জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

ঝর্না আর পাহাড়ে হারিয়ে যাওয়া

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০১৪, ১৮:২৪
অদেখাকে দেখা আর অজানাকে জানার তীব্র বাসনা জেগেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের একঝাঁক তরুণ-তরুণীর মনে। বিকেল চারটায় সবাই বিভাগের সামনে উপস্থিত। গাড়ি ছাড়বে পাঁচটায়। সবার চেহারাতেই যেন একটা আনন্দের ছাপ। সবুজে ঢাকা ক্যাম্পাসকে পিছনে রেখে বাস ছুটেছে কমলাপুর রেল স্টেশনের দিকে। গাড়ি থেকে নেমে আমরা ট্রেনে উঠলাম। আশেপাশে লোকজন আমাদের দিকে আড় চোখে বার বার তাকাচ্ছে। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর ট্রেন ছাড়ল রাত সাড়ে দশটায়। গন্তব্য অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি সীতাকুন্ড। ট্রেন চলছে ঝিক্ ঝিক্ ঝিক্ আমাদের আড্ডাও চলছে ট্রেনের তালে তালে। কখনো বদ্ধ গাঁয়ের পাশ দিয়ে, কখনো ধান ক্ষেতের মধ্যদিয়ে, কখনো বা বিশাল নদীর উপর দিয়ে, আবার কখনো বা মফস্বলের কাঁচা বাজারের মাঝ দিয়ে ঝক ঝক শব্দে সাঁ সাঁ করে ছুটে চলা। একটা বগি, ভিতরে আমরা ৫৬ জন। সারারাত হৈ-হুল্লোর, আড্ডা, গান। সকাল আটটায় আমরা পৌঁছালাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এবং দিগন্ত বিস্তারী গগনের সরল সৌহার্দ্যে গরিয়ান বীর চট্টলার উপকণ্ঠ সীতাকুন্ডে। সীতাকুন্ডের পূর্বে সারি সারি পাহাড় আর পশ্চিমে সুবিশাল সমুদ্র। সৃষ্টিকর্তা যেন নিজ হাতে সীতাকুন্ডকে প্রাকৃতিক রূপ বৈচিত্রে চমত্কারভাবে সাজিয়েছেন। যখন পাহাড়ের সামনে দাঁড়ালাম তখন আমদের কয়েকজন বললো এত বড় পাহাড়ে উঠা অসম্ভব! পর্যটকদের সুবিধার্থে উপরে ওঠার জন্য পাকা রাস্তা রয়েছে। আমরা ওপরে উঠতে থাকলাম। আর পরিচিত হতে থাকলাম বিভিন্ন প্রজাতির নতুন সব বৃক্ষরাজির সাথে। গর্জন, ধামার, ডেউটা, নাগালীঙ্গম ও হলুদ গুটগুটিয়া। তাছাড়া সারি সারিভাবে সাজানো জয়তুন বৃক্ষ, বাঁশপাতা, ভেষজপাতাসহ বিভিন্ন প্রজাতির বিলুপ্ত প্রায় ফুল, ফল ও ঔষধি গাছের চারা। শালিক, টিয়া, ময়না ও শ্যামা পাখির কিচির-মিচির আমাদের মুগ্ধ করেছিল। পরিবেশটা সত্যি অসাধারণ দূরে সমুদ্র দেখা যাচ্ছে আর চারদিকে যেন পাহাড়ের ঢেউ খেলা করছে। লবণাক্ষ পাহাড়ে গিয়ে আমরা আরো অবাক হলাম। লবণাক্ষ মন্দিরের ভেতরে জমে থাকা পানির ভেতর থেকে বুঁদ বুঁদ করে গ্যাস নির্গত হচ্ছে। আগুনের ছোঁয়া পাওয়ার সাথে সাথে দাউ করে জ্বলে উঠছে গ্যাস!