কৃষিপণ্যের মূল্য নির্ধারণে চাই জাতীয় কমিশন

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০১৪, ২১:২৩
কৃষি পণ্যের উত্পাদন-বিপণন ব্যবস্থাপনার পরের প্রক্রিয়াটি ভুলে ভরা পথে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষক। এজন্য একটি রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর আওতায় কৃষকের উত্পাদিত পণ্যের মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থাপনা চালু করা খুবই জরুরি। এতে একই সাথে উত্পাদক ও ভোক্তার স্বার্থ সংরক্ষিত হবে। তাই ‘কৃষি পণ্যের জাতীয় মূল্য কমিশন’ গঠনের জোর দাবি জানিয়েছে কর্মজীবী নারী ও জাতীয় জন-মূল্য কমিশন। সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘কর্মজীবী নারী’ ও ‘জাতীয় জন-মূল্য কমিশন’ যৌথভাবে আয়োজিত মানববন্ধনে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এ দাবি জানান। মানববন্ধন শেষে জাতীয় মূল্য কমিশন গঠনের দাবিতে খাদ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি পেশ করেন নেতৃবৃন্দ। মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, কর্মজীবী নারীর নির্বাহী পরিচালক ও জাতীয় জন-মূল্য কমিশনের সদস্য রোকেয়া রফিক, কর্মজীবী নারীর নির্বাহী সদস্য উম্মেহাসান ঝলমল, জাতীয় জন-মূল্য কমিশনের সদস্য জীবনানন্দ জয়ন্ত, জাতীয় কৃষক জোটের সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম বাবু, ভূমিহীন সমিতির সভাপতি সুবল সরকার প্রমুখ। আরোও বক্তব্য রাখেন, নরসিংদী ও মানিকগঞ্জের কৃষক-কৃষাণীরা। বক্তারা বলেন, সম্প্রতি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ফুড প্ল্যানিং এন্ড মনিটরিং ইউনিট (এফপিএমইউ) খাদ্য শস্যের অগ্রীম মূল্য ঘোষণা করেছে। ফসল ওঠার আগেই মূল্য ঘোষণা শুভ উদ্যোগ। কিন্তু বোরো ধানের বিপরীতে ঘোষিত মূল্য কৃষককে হতাশ করেছে। নিশ্চিত করে বলা যায়, এবারের নির্ধারিত মূল্যেও কৃষক বঞ্চণার শিকার ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, কৃষকের বিনিয়োগকৃত অর্থের স্থানীয় সুদ (দাদন মূল্য), পারিবারিক শ্রম, উত্পাদক (সমন্বয়ক) কৃষকের শ্রমমূল্য বাদে প্রতি কেজি ধান উত্পাদন খরচ সর্বনিম্ন ২০ টাকা ৫০ পয়সা এবং সর্বোচ্চ ২৪ টাকা ২৩ পয়সা পর্যন্ত। যেখানে সরকার নির্ধারিত বোরো ধানের ও চালের উত্পাদন খরচ যথাক্রমে ১৭ টাকা ৫০ পয়সা ও ২৬ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত। এ অবস্থায় প্রকৃত ব্যয় নির্ধারণ সাপেক্ষে পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করা প্রয়োজন। কৃষিতে উত্পাদন ব্যয় বৃদ্ধি পেলেও লাভজনক মূল্য না পাওয়ায় কৃষক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দেশের প্রধান খাদ্য ধান উত্পাদনে উদ্বৃত্ততা রক্ষা করছে। কিন্তু একটি চরম সত্য হলো এই খাদ্য উদ্বৃত্ততায় কৃষকের কোনো লাভ হয়নি। এ ধরনের প্রেক্ষাপটে পণ্যের লাভজনক মূল্য প্রদান জরুরি।