গলাচিপায় জোয়ারের লবণ পানিতে ৫০০ একর জমির তরমুজ নষ্ট

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০১৪, ২২:০৪
জোয়ারের লবণ পানিতে আমাগো সর্বনাশ অইয়া গ্যাছে, ধার-দেনা কইর্যা ক্ষ্যাতে তরমুজ লাগাইছিলাম; ফলনও বেম্যালা অইছে। হঠাত্ জোয়ার আইস্যা মোগো হক্কোল আশা ডুবাইয়া দিয়া গ্যাছে।’ এ কথাগুলো বলেছিলেন গলাচিপার চরখালীর কৃষক নূর জামাল ও পানপট্টির কুদ্দুস হাওলাদার। গত দুইদিন ধরে অমাবস্যার প্রবল জোয়ারে গলাচিপার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় বেড়িবাঁধের বাইরে প্রায় অর্ধ সহস্রাধিক একর জমির তরমুজসহ রবিশস্যের ক্ষেত জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে ক্ষতির পরিমাণ ২০ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে গলাচিপা কৃষি অফিস সূত্র জানা যায়। গলাচিপার চরখালী, পানপট্টি, চালিতাবুনিয়া, পক্ষিয়া, বদনাতলী, মুরাদ নগরসহ অর্ধ-শতাধিক গ্রামের তরমুজ চাষীদের পথে বসার উপক্রম হয়েছে। কৃষকরা যখন উঠতি তরমুজ ঘরে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তার আগ মুহূর্তেই তাদের সকল স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। চালিতাবুনিয়া গ্রামের কৃষক সাত্তার হাওলাদার, মমিন মৃধা বলেন, মহাজনদের কাছ থেকে সুদে টাকা এনে তরমুজ চাষ করেছি। জোয়ারের পানিতে তরমুজ নষ্ট হওয়ায় ধার-দেনা পরিশোধের কোনো উপায় দেখছি না। উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা নূরুল আমিন জানান, এবারের মৌসুমে গলাচিপা উপজেলায় প্রায় ৬০০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত ফলন হলেও হঠাত্ জোয়ারের লবণ পানিতে উপকূলের প্রায় ৫০০ একর জমির উত্পাদিত তরমুজ বিনষ্ট হয়ে যায়। শীঘ্রই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের চিহ্নিত করে তাদের সহযোগিতা প্রদানের ব্যবস্থা নেয়া হবে। লক্ষাধিক টাকার তরমুজ ছিনতাই গলাচিপায় গত রবিবার রাতে এক ব্যবসায়ীর এক লাখ টাকার তরমুজ ছিনতাই করেছে সন্ত্রাসীরা। গলাচিপা পৌর এলাকার বাসিন্দা লতিফ মুন্সি রতনদি তালতলী ইউনিয়নের হেলাল মৃধার কাছ থেকে ২ লাখ ৭৩ হাজার টাকায় আড়াই একর জমির তরমুজ কিনে। লতিফ মুন্সী লোকজন নিয়ে তরমুজ কেটে স্তূপ করে। রাতে তরমুজ বিক্রেতা হেলালের নেতৃত্বে মোফাজ্জেল, জুবায়েরেরসহ ১৫/২০ জন সন্ত্রাসী রামদা ও অন্যান্য দেশিয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে লক্ষাধিক টাকার তরমুজ ছিনতাই করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় সোমবার গলাচিপা থানায় মামলা হয়েছে।