অর্থনৈতিক উন্নয়ন ছাড়া নারীর সামগ্রিক ক্ষমতায়ন সম্ভব নয়

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০১৪, ২১:৪৯
দক্ষিণ এশিয়ার নারী উদ্যোক্তাদের সিম্পোজিয়ামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বলেছেন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ছাড়া নারীর সামগ্রিক ক্ষমতায়ন সম্ভব নয়। বাংলাদেশ সরকার নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের পাশাপাশি নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করছে। তার মধ্যে আছে নারী উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করা, নারী উদ্যোক্তাদের উত্পাদিত পণ্য বাজারজাতকরণে সরকারের সহযোগিতা এবং ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা। মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে তিন দিনব্যাপী সিম্পোজিয়ামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস ও এশিয়া ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এই সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করে। সিম্পোজিয়ামে আরো বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা ও এশিয়া ফাউন্ডেশনের বাংলাদেশ প্রতিনিধি হাসান মজুমদার, বাংলাদেশ ফেডারেশন অব উইমেনস এন্টারপ্রেনার্স-এর প্রেসিডেন্ট রোকেয়া আফজাল রহমান প্রমুখ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশের নারী উদ্যোক্তা লুনা শামসুদ্দোহা। প্রতিমন্ত্রী বলেন, নারীর আয় মানেই হলো পরিবারে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাওয়া। একমাত্র নারীরা তাদের আয়ের বেশিরভাগ অংশ তাদের পরিবার, সমাজ ও স্বাস্থ্য সেবায় ব্যয় করে। তিনি বলেন, বাংলাদেশই একমাত্র দেশ একই সঙ্গে যার প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলীয় নেত্রী ও স্পিকার নারী। ড্যান মজীনা বলেন, নারী হচ্ছে পরিবর্তনের অপরিহার্য প্রভাবক। নারী উদ্যোক্তাদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, নারী উদ্যোক্তারা এমন একজন ব্যক্তি, যে নারী শুধু তার নিজের জন্য নয়, তার পরিবার, জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন জীবন গড়ে তুলতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। একজন নারী তার পরিবার, সমাজ ও জাতির মেরুদণ্ড। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার যেখানেই আমি গিয়েছি, সেখানেই দেখেছি নারীর ক্ষমতা। উন্নয়ন ও প্রগতি নারী দ্বারা চালিত হয়। হাসান মজুমদার বলেন, নারীর এগিয়ে যাওয়ার পেছনে সবদেশেই বৈষম্য কাজ করে। কিন্তু সেই বৈষম্যকে উপেক্ষা করে দক্ষিণ এশিয়ার নারীরা ক্রমাগতই এগিয়ে যাচ্ছে। এই সিম্পোজিয়াম থেকে তারা তাদের কাজের পরিধি আরো বাড়াতে পারবে। রোকেয়া আফজাল রহমান নারীদের এগিয়ে যাওয়ার পথে বৈষম্যের কথা তুলে ধরে বলেন, ঋণ নিতে কিংবা নারীদের উত্পাদিত পণ্য বাজারজাত করতে অনেক বাধার সম্মুখীন হতে হয়। এর প্রধান কারণ হচ্ছে ধর্মীয় গোড়ামি। তবে এদেশের নারীরা সেইসব বাধা পেরিয়ে নিজেদের উদ্যোগে উদ্যোক্তা হিসেবে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারছেন। সিম্পোজিয়ামে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার সাতটি দেশের প্রায় ৪৬ জন নারী শিল্পোদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করেন। নারী উদ্যোক্তারা তাদের পরস্পরের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময়, বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপন, নারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি করা, পলিসি ও রেগুলেশন প্রণয়ন প্রভৃতি বিষয়ে আলোচনা করবেন। সিম্পোজিয়ামে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, মিয়ানমার, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা’র একাধিক প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। সিম্পোজিয়ামের আজ দ্বিতীয় দিনে উদ্যোক্তারা তাদের উত্পাদিত পণ্য প্রদর্শনী এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন নারী শিল্পোদ্যোক্তাদের বিজনেস স্পট পরিদর্শন করবেন।