শোবিজ জগতে তার পথচলা দীর্ঘ সময়ের। শুধু মডেলিং ও অভিনয় নয়, উপস্থাপনাতেও ফারাহ রুমা শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় অভিনয় করেন চলচ্চিত্রেও। আর বিশেষ দিন মানেই তার দর্শক চাহিদা ব্যাপক। জনপ্রিয় এই অভিনেত্রীকে নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন। লিখেছেন রিয়াদ খন্দকার ও ছবি তুলেছেন সাফাওয়াত খান সাফু
অভিনয় ক্যারিয়ারের শুরু থেকে তিনি নিজের একটা দর্শন মেনে পথ চলছেন। আর তা হলো অনেক বেশি কাজ করার চেয়ে একটু কম কাজ করবেন। সংখ্যার চেয়ে তিনি কাজের মানের দিকে বেশি নজর দেন। এর ফলে কাজ নিয়ে কখনও তার মাঝে কোনো অস্থিরতা দেখা যায়নি। ফারাহ রুমার ভাষ্যে, ‘আমি কখনও এমনটি চাইনি যে, আমাকে অনেক অনেক নাটকে অভিনয় করতে হবে; সবসময় টিভিপর্দায় নিজেকে দেখতে হবে, এই ভাবনা আমাকে কখনও তাড়া করেনি। আমি আসলে নিজেকে দেখতে চেয়েছি ভালো কাজের একজন অভিনেত্রী হিসেবে।’ অভিনয় ও মডেলিং দুই এরিনাতে কাজ করে সফল হয়েছেন ফারাহ রুমা। কাজের প্রতি শ্রদ্ধা আর সময়ের ব্যাপারে তার সচেতনতাই তাকে এতদূর নিয়ে এসেছে। নাটকের কোনো স্ক্রিপ্ট হাতে এলে তখন কাজটা নিয়ে স্বপ্ন কেমন থাকে জানতে চাইলে ফারাহ রুমা বলেন, ‘নতুন কাজ হাতে এলে অবশ্যই তা নিয়ে একটা স্বপ্ন তৈরি হয়। তবে আমাদের দেশে মিডিয়ায় নিজের মতো করে কাজ করতে চাইলেও তা সম্ভব হয় না। তারপরও চরিত্র নিয়ে ভাবি। শুটিংয়ের সময় চরিত্রটা নিজের মধ্যে লালন করে ভালো কিছু করার চেষ্টা করি।’ কাজ নিয়ে স্বপ্ন পূরণ না হলে তা কীভাবে মেনে নেন? জবাবে রুমা মৃদু হেসে বলেন, ‘সব কাজেই যে অতৃপ্তি থাকে তা নয়। কিছু কিছু নাটকে কাজ করে আত্মতৃপ্তি পেয়েছি। কোনো কাজ করতে গিয়ে যদি বুঝতে পারি যে, এখানে আত্মতৃপ্তির জায়গা নেই, তখন ওভারঅল কাজ করে চলে আসি। আর অতৃপ্তির জায়গাটা আমার কিছুটা বেশি, কারণ কাজ নিয়ে আমার স্বপ্নের জায়গাটা অন্যরকম। যে রকম স্বপ্ন নিয়ে কাজ করতে চাই, তা হয়তো নানা কারণে পারি না।’ দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে মিডিয়ায় পদচারণা অভিনেত্রী ফারাহ রুমার। ফারাহ রুমা ক্যারিয়ারের শুরুতে নৃত্যশিল্পী হিসেবে কাজ করেন অনেকদিন। তারপর বিজ্ঞাপনচিত্র ও র্যাম্প মডেলিং তাকে পরিচিতি এনে দেয়। বর্তমানে তিনি পুরোদমে অভিনয়শিল্পী। বিশেষ দিনগুলোতে রুমার দর্শক চাহিদা একটু বেশিই বটে। গেল ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে তার অভিনীত ৪-৫টি নাটক বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচার হয়েছে। এরমধ্যে তার অভিনীত দুটি নাটক ‘টানাপোড়েন’ এবং ‘অবাস্তব বাস্তব’ দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় বছর ঘুরে আসছে আবার ঈদ। সে উপলক্ষে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। এরই মধ্যে বেশকিছু নাটকে অভিনয়ের ব্যাপারটি চূড়ান্ত হয়েছে তার। তবে এখনও শুটিং শুরু করেননি। ফারাহ রুমা বলেন, ‘প্রতি বছরই ঈদকে ঘিরে খুব ব্যস্ত সময় কাটে। দেখা যায় ঈদের বাকি আর অল্প কিছুদিন, সে সময়ও শুটিংয়ের শিডিউল পড়ে যায়। তাই এবার একটু আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি। তবুও শেষ পর্যন্ত হয়তো এ ব্যস্ততা চলতে থাকবে।’ ছোটপর্দার পাশাপাশি বড়পর্দায়ও অভিনয় করেছেন ফারাহ রুমা। তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র ‘পুত্র এখন পয়সাওয়ালা’। শিগগির ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় বাণিজ্যিক ছবিতে অভিনয় করতে যাচ্ছেন জনপ্রিয় এ অভিনেত্রী। এ প্রসঙ্গে ফারাহ রুমা বলেন, ‘এ মাসেই আমি নতুন চলচ্চিত্রের কাজ শুরু করব। তবে শুটিং শুরু না হাওয়া পর্যন্ত আমি ছবিটি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলতে চাই না।’ ফারাহ রুমা ছোটপর্দায় প্রথম অভিনয় করেন ২০০১ সালে আফজাল হোসেনের বিপরীতে টেলিফিল্ম ‘সাঁকো’তে। পরবর্তীতে অভিনয় করেন অসংখ্য মানসম্পন্ন নাটকে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো হলো ‘সম্পূর্ণ রঙিন’, ‘অনুরাগ’, ‘শ্যাওলা’, ‘প্রত্ননারী’, ‘সিন্ধুক’, ‘নগরে দৈত্য’, ‘বায়োস্কোপ’, ‘শুভদৃষ্টি’, ‘নদিয়া’, ‘ফ্রেমে বাঁধানো ফ্রেম’, ‘সম্পূর্ণ রঙিন’, ‘৭৩ নম্বর’, ‘একটা কিনলে একটা ফ্রি’ প্রভৃতি। অভিনয়ের বাইরেও ফারাহ রুমাকে সপ্রতিভ ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে উপস্থাপনায়। তার প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় এনটিভির ‘আমারও গাইতে ইচ্ছে হলো’ অনুষ্ঠানটি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অভিনয়টাকে তিনি শিল্প হিসেবেই দেখেন। তার ভাষ্যে, ‘অভিনয়টা সাধারণ কোনো কাজ নয়। এটি একটি শিল্প। আর এই শিল্প তিলে তিলে গড়ে তোলে অভিনয়শিল্পীরাই। তাই শিল্পের মান রক্ষায় অভিনয়শিল্পীদের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হয়।’
