তৃতীয়, চতুর্থ ধাপের মতো পঞ্চম ধাপের উপজেলার চেয়ারম্যান পদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা বেশি বিজয়ী হয়েছেন। এই ধাপেও বিএনপি-জামায়াত জোটকে টপকে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে তারা। ধাপে ধাপে নির্বাচনী সহিংসতা বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতিও আস্তে আস্তে কমেছে। ভোটকেন্দ্র দখলসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে গতকালের নির্বাচনে বিএনপিসহ অন্যান্যদল সমর্থিত ও স্বতন্ত্র ৬০ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী ভোট চলাকালেই বর্জনের ঘোষণা দিয়ে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। আর বিএনপি ২৩টি উপজেলায় নির্বাচন বর্জন করে হরতাল আহবান করেছে। ৭৩টি উপজেলার মধ্যে সবগুলোর বেসরকারি ফলাফল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত ৫৪ জন, বিএনপি সমর্থিত ১৩ জন, জামায়াত সমর্থিত ৩ জন এবং অন্যান্য ৩ জন বেসরকারীভাবে বিজয়ী হয়েছেন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কয়েকজন বিদ্রোহীরাও বিজয়ী হয়েছেন। গত ১৯ শে ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে সোমবার পর্যন্ত পাঁচটি ধাপে ৪৫৮টি উপজেলার নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে চতুর্থ ধাপের তিনটি উপজেলার ফলাফল স্থগিত রয়েছে। আগামী ৩রা মে আরো ২১টি উপজেলার নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের। এ পর্যন্ত ৪৫৫টি উপজেলায় আওয়ামী লীগ ২৩২, বিএনপি ১৬২টি, জামায়াতে ইসলামী ৩৫টি এবং অন্যান্য ২৬ জন বিজয়ী হয়েছেন। বিজয়ীদের মধ্যে বিদ্রোহী প্রার্থীদের হিসাব গণনায় নেয়া হয়েছে।
এর আগে চার ধাপে ৩৮৫ উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও ৩৮২টির ফল ঘোষিত হয়েছে। এতে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ১৭৮, বিএনপি সমর্থিত ১৪৯ এবং জামায়াতে ইসলামী ৩২ জন এবং অন্যান্য ২৩ জন বিজয়ী হয়েছেন। প্রথম ধাপে ৬৫ কেন্দ্র, দ্বিতীয় ধাপে ১০০ কেন্দ্র, তৃতীয় ধাপে ২০০ কেন্দ্র এবং চতুর্থ ধাপে চার শতাধিক কেন্দ্র দখল ও অনিয়মের ঘটনা ঘটে। এ পর্যন্ত নির্বাচনী সহিংসতায় ১২জন মারা গেছেন। গত ২৩ মার্চ অনুষ্ঠিত চতুর্থ ধাপের ৯১টি উপজেলার মধ্যে ৮৮টির ফলাফলে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত ৫৫ জন, বিএনপি সমর্থিত ২৪ জন, জামায়াত সমর্থিত ৫ জন এবং অন্যান্য ৪ জনকে বেসরকারীভাবে বিজয়ী হন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিদ্রোহীরাও বিজয়ী হয়েছিলেন।
আওয়ামী লীগের বিজয়ী ৫৪ জন
পঞ্চম ধাপের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ীরা হলেন, ১. বরগুনার সদর উপজেলায় মো. আব্বাস হোসেন মন্টু ২. আমতলীতে জিএম দেলোয়ার হোসেন ৩. বামনায় সাইতুল ইসলাম লিটু মৃধা ৪. পাথরঘাটায় রফিকুল ইসলাম রিপন ৫. মৌলভীবাজারের জুড়িতে এম এ মোমিত আশুক ৬. রাজনগরে আসকির খান ৭. নোয়াখালির সুবর্ণচরে খায়রুল আলম সেলিম ৮. হাতিয়ায় মাহবুব মোরশেদ ৯. কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় রফিকুল ইসলাম রেনু (বিদ্রোহী) ১০. অষ্টগ্রামে শহীদুল ইসলাম জেমস ১১. ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে আশরাফ উদ্দীন বাদল ১২. নান্দাইলে আব্দুল মালেক চৌধুরী স্বপন ১৩. ফেনীর ছাগলনাইয়ায় মেজবাহুল হায়দার ১৪. রাঙামাটির রাজস্থলীতে উথিন সিন মারমা ১৫. পাবনা সদরে মোশাররফ হোসেন ১৬. বেড়ায় আব্দুল কাদের ১৭. কক্সবাজারের টেকনাফে জাফর আহমেদ ১৮. সাতক্ষীরার সদরে আসাদুজ্জামান বাবু ১৯.দেবহাটায় আবদুল গণি ২০. তালায় ঘোষ সনত্ কুমার ২১. চুয়াডাঙ্গা সদরে আসাদুল হক বিশ্বাস ২২. আলমডাঙ্গায় মো. হেলালউদ্দিন ২৩. রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরুল ইসলাম ২৪. জামালপুরের মাদারগঞ্জে ওবায়দুর রহমান ২৫. গাইবান্ধার ফুলছড়িতে হাবিবুর রহমান (বিদ্রোহী) ২৬. পটুয়াখালীর দশমিনায় সাখাওয়াত হোসেন (বিদ্রোহী) ২৭. পটুয়াখালির কলাপাড়ায় আব্দুল মোতালেব তালুকদার ২৮. টাঙ্গাইল সদরে এডভোকেট খোরশেদ আলম ২৯. গোপালপুরে ইউনুছ ইসলাম তালুকদার ৩০. মির্জাপুরে মীর এনায়েত হোসেন ৩১. ঘাটাইলে মো. নজরুল ইসলাম খান শামু ৩২. মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী ইঞ্জিনিয়ার কাজী ওয়াহেদ ৩৩. লৌহজংয়ে ওসমান গণি তালুকদার ৩৪. সিরাজদিখানে মহিউদ্দিন আহমেদ ৩৫. চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে মো. শাহজাহান খান ৩৬. নরসিংদীর মনোহরদী সাইফুল ইসলাম খান বিরু ৩৭. রায়পুরায় মিজানুর রহমান (বিদ্রোহী) ৩৮. সিরাজগঞ্জের বেলকুচি মোহাম্মদ আলী ৩৯. শাহজাদপুরে আজাদ রহমান ৪০. কুমিল্লার চান্দিনায় তপন বকশী ৪১. মুরাদনগরে সৈয়দ আব্দুল কাইয়ুম খসরু ৪২. গাজীপুরের কালিগঞ্জে মোয়াজ্জেম হোসেন ৪৩. শ্রীপুরে আব্দুল জলিল ৪৪. নারায়নগঞ্জের আড়াইহাজারে শাহজালাল মিয়া ৪৫. রুপগঞ্জে শাহজাহান মিয়া ৪৬. নীলফামারীর ডোমারে আব্দুর রাজ্জাক বসুনিয়া ৪৭. লক্ষ্মীপুর সদরে একেএম সালাহউদ্দিন টিপু ৪৮. রায়পুর আলতাফ হোসেন মাস্টার ৪৯. রামগতিতে আব্দুল ওয়াহেদ ৫০. রামগঞ্জে আ ক ম রুহুল আমিন ৫১. লালমনিরহাট কালিগঞ্জে মাহবুবুজ্জামান ৫২. সিলেটের বিয়ানীবাজারে বীর মুক্তিযোদ্ধা আতাউর রহমান খান ৫৩. ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদরে মো. জাহাঙ্গীর আলম ৫৪. কসবায় আনিসুল হক ভুঁইয়া।
বিএনপির বিজয়ী ১৩ জন
বিএনপির বিজয়ীরা হলেন, ১. কক্সবাজারের উখিয়ায় সরোয়ার জাহান চৌধুরী ২. রাঙামাটির লংগদুতে তোফাজ্জল হোসেন ৩. ময়মনসিংহের ত্রিশালে জয়নুল আবেদিন ৪. সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে হারুন উর রশিদ ৫. তাহিরপুরে কামরুজ্জামান কামরুল (বিদ্রোহী) ৬. ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে আবু আসিফ আহমেদ ৭. দিনাজপুরের বিরলে আ ন ম বজলুর রশিদ কালু ৮. হাকিমপুরে আব্বাস হোসেন মন্ডল ৯. পার্বতীপুরে মো. আমিনুল ইসলাম ১০. বগুড়া সদরে আলী আসগর তালুকদার হেনা ১১. নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁও আজহারুল ইসলাম মান্না ১২. হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে শেখ বশির আহমেদ ১৩. নরসিংদী সদরে আলহাজ্ব মনজুর এলাহী।
জামায়াতের বিজয়ী ৩ জন
জামায়াতের বিজয়ী হলেন,১. গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে মাজেদুর রহমান ২. রাজশাহীর পবায় মোকবুল হুসাইন ৩. কক্সবাজার সদরে জিএম রহিমউল্লাহ
অন্যান্য বিজয়ী ৩ জন
অন্যান্যর মধ্যে বিজয়ী হয়েছেন ১. খাগড়াছড়ির দিঘিনালায় ইউপিডিএফের অমল চাকমা ২.রাঙামাটির সদরে জনসংহতি সমিতির-জেএসএস করুণকান্তি চাকমা ৩. বিলাইছড়িতে জেএসএস’র শুভ মঙ্গল চাকমা
