চিলির উত্তর উপকূলে গত মঙ্গলবার রাতে ৮ দশমিক ২ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছে এবং এর ফলে সৃষ্ট সুনামি দেশটির উত্তরাঞ্চলে আঘাত হেনেছে। ভূমিকম্প ও সুনামিতে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পাঁচজন নিহত এবং অনেকে গুরুতর আহত হয়েছেন। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী স্থানীয় সময় রাত পৌনে নয়টায় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভূমিকম্পের উত্পত্তিস্থল পেরু সীমান্তের চিলির খনি বন্দর লিকুইকু থেকে ১শ’ কিলোমিটার উত্তরপশ্চিমে এবং সমুদ্রতলের ১২ দশমিক ৫ মাইল গভীরে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ভূমিকম্পের ফলে ২ দশমিক ৩ মিটার উচ্চতার ঢেউসহ এক বড় ধরনের সুনামি তৈরি হয়। চিলির নৌবাহিনী জানিয়েছে, ভূমিকম্পের ৪৫ মিনিটের মধ্যে সুনামির প্রথম বড় ঢেউটি আঘাত হানে। সুনামি সতর্কতা জারির পরপরই চিলির ভূমিকম্প উপদ্রুত উপকূলীয় এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়। সংশ্লিষ্ট এলাকায় জারি করা হয় জরুরি অবস্থা।
ভূমিকম্পের কারণে বিভিন্ন স্থানে ভূমিধস, দেওয়াল ধস, ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত, বিদ্যুত্ ও সড়ক বিচ্ছিন্ন এবং আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। তবে রাত হওয়ায় তাত্ক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানাতে পারেনি চিলি সরকার। দেশটির কর্তৃপক্ষ বলে, দেয়াল ধস ও হ্নদরোগে আক্রান্ত হয়ে ওই পাঁচজন মারা গেছেন। সরকার পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে স্বরাষ্টমন্ত্রী রডরিগো পেনাইলিল্লো জানান, উপকূলীয় এলাকায় উল্লেখ করার মতো কোনো ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ পাননি তারা। তবে ভূমিকম্পের সময় ঘটনার সুযোগ নিয়ে লিকুইকুয়ে জেল থেকে তিনশ’ বন্দি পালিয়ে গেছে।
ভূমিকম্পের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশান্ত মহাসাগরের তীরবর্তী লাতিন আমেরিকার সব দেশে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। পরে চিলি ও পেরু ছাড়া বাকি দেশগুলো থেকে সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। মঙ্গলবার গভীর রাতে দেশটির সরকার জানিয়েছিল, ভূমিকম্প পরবর্তী ছয় ঘন্টা ধরে সুনামি সতর্কতা বজায় থাকবে। উল্লেখ্য, কয়েক সপ্তাহ ধরে চিলির প্রধান তামা রপ্তানি বন্দর লকুইকু এলাকায় অস্বাভাবিক সংখ্যক ছোট মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ায় সংশ্লিষ্ট এলাকাটিতে উচ্চ সতর্কতা জারি করে রাখা হয়েছিল। ২০১০ সালে প্রশান্ত মহাসাগরের চিলির উপকূলে ৮ দশমিক ৮ মাত্রার একটি ভূমিকম্পের ফলে তৈরি হওয়া সুনামিতে মধ্য ও দক্ষিণ চিলির কয়েকটি শহর ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল এবং ওই বিপর্যয়ে ৫২৬ জন প্রাণ হারিয়েছিল।
