নিজের সময়ে ছিলেন বিশ্বসেরা স্পিনারদের একজন। বাংলাদেশের পর এবার কাজ করছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনারদের নিয়ে। পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মহাগুরত্বপূর্ন লড়াইয়ের আগে সেই সাকলাইন মুশতাক গতকাল সোমবার কথা বললেন গণমাধ্যমের সাথে। আর এই কথা-বার্তায় উঠে আসলো বর্তমান সময়ের স্পিনারদের নিয়ে সাবেক এই পাকিস্তানি ক্রিকেটারের ভাবনা।
সাঈদ আজমলকে মোকাবেলা করার জন্য ব্যাটসম্যানদের জন্য আপনার নির্দেশটা কেমন?
সাকলাইন মুশতাক: সাঈদ আজমল অনেকদিন ধরে পাকিস্তানের হয়ে খেলছে। অনেক ব্যাটসম্যান এসেই আমাকে এমনটা জিজ্ঞেস করে। আজমল দুসরা আর আর্ম বলটা ভাল করে। এখন প্রযুক্তি অনেক এগিয়ে যাবে। কোন কিছুই আসলে লুকানো থাকে না।
আগামীকালকের (আজকের) ম্যাচে কে ফেবারিট?
সাকলাইন মুশতাক: আসলে এটা বলা খুব মুশকিল। যারা ভাল খেলবে তারাই জিতবে। আমি চাইবো ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতুক। কারণ, আমি এই দলটির সাথে কাজ করছি। এটাই আমার সততার পরিচয়।
ওয়েস্ট ইন্ডিজকে কোচিং করানোর অভিজ্ঞতাটা কেমন?
সাকলাইন মুশতাক: এটা আমার জন্য দারুন একটা সুযোগ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলটা দারুন। ছোট বেলাতে ভিভ রিচার্ডস, স্যার গ্যারিফিল্ড সোবার্সদের খেলা ভাল লাগতো। তাই যখন আমি সুযোগ পেয়েছি, তখন নিজেকে অনেক সম্মানিত বোধ করেছি। এর আগে আমি বাংলাদেশের হয়েও কাজ করেছি। যখন কোন দলের লোগো দেহে ধারণ করি তখন মনে প্রাণেও তাদের হয়েই কাজ করি।
এই টুর্নামেন্টে সোহাগ গাজিকে দেখেছেন। কেমন মনে হল?
সাকলাইন মুশতাক: আমি বাংলাদেশের সাথে গত ফেব্রুয়ারি-মার্চে কাজ করেছি। এর মানে সেটা প্রায় এক বছর আগের ঘটনা। এখন আমি ভিন্ন একটি দলের হয়ে কাজ করছি। বাংলাদেশ এখন আমার কাছে স্রেফ প্রতিপক্ষ। সোহাগ গাজিকেও তাই দেখছি ভিন্নভাবে।
দুসরার বৈধতা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন। সেটাকে আপনি কিভাবে দেখছেন?
সাকলাইন মুশতাক: আমি কখনও ব্যাপারটাকে এভাবে দেখতে চাই না কখনওই। কেউ যখন দুসরা কিংবা ক্যারম বল করেন, তখন আমি ভিতরে ভিতরে গর্ববোধ করি। আইসিসির কাজ হল দেখা সব কিছু ঠিক ঠাক ছিল কি না। এর বাদে কারও প্রশ্ন তোলার কোন যৌক্তিকতা নিয়ে নেই। কেউ নতুন কিছু উদ্ভাবন করে যদি ভাল করতে পারে তাহলে সবারই উচিত্ ব্যাপারটার প্রশংসা করা।
এই বিশ্বকাপে স্পিনাররা বেশ ভাল করছেন। এদের মধ্যে কাকে সবচেয়ে বেশি ভাল লাগছে?
সাকলাইন মুশতাক: সাঈদ আজমল, সুনীল নারাইন, রবীচন্দ্রন অশ্বিন ভাল বল করছেন। সব মিলিয়ে আট-দশ জন স্পিনার ভাল করছেন। এদের মধ্যে থেকে নির্দিষ্ট করে একজনের নাম বলাটা অন্যদের প্রতি অবিবেচনা করা হবে। আসলে স্পিনারদের পারফরম করতে দেখলেই ভাল লাগে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইতিহাসে কিংবদন্তী কোন স্পিনারের আবির্ভাব ঘটে নি। সুনীল নারাইন, স্যামুয়েল বদ্রিদের দেখে কি মনে হয় এবার এর ব্যাতিক্রম ঘটতে যাচ্ছে?
সাকলাইন মুশতাক: তোমার প্রশ্নের মধ্যেই জবাবটা লুকিয়ে আছে। তুমি নারাইন, বদ্রিদের কথা বললে। একবার আইসিসির র্যাংকিংটা দেখো। বোলারদের তালিকায় শুরুর দিকেই পাবে এদের নাম।
