ঢালিউড

দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০১৪, ১৯:৫২
মডেলিংয়ের পাশাপাশি অভিনয়েও নিজের প্রতিভার প্রকাশ ঘটিয়ে চলছেন রুহী। র্যাম্পে ক্যাটওয়াক করে যেমন উপস্থিত সবার বাহবা নেন, তেমনি ভালো অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের মনও জয় করেছেন। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে তার প্রথম চলচ্চিত্র ‘৭১-এর সংগ্রাম’। তাকে নিয়ে লিখেছেন অজেয় চৌধুরী প্রতিটি তারকার মিডিয়ায় সাথে সখ্যতা হওয়ার একটা গল্প থাকে। মডেল অভিনেত্রী রুহী সেই গল্পটা অন্যদের চেয়ে কিছুটা আলাদা বললে ভুল হবে না। তার ভাষ্যে, ‘তখন সবেমাত্র আমি এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছি। আমাদের ছবি তোলার একটা দামি ক্যামেরা ছিল। সেটা দিয়ে ভালো ছবি তোলা যাচ্ছিল না বলে আমাদের পরিচিতি ফটোগ্রাফার ফারুক হেলাল ভাইয়ের কাছে যাই। তিনি আড়ংয়ের ফ্যাশন ডিজাইনার ছিলেন এবং ছবিও তুলতেন। ক্যামেরা ঠিক করে দিয়ে তিনি আমাকে বললেন, ‘তুমি মডেলিং করো, ভালো করবে।’ তার কথা শুনে বাসায় এসে চিন্তা করলাম মডেলিং করলে ভালোই তো হয়। কিছুদিন পর তার কাছে মডেলিংয়ের জন্য প্রথম ফটোসেশন করলাম। এরপর তিনি আমাকে বাংলার মেলার এমদাদ ভাইয়ের কাছে পাঠান। এমদাদ ভাই বৈশাখের পোশাকের জন্য আমাকে কাজ দিলেন। সেই থেকে শুরু। এরপর র্যাম্পেও কাজ শুরু হয় এমদাদ ভাইয়ের হাত ধরেই। ২০০৬ সালে জন্টা ক্লাবের ফ্যাশন শো ছিল আমার র্যাম্পের ক্যাটওয়াকের প্রথম পাঠশালা। প্রথম দিকে আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন এমদাদ হক, বিশ্বজিত্ সরকার ও ডেভিট বারিকদার। তাদের কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ।’ ফ্যাশন হাউজ ও প্রিন্ট মিডিয়ার কাজের পাশাপাশি রুহী বেশকিছু মানসম্পন্ন বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেন। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—ভেন মোবাইল ফোন, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড, প্যারাসুট অ্যাডভান্স হেয়ার অয়েল, ডাচ বাংলা ব্যাংক, রুচি আচার, গ্রামীণ ফোন ইত্যাদি। মডেলিংয়ের পাশাপাশি রুহী অভিনয়েও নাম লিখিয়েছেন টিভি মিডিয়ায়। ইতোমধ্যে তার অভিনীত বেশ কিছু এক খণ্ড ও ধারাবাহিক নাটক প্রচার হয়েছে বিভিন্ন চ্যানেলে। এরমধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো—রবীন্দ্রনাথের গল্প নিয়ে নির্মিত আহমেদ সুস্ময়ের ‘অপরিচিতা’ এবং শহীদুজ্জামান সেলিমের পরিচালনায় ধারাবাহিক ‘বৃত্তের ভেতর একা’ প্রভৃতি। এরপর ভালো কিছু নির্মাতাদের সাথে কাজ করার সুযোগ ঘটে তার। তাদের মধ্যে গিয়াসউদ্দিন সেলিম, আবু সাইয়িদ, ওয়াহিদুজ্জামান ডায়মন্ডসহ অনেকেই রয়েছেন। ভালো পরিচালকদের সাথে কাজ করার ফলে রুহীর ভালো চরিত্রে অভিনয়ের প্রতি আকর্ষণ তৈরি হয়। তাই মঞ্জু সরকারের গল্প অবলম্বনে সেলিমের পরিচালনায় ‘অবগুণ্ঠন’-এ অভিনয় করেন। সেখানে গুলবাহার চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসিত হন। রুহীর ভাষ্যে, ‘চ্যানেল আইতে প্রচারিত ওই নাটকের চরিত্রটি আমার জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিল। তখন থেকে সবাই আমাকে অভিনেত্রী হিসেবে চেনা শুরু করল।’ এরপর মাহমুদুল হাসান টিপুর পরিচালনায় ‘পাখিপুরান’ শিরোনামে পরিবেশ বিষয়ক একটি টেলিফিল্মে কাজ করেন। সেখানে তার চরিত্রটি ছিল পাখি সম্রাজ্ঞী পিউকাহা। নাটকটি দেশ টিভিতে প্রচার হয়। পরবর্তীতে ওয়াহিদুজ্জামান ডায়মন্ডের পরিচালনায় ‘মঙ্গলাকাঙ্ক্ষী’তে অভিনয় করেন তিনি। গল্পটা ছিল বউ-শাশুড়ির মধুর সম্পর্কের। ঢাকা শহরে বেড়ে ওঠা এই মডেল কন্যার স্বপ্ন ফ্যাশন ডিজাইনার হওয়ার। তাই তো তিনি শান্তা মারিয়াম থেকে ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ের ওপর কোর্স করেছেন। