ফুটফুটে মেধাবী ছেলে তানিমকে দরিদ্র বাবা-মা ভর্তি করেছিলেন একটি ভালো কিন্ডারগার্টেন স্কুলে। ২০১০ সালে ১ম শ্রেণিতে ওঠে তানিম। মেধার স্বাক্ষর রেখে পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে সে। তখন সবে ৭ বছরে পা দিয়েছে তানিম। দুর্ভাগ্য তানিমের। পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয় সে। তানিমকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পর রেফার করা হয় ঢাকায়। দরিদ্র মা-বাবা চোখে সর্ষেফুল দেখতে থাকেন। বাড়ি-ভিটা বিক্রি করে ছুটে যান ঢাকায়। ছেলেকে ভর্তি করেন সাভারে অবস্থিত পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে (সিআরপি)। তাদের সহযোগিতা করেন জাতীয় প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা রেজাউল করিম বাবুল। বেশ কিছুদিন চিকিত্সা চলে তার। তবে সেরে ওঠেনি তানিম। প্রথমে কিছুটা উন্নতি হলেও পরে আবার সারা শরীর অবশ হয়ে আসে। হাঁটতে, বসতে, দাঁড়াতে পারে না সে। তানিমের বাবা রাজা মিয়া একজন ইলেক্ট্রিক মিস্ত্রী। মা মনিরা খাতুন গৃহিণী। পৌর শহরের চকপাড়ায় থাকেন তারা। ছেলেকে সুচিকিত্সা করানোর সামর্থ্য তাদের নেই। তবু সন্তানকে বাঁচানোর জন্য সহায়-সম্বল বিক্রি করে আজ তারা নিঃস্ব।
একসময়ে সুস্থ-সবল ছেলে এখন বিছানায় হামাগুড়ি দেয় আর বার বার পড়ে যায়। অসহায় মা নিরবে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে দেখেন এই করুণ দৃশ্য। দুচোখ বেয়ে ঝরে অশ্রু। তানিমের হাত-পায়ে শক্তি নেই, শরীর আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে। অসহায় মনিরা খাতুন বলেন, ‘আপনারা আমার সন্তানকে বাঁচান।’ ছেলের সুচিকিত্সায় তিনি সমাজের হূদয়বান ও ধনাঢ্য ব্যক্তিদের কাছে আর্থিক সহযোগিতা চান।
