সেমিনারে বক্তারা
নির্বাচন কমিশন বা দুর্নীতি দমন কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোতে যোগ্য লোকের প্রয়োজন। কমিশনগুলোতে যোগ্য লোকের অবস্থান নিশ্চিত না করতে পারলে প্রকল্প অকার্যকর হয়ে পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু হেনা। মঙ্গলবার সেগুনবাগিচায় দুদকের সম্মেলন কক্ষে দুর্নীতি প্রতিরোধ সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত ‘রাজনৈতিক ঐক্য ও জবাবদিহিতামূলক প্রশাসন : দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধের প্রধান নিয়ামক’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আবু হেনা বলেন, নির্বাচন কমিশন বা দুদকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর করতে হলে শীর্ষ পর্যায়ে যোগ্য লোকের নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। প্রচলিত আইনের মধ্যে থেকেই এসব প্রতিষ্ঠানকে বেশি কার্যকর করা সম্ভব।
বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে ইঙ্গিত করে সাবেক এই সিইসি বলেন, সার্চ কমিটি গঠন করলেই হয় না। যে সার্চ কমিটি যোগ্য লোক খুঁজবে, সেই কমিটিতে যোগ্য লোক থাকা চাই। তাহলে যেকোনো কমিশন শক্তিশালী হবে।
তিনি আরো বলেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক ক্ষমতার কাছে জিম্মি হয়ে আছে। রাজনীতিবিদরা আমাদের দেশের সব প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করে। রাজনীতিবিদরা সঠিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী না হলে দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধ সম্ভব নয়।
বৈশাখী টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক মনজুরুল আহসান বুলবুলের সঞ্চালনায় ও দুদক চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামানের সভাপতিত্বে সেমিনারে দুদক কমিশনার মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু, ড. নাসিরউদ্দীন আহমেদ, সচিব মো. ফয়জুর রহমান চৌধুরী, এমপি মমতাজ বেগম, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান, নাট্যকার মামুনুর রশীদ, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ওসমান ফারুক, একাত্তর টিভির এডিটর ইন চিফ মোজাম্মেল বাবু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
দুদক চেয়ারম্যান বদিউজ্জামান টিআইবির জরিপের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠানের জরিপে বলা হয়েছে, দুদকের ওপর মাত্র ৮ শতাংশ মানুষের আস্থা আছে। এটা দুঃখজনক। তবে জনগণের আস্থা অর্জনে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’
এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি আনিসুল হক বলেন, সাধারণ মানুষের ধারণা সাবেক মন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির যে অনুসন্ধান চলছে তা থেকে তারা হয়তো রেহাই পেয়ে যাবেন। সাধারণ মানুষের এ ধারণা পাল্টাতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে নিরপেক্ষভাবে তাদের কাজ করে যেতে হবে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, ‘প্রশাসন সম্পূর্ণরূপে দলীয়করণ হয়ে গেছে। নিয়োগ-বদলি-পদোন্নতি-পদাবনতি এ সব প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিয়ম অনুসারে না হলে প্রশাসন কখনো দলীয়করণমুক্ত হতে পারবে না।’
সংবিধান বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার আমীর-উল-ইসলাম বলেন, সমাজে ন্যায় বিচার বলে কিছু নেই। কমিশনের শক্তিও সীমিত।
এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ বলেন, ‘পত্রিকাতে ভুল সংবাদ ছাপা হলে অনেক সময় দেখা যায় সরকার তার প্রতিবাদ জানায়। তবে বাকি সত্য সংবাদগুলোর জন্য সরকার তেমন কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করে না। যারা রাজনীতি করেন, তারা না চাইলে কিছুই হবে না।’
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে বর্তমান সরকারকে কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। দুদককে শক্তিশালী করতে পারলে দুর্নীতি অনেকাংশে কমবে।
পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান ইকরাম আহমেদ বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। প্রতিটি মানুষের জন্য সুশিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।’
সিপিবি’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, দেশের প্রধান দুই দলের মধ্যে আর কোন ঐক্য না থাকলেও একটি বিষয়ে ঐক্য আছে, তা হলো লুটপাটের ঐক্য। এর কারণ হলো, তারা দুর্নীতিবাজদের কাছে জিম্মি।’
সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে হলফনামা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। কিন্তু এখন তা চরিত্র হনন নামায় পরিণত হয়েছে।’
একাত্তর টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু বলেন, দুদক আইডেন্টিফাই করে আর গণমাধ্যম তা বড় আকারে তুলে ধরে। দুদক আর গণমাধ্যম একে অন্যের সহায়ক বলে তিনি জানান।
বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুক বলেন, সাংবিধানিক প্রতিটি প্রতিষ্ঠান প্রশ্নবিদ্ধ। সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে দুদক কোন পক্ষ নিচ্ছে কি না তা নিয়েও জনগণের মনে প্রশ্ন আছে।
