নবীনগরে ভরাট হচ্ছে পুকুর খাল বিল ও নদী হাওর

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০১৪, ২১:৩৫
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে একের পর এক পুকুর, খাল, বিল, হাওর বিল ও ফসলি কৃষিজমি ভরাট করে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছে সুবিধাবাদী একটি শ্রেণী। উক্ত হাওর বিলের এই কৃষিজমি বাঁচাতে সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী “তিতাস বাঁচাও, পরিবেশ বাঁচাও, নবীনগর বাঁচাও” শ্লে¬াগানে ওই হাওর বিলের অবৈধভাবে কৃষিজমি ভরাট বন্ধের দাবিতে গত ২৮ মার্চ থেকে মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদানসহ আন্দোলন করে আসলেও কোন ফল পাওয়া যায়নি। নবীনগর পৌর এলাকার বেশ কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী পুকুর গত কয়েক বছরের মধ্যে ভরাট হয়ে গেছে। যার মধ্যে রয়েছে পদ্ম পুকুর, শেখ বাড়ির পুকুর, হাসপাতাল পাড়ার দফাদারের পুকুর, জমিদার বাড়ির ২টি পুকুর, দানামিয়ার পুকুর উল্লেখযোগ্য। গত কিছুদিন আগে পৌর এলাকার ভোলাচং গ্রামে ৬ একরের প্রায় ২ শত বছরের গ্রাচীন কেটোবাবুর দীঘি নামে পরিচিত দীঘিটিও ভরাট হয় গেছে। নবীনগরের তিতাস নদী সংলগ্ন বগডহর হাওর বিলের ৩ একর ফসলী কৃষি জমির উপর আহম্মেদ প্রাইভেট হাসপাতাল নামে একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছে। গত ২৬ মার্চ বর্তমান সংসদ ফয়জুর রহমান বাদল হাসপাতালটি উদ্বোধন করে গেছেন। এ ব্যাপারে হাসপাতালের মালিক ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, “কৃষি জমিতে ভরাট করে আবাসিকে রূপান্তরের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদনসহ সরকারের সকল প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে কাজ করা হয়েছে”। এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ সাইফুল্লাহ্ জানান, “কোন ছাড়পত্র ছাড়া ফসলী জমি ভরাট করে হাসপাতাল বা যে কোন ধরনের প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তিনি বলেন, আহম্মেদ প্রাইভেট হাসপাতাল নামে আমাদের কাছে পরিবেশগত কোন ছাড়পত্র জমাই পড়েনি ”। এ ব্যাপারে এমপি ফয়জুর রহমান বাদল বলেন, “সাবেক এমপির অনুরোধে আমি যাই, কিন্তু ওই দিন বক্তব্যে পরিবেশ ও জনস্বার্থ বিরোধী যে কোন কর্মকাণ্ড আমি মেনে নেব না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি। তিতাস নদী ও হাওর বিলের কৃষিজমি বাঁচাতে এলাকাবাসীর আন্দোলনের সাথে আমি আছি থাকব”।