নওগাঁর মহাদেবপুরে তালপাতার হাতপাখা তৈরি করে জীবিকা নির্বাহের আশায় উপজেলার পাখা গ্রামের শতাধিক পরিবার বরাবরই বছরের এ সময় নিজেদেরকে পাখা তৈরির কাজে নিয়োজিত করেছেন। ওই গ্রামের প্রকৃত নাম ভালাইন হলেও বর্তমানে সকলের কাছে পাখা গ্রাম হিসেবেই পরিচিত। তালপাতার নানা ডিজাইনের হাতপাখা তৈরি ও বিক্রি করাই এ গ্রামের মানুষের অন্যতম পেশা। ওই গ্রামের গৃহবধূরা সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকেন তালপাতার নজরকাড়া হাতপাখা তৈরির কাজে। সেখানকার শতাধিক পরিবারের শত শত সদস্যর জীবন-জীবিকা নির্ভর করে তালপাতার তৈরি হাত পাখায়। প্রতি বাড়িতেই এ সময় চলে পাখা তৈরির কাজ।
এ সময়গুলোতে যেন কারো ফুরসত নেই। পাখা কারিগর আছমা জানান, বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ির অন্যদের সহায়তায় তিনি এখন পাখা তৈরিতে পারদর্শী হয়ে উঠেছেন। তালের পাতা মাপমত কাটা ও ছাঁটাই থেকে শুরু করে কয়েক ধাপে শেষ হয় পাখা তৈরির কাজ। পাখা তৈরির শেষ ধাপে রয়েছে সুতা দিয়ে বাঁধাই। আছমা জানায়, তিনি এখন প্রতিদিন প্রায় ১০০ পাখা প্রস্তুুত করতে পারেন। আছমার এখন প্রতিদিন গড় আয় হয় ২০০ টাকা। একটি পাখা তৈরি করতে ৫ টাকার উপরে খরচ হয়। সেই পাখা তারা ২ থেকে ৩ টাকা লাভে মহাজনদের কাছে বিক্রি করে দেন। মহাজনরা রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে ওই পাখা ১০ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি করেন।
