নিজের আবছা একটা ছায়া হয়ে থাকলেন গোটা ইনিংসেই। বড় শট খেলাটা যেন ভুলেই গেলেন। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি বলে আসছিলেন, ‘একটা বড় ইনিংস পাল্টে দিবে সব কিছু।’ গত রবিবার রাতে যুবরাজ সিং আরও একবার ভুগলেন। আগের তিন ম্যাচে মাত্র ১১ রান করার গ্লানি, মাঠের বাইরের সমালোচনাতেই কি না আরও ঢুকে গেলেন নিজের ভিতরে। তাতেই কি না ব্যাটিং সৌন্দর্যটাতে কিছুটা হারিয়েই গেল।
সেই পাশবিক সৌন্দর্য আর পাওয়ার শটের প্রদর্শনী থাকুক আর নাই থাকুক যুবরাজ সিংয়ের জ্বলে ওঠাটাই মুখ্য ঘটনা। প্রত্যাবর্তনের এমন দারুণ সময় আর আসতে পারে না।
আর ব্যাটিং করাটাও খুব সহজ কাজ ছিল না যুবরাজ সিংয়ের জন্য। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচেই টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো টস হারে ভারত। আর শুরুতেই ব্যাট করতে নেমে তাদের অনভিজ্ঞতাটাও স্পষ্ট প্রকাশিত হচ্ছিল।
আগের ম্যাচের পারফরমার রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি ব্যর্থ হলেন। ব্যর্থ হলেন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা আজিঙ্কা রাহানে। সুরেশ রায়নাও তাই। ৬৬ রানে যখন চার উইকেট পড়ে গেল, তখন চলছে ১২ তম ওভারের খেলা। যুবরাজ সিং ব্যাট করছেন ১৮ বলে মাত্র ১১ রান নিয়ে।
লড়াইটা শুরু হলো ঠিক এর পর থেকেই!
শুরুটা করলেন ব্র্যাড হজের বলে ডাউন দ্য উইকেটে এসে লং অনের উপর দিয়ে এক চার দিয়ে। রান আসতে শুরু করলো। লেগ স্পিনার জেমস মুইরহেডের বলে ডিপ মিড উইকেটের উপর দিয়ে খেললেন দুটি ছক্কা। ১৪ তম ওভারে যুবরাজ সিং যখন ৩২ রানে ব্যাটিং করছিলেন তখন অস্ট্রেলিয়ার জন্য আস্তে আস্তে আসতে শুরু করলো বিপদ। মিরপুরে যেন চলে আসতে লাগলো ২০০৭ সালের ডারবান কিংবা ২০১৩ সালের রাজকোট।
ইনিংসের শেষ ওভারে যখন আউট হলেন ততক্ষণে ৪৩ বলে হয়ে গেছে ৬০ রান। চারটি ছক্কা আর পাঁচটি চারে সাজানো ইনিংসটা যুবরাজময় হোক কিংবা নাই হোক, দিন শেষে জয় ছাপিয়ে যুবরাজের ফর্মে ফেরাটাই হয়ে রইলো ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। ধোনির মুখেও তাই চললো যুবরাজের প্রশংসা, ‘যুবরাজের ফর্মে ফিরে আসাটা আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমরা সবাই জানি ও কেমন খেলোয়াড়। এই ফরম্যাটটাতেও ওকে মানায়। কে কিছুটা সময় নিয়েছিল মাঝের ওভারগুলোতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ও কি করতে পারে সেটা আমরা ম্যাচেই দেখতে পেরেছি।’
যুবরাজ কি করতে পারলেন সেটা সমর্থকরাও দেখলেন আরেকবার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে নিতিন সুন্দার নামের একজন লিখলেন এভাবে - ‘ফর্ম ইজ টেম্পোরারি, যুবরাজ ইজ পারমানেন্ট’!
