নিহতদের পরিবার প্রতি ৫৭ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০১৪, ২১:৪৯
সাভারের রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেক শ্রমিকের পরিবারকে ৫৭ লাখ ৬১ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক শ্রমিক অধিকার সংগঠন ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিল। শ্রমিকদের ভবিষ্যত্ সম্ভাব্য আয়ের ক্ষতি ও দু:খ-দুর্দশা বিবেচনায় নিয়ে ক্ষতিপূরণের এই অর্থ ঠিক করা হয়েছে। সেই সঙ্গে আহত শ্রমিকদের ক্ষতির ক্যাটাগরি বিবেচনায় নিয়ে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবি জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে এই দাবি তোলা হয়। রানা প্লাজা ধসের এক বছর পূর্তির প্রাক্কালে এ সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিলের মহাসচিব রায় রমেশ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। সংগঠনের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খানসহ নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। নজরুল ইসলাম খান মনে করেন, এই দাবি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) নির্ধারিত মান বিবেচনায় ঠিক করা হয়েছে। শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল (বর্তমানে লেফটেনেন্ট জেনারেল) হাসান সারওয়ার্দির নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়। গঠিত কমিটি নিহতদের প্রত্যেককে প্রায় ১৪ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্য ইতিমধ্যে সুপারিশ করে একটি প্রতিবেদন দাখিল করে। তবে ইন্ডাস্ট্রিঅল এই সুপারিশের সঙ্গে একমত নয় বলে জানান রায় রমেশ। সাংবাদিক সম্মেলনে রানা প্লাজার গার্মেন্টস শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণে ওইসব কারখানার ক্রেতারা এগিয়ে আসছে না বলে অভিযোগ তোলা হয়। শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের লক্ষ্যে আইএলও ও ইন্ডাস্ট্রিঅল-এর উদ্যোগে ৪ কোটি মার্কিন ডলারের একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে। কিন্তু এতে বেশিরভাগ ক্রেতাই অংশগ্রহণ করেনি। এই তহবিলে বায়ারের পাশাপাশি সরকার ও শিল্প মালিকদেরও অর্থায়ন করার আহ্বান জানানো হয়। ক্ষতিপূরণ প্রদানে বায়ারদের উপর চাপ সৃষ্টি করতে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক শ্রমিক অধিকার সংগঠন ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে গার্মেন্টস শিল্পে ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার, অগ্নি ও ভবন দুর্ঘটনা রোধে সমন্বিত পদক্ষেপ নেয়া ও শ্রমিকদের বাঁচার মত মজুরি দেয়ার আহ্বান জানানো হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আমিরুল হক আমিন উপস্থিত ছিলেন।