আজ ৩ এপ্রিল। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়ান-সাটিয়াচুড়া নামক স্থানে মুক্তিযুদ্ধের ১ম প্রতিরোধ দিবস। ৪৩ বছর আগে ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক হানাদার বাহিনী ১ম প্রতিরোধ যুদ্ধের সম্মুখীন হয় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সংলগ্ন গোড়ান-সাটিয়াচড়া গ্রামে। এই প্রতিরোধ যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা, ইপিআর, পুলিশ ও নরনারীসহ ১০৬ জন শহীদ হন। স্বাধীনতার ৪৩ বছরেও রাজধানী ঢাকার বাইরে প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধের স্থান গোড়ান-সাটিয়াচড়া বদ্ধভূমিতে শহীদদের গণকবর সংরক্ষণ এবং তাদের স্মরণে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণ হয়নি।
১৯৭১ সালের ৭ই মার্চে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ ও নির্দেশমত টাঙ্গাইলের মুক্তিপাগল জনতা শক্তিশালী একটি সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে। সংগ্রাম পরিষদের অধিনায়ক ছিলেন সংগ্রামী নেতা জননেতা ফজলুর রহমান খান ফারুক,বর্তমান সংসদ সদস্য একাব্বর হোসেন ও বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বিরোত্তম। ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ পেয়ে টাঙ্গাইলের আপামর জনতা প্রতিরোধ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। স্থান হিসেবে বেছে নেন ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার গোড়ান-সাটিয়াচুড়া নামক স্থান। ২রা এপ্রিল মুক্তিপাগল জনতা ও মুক্তিযোদ্ধারা খবর পান পাকসেনারা এই রাস্তা দিয়ে গাড়িবহর নিয়ে টাঙ্গাইলের উদ্দেশে আসছে। গোড়ান-সাটিয়াচুড়া নামক স্থানে আসামাত্র চার দিক থেকে আক্রমণ শুরু হয়। ১০/১৫ টি লাইট মেশিন গান, ৫০/৬০ টি রাইফেল নিয়ে ৫০/৬০ জন ইপিআর ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রতিরোধ যুদ্ধে। এই প্রতিরোধ যুদ্ধে ৩ শতাধিক পাকবাহিনী হতাহত হয়। পাক সেনারা হেলিকপ্টারযোগে আক্রমণ করে মুক্তিযোদ্ধা, ইপিআর ও নারী-পুরুষকে হত্যা করে। জ্বালিয়ে -পুড়িয়ে দেয় শতশত ঘরবাড়ি। ৩রা এপ্রিল প্রতিরোধ যুদ্ধে ২৯ জন ইপিআর, মুক্তিযোদ্ধা, সাটিয়াচড়া গ্রামে ২০ জন, গোড়ান গ্রামে ২৪ জন, ইপিআর ও পুলিশ ২৯ জন, পাকুল্লা গ্রামে ৩ জনসহ মির্জাপুরের বিভিন্ন গ্রামে শতশত নিরীহ নারী-পুরুষ শহীদ হন। শহীদদের মধ্যে সুবেদার আব্দুল আজিজ, হাবিলদার আব্দুল খালেক, হাবিলদার খলিলুর, আব্দুল গফুর, মকবুল হোসেন ও ২৪ জন বীর ইপিআর। এছাড়া সাটিয়াচড়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক ও করটিয়া সা’দত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখার ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জুমারত আলী, মানিক, করিম বক্স, নূরজাহান, নঈম বক্স, আব্দুল হক, দুদু মিয়া, জয়নব বেগম, মিলি চৌধুরী, গোড়ান গ্রামের টেপু মিয়া, মেহেরুননেছা, বেনু মিয়া, আমেনা খাতুন, কহিনূর আক্তার, পাকুল্লা গ্রামের সেলিম, সৌরভ মিয়াসহ ৭৬ জন শহীদ হন।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার অধ্যাপক দুুর্লভ বিশ্বাস ও স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা একাব্বর হোসেন এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মীর এনায়েত হোসেন মন্টু বলেন, বর্তমান সরকার গোড়ান-সাটিয়াচুড়া প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধের স্থান সংরক্ষণ এবং মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। জেলা পরিষদের সহযোগিতায় ইতিমধ্যে ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে কমপ্লেক্স নির্মাণ শুরু হয়েছে।