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে রুহীর প্রথম চলচ্চিত্র ‘৭১-এর সংগ্রাম’। মনসুর আলীর চিত্রনাট্য, পরিচালনা ও প্রযোজনায় এই ছবিতে অভিনয় করেছেন হলিউড, বলিউড ও বাংলাদেশের অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। চলচ্চিত্রের গল্পে দেখা যাবে, একজন ব্রিটিশ বাংলাদেশি নাগরিক, যিনি ৭১’র মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশে অবস্থান করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের ৪২ বছর পর প্রথম কোনো সাংবাদিকের সামনে নিজের সেই অভিজ্ঞতার কথা ব্যক্ত করেছেন। এই ছবিতে ব্রিটিশ নাগরিকের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ভারতের জননন্দিত অভিনেতা অনুপম খের এবং সাংবাদিকের চরিত্রে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় ইতালিয়ান নায়িকা আজিয়া আরজেনটো। এই ছবির শতকরা ৯০ ভাগ শুটিং হয়েছে বাংলাদেশের সিলেট ও ঢাকার বিভিন্ন লোকেশনে এবং বাকিটা লন্ডনে। মনসুর আলীর এটি প্রথম চলচ্চিত্র হলেও তার প্রস্তুতি কিন্তু বিশাল। মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র বলেই এই স্বাধীনতার মাসে বাংলাদেশে মুক্তি পাচ্ছে চলচ্চিত্রটি। গত ২৮ মার্চ থেকে সারাদেশের সিনেমা হলগুলোতে মুক্তি পায় ছবিটি। আর আগামী জুন মাসে ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হবে লন্ডনে। এই ছবিতে রুহী ভালো অভিনয়ের জন্য আলোচনায় এসেছেন। এ ছবিতে অভিনয় প্রসঙ্গে রুহী বলেন, ‘আমার প্রথম চলচ্চিত্র। লন্ডনের পরিচালক মনসুর আলী এই ছবিতে অভিনয়ের জন্য অডিশন নিয়ে আমাকে সিলেক্ট করেন। তার স্ক্রিপ্টটা খুবই ভালো ছিল। সেখানে কাজ করতে গিয়ে আমি চরিত্রের মধ্যে ঢুকে গিয়েছিলাম। মুক্তিযুদ্ধের গল্পের এ ছবিতে আমি একটি হিন্দু মেয়ে ‘আশা’র চরিত্রে অভিনয় করি। প্রোডাকশনটির অনেক ভ্যালু ছিল। হলিউড ও বলিউডের তারকারাও এখানে অভিনয় করেছে। আমাদের দেশের শিল্পীদের আন্তর্জাতিক প্লাটফর্মে নিয়ে গিয়ে একত্রে তিনি কাজটি করেছেন। যা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। এখন আমি বলতে পারব যে, আমি আন্তর্জাতিক মানের অভিনয়শিল্পী। এটা আমার জন্য সৌভাগ্যের এবং গর্বেরও। এতে অভিনয় করে আমি ভালোই সাড়া পাচ্ছি বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে। আশা করি আগামীতে আরও ভালো অভিনয় দর্শকদের উপহার দিতে পারব।’ তিনি আরও বলেন, ‘এরই মধ্যে আমি কলকাতায় দুটি ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পাই। এটা সংগ্রামে অভিনয়ে আগের ঘটনা। সেখানে প্রথম মহুয়া চক্রবর্তী পরিচালিত ‘গ্ল্যামার’ ছবিতে সাইন করি। আগামী ২০ এপ্রিল থেকে ওই ছবির শুটিং শুরু হবে। ওই পরিচালক ‘৭১-এর সংগ্রাম’ ছবির প্রিমিয়াম দেখতে ঢাকায় এসেছিলেন। ঢাকার এই চলচ্চিত্রের রেসপন্স দেখে তিনি খুব খুশি। এই দুটি ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ হওয়ায় নিজেকে আন্তর্জাতিক শিল্পী হিসেবে সবসময় দেখতে চাইব। ভালো কাজ করতে চাই যেন মানুষ আমাকে রুহী হিসেবে অন্যদের চেয়ে আলাদা করতে পারে।’ রুহী দর্শকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘এই চলচ্চিত্রটি অনেক সুন্দর। আমাদের পরিচয় ও মুক্তিযুদ্ধের গল্প নিয়ে নির্মিত, যা নতুন প্রজন্মের জানা দরকার। আমার প্রত্যাশা সবাই যেন পুরো পরিবার নিয়ে সিনেমাহলে গিয়ে ছবিটি দেখেন।’