গাড়ি কুক-দারোয়ান নিয়োগ নিয়ে ক্ষুব্ধ সচিবেরা

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০১৪, ২৩:০১
নিজেদের দাপ্তরিক গাড়ি, বাড়িতে কুক-দারোয়ান নিয়োগ নিয়ে সচিবেরা ক্ষুব্ধ। আর এ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা গতকাল অনুষ্ঠিত সচিব সভায়। অনেক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ইচ্ছামত মনোগ্রাম, পতাকার ব্যবহারসহ, অন্তত দুটি প্রতিষ্ঠানের কিছু পদের মর্যাদা বাড়ানো নিয়ে অসন্তোষ সচিবদের মধ্যে। আগামী সোমবার সরকার প্রধান হিসাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। এর আগে সচিবদের গতকালের বৈঠক ছিল প্রধানমন্ত্রীর সামনে কী কী বলা হবে তার প্রাক-প্রস্তুতি। মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয় এ সভা। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসেইন ভুঁইয়া এতে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আব্দুস সোবহান সিকদার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব আবুল কালাম আজাদ, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব মনজুর হোসেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী, শিক্ষা সচিব ড. মোহাম্মদ সাদিক, বাণিজ্য সচিব মাহবুব আহমেদ, শিল্প সচিব খোন্দকার মঈন উদ্দিন আব্দুল্লাহ, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় সচিব এম এ কাদের সরকার, রেল সচিব আবুল কালাম আজাদ সভায় বক্তব্য দেন। সচিবদের প্রায় সবাই বলেন, আগেই সচিবদের বাসার জন্য কুক ও দারোয়ান নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত হলেও এখনো তা কার্যকর হয়নি। গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে এই জনবল নিয়োগের কথা থাকলেও তারা তা করেনি। গণপূর্ত বিভাগ বলছে, তাদের এ খাতে অর্থ বরাদ্দ নেই। সচিবদের জীপ ব্যবহার নিয়ে পত্রপত্রিকায় লেখা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সচিবেরা বলেন, দূরযাত্রায় ব্যবহারের উপযোগী কোনো গাড়ি সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর বরাদ্দ দেয় না। ফলে প্রকল্পের জিপ ব্যবহার করতে হয় তাদের। কিন্তু এ নিয়ে লেখালেখিতে তারা বিব্রত। সিদ্ধান্ত হয় এখন থেকে প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ তাদের সাংগঠনিক কাঠামোতে একটি করে জীপ অন্তর্ভুক্ত করবে। যতক্ষণ এ কাজ না হয় ততক্ষণ সরকারি প্রয়োজনে দূরবর্তী যাত্রায় প্রকল্প গাড়ি ব্যবহার করা যাবে। সচিবরা প্রশ্ন তুলেছেন যথেচ্ছ পতাকা ও মনোগ্রাম ব্যবহার নিয়ে। তারা বলেন, ইউজিসি, পিএসসি, মানবাধিকার কমিশন, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান ছাড়াও বিভিন্ন কমিটির প্রধান, কমিশন প্রধান সরকারের অনুমতি কিংবা পতাকা বিধি না মেনেই ব্যবহার করছেন নিজস্বভাবে তৈরি করে নেয়া পতাকা কিংবা মনোগ্রাম। এটি বন্ধ করার তাগিদ দেন সচিবেরা। কথা হয়েছে অন্যান্য সামরিক-বেসামরিক প্রতিষ্ঠানের কিছু পদের মর্যাদা বাড়ানো নিয়ে। বলা হয়, এতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের অবস্থান স্পষ্ট করা দরকার। এছাড়া দুই বছর সচিবের পদে চাকরি পূর্ণ করা সাপেক্ষে সকলকে সিনিয়র সচিব করারও দাবি উঠেছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব সরকারের নীতি-কৌশল বাস্তবায়নে সচিবদের যথাযথ ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, সরকারের নীতি বাস্তবায়ন করা সচিবদের দায়িত্ব। এজন্য সর্বোচ্চ দক্ষতা কাজে লাগিয়ে সচিবদের কাজ করার পরামর্শ দেন তিনি।