স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম রাজশাহীতে চিকিত্সকদের কর্মবিরতির ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, সময় না দিয়ে ডাক্তারদের কর্মবিরতি সমর্থনযোগ্য নয়। মন্ত্রী হিসেবে এটা সমর্থন করি না। কারণ চিকিত্সকদের ধর্মঘটে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। অনেক রোগীকে কষ্ট-দুুর্ভোগ সহ্য করতে হয়েছে। রাজশাহীর ঘটনার মতো আর কোনো ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য ডাক্তার ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো বলেন, অন্যায়ভাবে কোনো ডাক্তার হয়রানি হোক বা অবহেলার কারণে কোনো রোগীর ক্ষতি হোক এটা সমর্থনযোগ্য নয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) মাধ্যমে অভিযুক্ত চিকিত্সকদের বিচারে আইন হচ্ছে। সাংবাদিকরা অন্যায়ভাবে কিছু লিখলে প্রেস কাউন্সিল যেভাবে বিচার করে, তেমনি নতুন আইন অনুযায়ী কোনো চিকিত্সক যদি অন্যায় করে তার বিচার করবে বিএমডিসি। এজন্য বিএমডিসি’কে শক্তিশালী করা হচ্ছে। সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বিএমডিসিতে ডাক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে পারবেন। বিএমডিসি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে। চিকিত্সা সনদও বাতিল করতে পারবে বিএমডিসি। তিনি বলেন, এ আইন করার জন্য আমরা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলছি। সাংবাদিক সম্মেলনে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, রাজশাহীর ঘটনায় ধর্মঘট না করে আমাদের (মন্ত্রণালয়কে) জানালে একটা ব্যবস্থা নিতে পারতাম। এ ধরনের ঘটনায় ভবিষ্যতে কর্মবিরতি বা ধর্মঘট না করে মানববন্ধন অথবা সমাবেশ করার জন্য চিকিত্সকদের প্রতি আহ্বান জানান মন্ত্রী।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, রোগীর মৃত্যু ও ডাক্তারদের ধর্মঘটের বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশেনের (বিএমএ) নেতাদের তাত্ক্ষণিকভাবে হস্তক্ষেপে ধর্মঘট স্থগিত হওয়ায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাদের ধন্যবাদ জানান।
সাংবাদিক সম্মেলনে স্বাস্থ্য সচিব এমএম নিয়াজ উদ্দিন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. দীন মোহাম্মদ নূরুল হকসহ বিএমএ’র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির আন্দোলন করার ক্ষমতা নেই
অপর এক অনুষ্ঠানে মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, আন্দোলন করার ক্ষমতা বিএনপির নেই। আন্দোলনের ডাক দিয়ে যে দলের নেতারা মাঠে নামেন না তারা আবার কি আন্দোলন করবেন?
সোমবার ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘গণকল্যাণকামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় কর্মজীবী-পেশাজীবীদের করণীয়’ শীর্ষক এ আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। গণঅধিকার দিবস-২০১৪ উপলক্ষে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ এ আলোচনাসভার আয়োজন করে।
‘এমন আন্দোলন হবে, গিনেস বুকে নাম উঠবে’ মর্মে সম্প্রতি বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বক্তব্যের জবাবে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, গিনেস বুক কি আপনি তা বোঝেন? আন্দোলন করবেন বলেন, কিন্তু আপনার আহ্বানে তো দলের নেতারা কেউই সাড়া দেয় না। ‘জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি’ দাবি করে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের দেয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, পাগল ছাড়া এ কথা কেউ বলতে পারে না।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমগ্র বাংলাদেশের গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে দিতে হবে। প্রয়োজনে আরও ৯০ কোটি টাকা খরচ করে গ্রামে গ্রামে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করতে হবে।
ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের সভাপতি এ কে এম এ হামিদের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দীলিপ বড়ুয়া, বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালিকুজ্জামান, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শরিফ নূরুল আম্বিয়া প্রমুখ।
