কক্সবাজার জেলার মহেশখালীতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পরিবেশবান্ধব কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত্ উত্পাদন কেন্দ হচ্ছে ১০টি। ওই কয়লাবিদ্যুত্ প্রকল্প থেকে প্রায় ৯ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
সম্প্রতি মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে ২টি কয়লাবিদ্যুত্ প্রকল্প বাস্থবায়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে মন্ত্রিপরিষদ। এই ২টি প্রকল্প নির্মাণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার পর জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণের টাকা দিতে ইতিমধ্যে ৬ ধারা নোটিস জারি করেছে জেলা ভূমি হুকুমদখল অফিস। এই ২টি প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ হচ্ছে ১৪শত একর। মহেশখালীর মাতারবাড়ী, কালামারছড়া ও হোয়ানকে ভূমি অধিগ্রহণের প্রথম ধাপ নোটিস জারি হওয়ায় ওইসব এলাকার ভূমি মালিকদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলেও এলাকার সচেতন ব্যক্তিবগের্র ইতিবাচক ভূমিকার কারণে জমির মালিকরা বিদ্যুত্প্রকল্প নির্মাণের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করতে শুরু করেন। আরো ৮টি প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে কালারমারছড়া ও হোয়ানক ইউনিয়নে। ওই ৮টি প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ হবে ৫ হাজার একর। ভূমি অধিগ্রহণের জন্য জমি মালিকদের কাছে জেলা ভূমি হুকুমদখল অফিস ৩ ধারা নোটিস জারি করেছে।
গত ২২ মার্চ বিদ্যুত্ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু মহেশখালীর কয়লাবিদ্যুত্ প্রকল্পের স্থান পরিদর্শন করেছেন। মন্ত্রী প্রকল্পের স্থান পরিদর্শনকালে বলেন, জমির মালিকদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। তিনি স্থানীয় জনগণের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেয়া হবে বলে জানান। উক্ত প্রকল্পে ৯ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে মহেশখালীর মাতারবাড়ী হোয়ানক ও কালারমারছড়ায় ১০টি অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পরিবেশবান্ধব কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ নির্মাণ করার প্ররিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। বিদ্যুত্ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু জানিয়েছেন, সরকার মাতারবাড়ীতে বিদ্যুত্ উত্পাদনকেন্দ দ্রুত নির্মাণ করতে চায়। কিন্তু সবকিছু নির্ভর করছে স্থানীয় জনগণের ইচ্ছার উপর। তিনি বলেন, মাতারবাড়ীতে বিদ্যুেকন্দ স্থাপিত হলে এই এলাকার চেহারা পাল্টে যাবে। নতুন প্রজম্মকে তাদের সনাতনী পেশার উপর নির্ভর করতে হবে না। তারা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চাকরি পাবে প্লান্টে। স্থানীয়দের সিদ্ধান্ত নিতে হবে উন্নত প্রযুক্তির পক্ষে। অধিগ্রহণ হওয়া ভূমির মধ্যে বেশিরভাগই সরকারি এবং কিছু অংশ জনগণের মালিকানাধীন। ওইসব জমিতে শুষ্ক মৌসুমে লবণ চাষ ও বর্ষা মৌসুমে চিংড়ি চাষ হয়ে থাকে। ২২মার্চ বিদ্যুত্ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু কয়লাবিদ্যুত্ প্রকল্প পরিদর্শনে গিয়েছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী প্রকল্পের স্থান পরিদর্শকালে স্থানীয় জমির মালিকদের বিক্ষোভ প্রর্দশন করতে দেখা যায়। সাথে সাথে এমপি আশেকউল্লাহর নিদেশে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করা হয়। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে এখন অর্থ নয়, বড় সমস্যা হচ্ছে দক্ষ জনশক্তির। যারা কয়লাবিদ্যুত্ প্রকল্পের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হবে তাদেরকে পুনর্বাসন করার গ্যারান্টি দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের সরকার, তাই জনগণের ক্ষতি করে কিছু করা হবে না।
