়তা, দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ ও গবেষণা, ইনকাম জেনারেটিং, নতুন কর্মসংস্থানে ফেসিলেট এবং নতুন প্রযুক্তির বিষয়ে সহায়তা করাই হবে ফাউন্ডেশনের কাজ। তিনি বলেন, দারিদ্র্য বিমোচনে অতীতে যে ৪টি প্রকল্প কাজ করেছে বা সমাপ্ত হয়েছে সেগুলো ভিন্ন আঙ্গিকে পরিচালনার জন্য এই ফাউন্ডেশন। প্রকল্পগুলো হলো- মহিলা শিল্প উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচি; ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থান প্রকল্প; আয় বর্ধক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্প এবং গ্রামীণ শিল্প উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি তেজীকরণ প্রকল্প। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ২০১১ সালে ‘ক্ষুদ্র, মাইক্রো ও কুটির শিল্প ট্রাস্ট আইন ২০১১’ করার জন্য আইনের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় এসেছিল। মন্ত্রিসভায় আলোচনা করে অর্থমন্ত্রীকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করে। কমিটি ৬টি সুপারিশ দেয়। এগুলো হলো ট্রাস্ট না করে একটি ফাউন্ডেশন গঠন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে জয়েন্ট স্টক কমিশনের নিবন্ধন, এই ফাউন্ডেশনের জন্য মেমোরেন্ডাম অব এসোসিয়েশন এবং আর্টিকেল এসোসিয়েশন, ৫ বছরের জন্য বিজনেস প্ল্যান তৈরি করে অর্থ বিভাগে পাঠাবে। অর্থ বিভাগ ও শিল্প সচিব পর্যালোচনা করে অনুদান ঠিক করবে। শিল্প মন্ত্রণালয় এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন করে তার আলোকে এই ফাউন্ডেশন জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ফাউন্ডেশনের মূলধন গঠনে অর্থ বিভাগ ৫০ কোটি টাকা অনুমোদন দিয়েছে। এছাড়া সমাপ্ত চারটি প্রকল্পের মূলধন ৫৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা বর্তমানে লাভসহ ৭৭ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। সে অর্থও এ ফাউন্ডেশনের মূলধন হিসেবে ব্যবহূত হবে। এতে বর্তমানে ফাউন্ডেশনের মোট মূলধনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২৭ কোটি টাকা। তিনি বলেন, মন্ত্রিসভার সুপারিশে সরকার অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে এ ফাউন্ডেশন গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়াধীন জয়েন্ট স্টক কোম্পানীর রেজিস্টার্ডভুক্ত এ ফাউন্ডেশন এসোসিয়েশন অব মেমোরেন্ডাম এবং ৫ বছর মেয়াদী বিজনেস প্লান অনুযায়ী পরিচালিত হবে। ফাউন্ডেশন দুই বছর কাজ করার পর তৃতীয় পক্ষ দ্বারা এর কার্যক্রম অডিট করবে। মন্ত্রিসভা ‘বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি আইন, ২০১৪’র খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, পল্লী উন্নয়ন সমবায় বিভাগের ১৯৮৬ সালের এক অধ্যাদেশের ভিত্তিতে এ আইন করা হয়েছিল। উচ্চ আদালতের নির্দেশে সে আইনটিই বাংলায় নিয়ে আসা হচ্ছে। এতে তেমন কোন পরিবর্তন নেই। এছাড়া মন্ত্রিসভায় ‘বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড আইন, ২০১৪’র খসড়া উত্থাপন হলে তা আরো ভাল করে খুটিনাটি পরীক্ষা করে দেখার জন্য ফেরত পাঠানো হয়।