বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কার্যকর এবং শক্তিশালী করার জন্য প্রধান দুই দলের মধ্যে আবারো সংলাপ এবং সমঝোতার তাগিদ দেয়া হয়েছে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত সেমিনার থেকে। এ সেমিনারে বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা, সহিংসতা এবং মানবাধিকার প্রতিটি ইস্যুতে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি’র পাল্টাপাল্টি বক্তব্য শোনার পর সেমিনারের সভাপতি মানবাধিকার বিষয়ক ব্রিটিশ পার্লামেন্টারি গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান লর্ড অ্যাভেবেরি বলেন, বাংলাদেশে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দরকার। তবে সে নির্বাচনের আগে সব দলের কাছে গ্রহণযোগ্য হয় এমন একটি পন্থা খুঁজে বের করতে হবে। গত সোমবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টের একটি কমিটি হলে ‘বাংলাদেশের ভবিষ্যত্ ঃ শান্তি, গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং আইনের শাসন’ শীর্ষক এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে আওয়ামী লীগের পক্ষে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, অর্থ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, সংসদ সদস্য তারানা হালিম এবং বীর বাহাদুর। বিএনপি’র পক্ষে ছিলেন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা সাবিউদ্দিন চৌধুরী, পিয়াস করিম ও এডভোকেট আসাদুজ্জামান। গত ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বাংলাদেশের প্রধান দুটি দলের প্রতিনিধিদের এটাই প্রথম মুখোমুখি অবস্থান। অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন ডিম পিটজপেট্রিক এমপি, সংখ্যালঘু অধিকার আন্দোলনের নেতা মিহির সরকার অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের আব্বাস ফায়েজ, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ব্রাস এডাম।
সূচনা বক্তব্যে এইচ টি ইমাম বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের সংবিধান অনুয়ায়ী নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে সংলাপের জন্য বিএনপিকে বার বার আহবান জানানো হলেও তাতে তারা সাড়া দেননি। তারা নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করে নির্বাচন বর্জন করেছিলেন। কিন্তু তারা ঠিকই নির্বাচন কমিশনের অধীনে উপজেলা নির্বাচন করছেন। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীন। উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি’র ভাল ফলাফলই তার প্রমাণ। বাংলাদেশ খুব সুন্দরভাবে চলছে বলেও তিনি দাবি করেন।
সাবিউদ্দিন চৌধুরী এইচ টি ইমামের বক্তব্যকে অসত্য দাবি করে বলেন, বাংলাদেশে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অর্ধেকের বেশি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা জয়ী হয়েছে। ৪১টি ভোটকেন্দ্রে কোনো ভোটই পড়েনি। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন সরকারের আজ্ঞাবহ হয়ে কাজ করছে। বিরোধীদের দমনের উদাহরণ দিয়ে সাবিউদ্দিন বলেন, ২৯ ডিসেম্বর বিরোধী দলীয় নেত্রী যে গণতন্ত্র শোভাযাত্রার ডাক দিয়েছিলেন সে আন্দোলনকে ব্যর্থ করার জন্য সরকার পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি দলীয় কর্মীদের দিয়ে গুলি চালিয়েছে। খালেদা জিয়াকে তার বাসবভন থেকে বের হতে দেয়া হয়নি।
সেমিনারে র্যাবের আচরণ, বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, আন্দোলন দমনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়াবাড়ি- এসব বিষয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেন মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা। মানবাধিকার রক্ষায় বাংলাদেশের সরকারগুলো ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হচ্ছে বলে তারা মন্তব্য করেন। তারা বোমাবাজি এবং সহিংসতার ঘটনায় কোনো প্রকারের তদন্ত ছাড়া বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের অভিযুক্ত করা হচ্ছে বলে মতপ্রকাশ করেন।
ড. মশিউর রহমান মানবাধিকার সংগঠনগুলোর এমন দাবি ঠিক নয় দাবি করে প্রতিবেদন প্রকাশে উভয় পক্ষের মতামত যাচাইয়ের জন্য মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতি আহবান জানান।
সাংসদ তারানা হালিম মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, বাংলাদেশে সরকারি দলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা হচ্ছে, তাদের হত্যা করা হচ্ছে। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ যাচ্ছে পুলিশের। কিন্তু মানবাধিকার সংগঠনগুলো এদের মানবাধিকার বিষয়ে কিছুই বলে না।
পিয়াস করিম বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে এ দাবি মিথ্যা। তিনি গণতন্ত্র রক্ষার জন্য একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন জরুরি বলে মত দেন।
