ইসলামপুর উপজেলায় যমুনার চরাঞ্চলে ২৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় চলছে প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে। যমুনার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলগুলো দীর্ঘদিনেও পুনঃনির্মাণের উদ্যোগ নেই। ফলে স্কুল চলছে অন্যের বাড়ির বারান্দায় কিংবা কারো গরুর ঘরে। গাছতলায় খোলা আকাশের নিচে চট/খড় বিছিয়ে চলছে অস্থিত্বহীন এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের লেখাপড়া।
যমুনার তীরবর্তী কুলকান্দি, বেলগাছা, চিনাডুলি, সাপধরী ও নেয়ারপাড়া ইউনিয়নের ৫০টি গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার শিশুর ভবিষ্যত্ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। নদী ভাঙনে ভিটেমাটি হারা বিভিন্ন স্থানে আশ্রিত চরাঞ্চলের ছেলে শিশুরা কাকডাকা ভোরে বাবার সাথে যায় মাছ ধরতে কিংবা দিনমজুরি করতে। আর মেয়ে শিশুরা যায় অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজে অথবা গো’খাদ্য সংগ্রহের জন্য যায় ছাগল গরু চরাতে।
কুলকান্দ টি.কে স্কুল ১৯৯৬ সালে, চর দিঘাইর ২০০৩ সালে, উত্তর জোরডোবা, বৌশেরগড়, নয়াপাড়া ২০০৮ সালে, বীর নন্দনের পাড়া, বীর সাপধরী ২০০৯ সালে, দিঘাইর, হরিণধরা, সাপধরী, কোদাল ধুয়া, রাজনগর, বীর সিংহ প্রাথমিক বিদ্যালয় ২০১০ সালে এবং কাশারী ডোবা, চর শিশুয়া, চিনাডুলী দক্ষিণ গিলাবাড়ি এবং সিন্দুরতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ২০১২ সালে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান জানায়, নদীতে বিলীন হওয়া ২৩টি বিদ্যালয়ের তালিকা টিনসেড স্থানান্তরযোগ্য প্রতিষ্ঠান নির্মাণের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। নানা সমস্যায় এ অঞ্চলের শিশুরা শিক্ষা বঞ্চিত হয়ে অন্ধকারে নিমজ্জিত। এখানকার অধিকাংশ শিক্ষকরা বিদ্যালয় উপস্থিত না হয়ে মাসিক চুক্তিতে প্রক্সি শিক্ষক (বদলি শিক্ষক) নিযুক্ত করেছেন, ওইসব শিক্ষক শিক্ষা দিচ্ছেন।
শুকনো মৌসুমে ক্লাস অধিকাংশ শিক্ষক ইসলামপুর, মেলান্দহ ও জামালপুরে থাকেন। গুঠাইল ও উলিয়া ঘাটে খেয়া পার হয়ে প্রায় দেড় ঘন্টা হেঁটে বিদ্যালয়ে আসতে হয়।
এদিকে ইসলামপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
