সংশোধিত এডিপি উত্থাপন হচ্ছে আজ এনইসি বৈঠক

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:১৮
এডিপির বরাদ্দ নিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীর মাঝে চলা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে আজ বৃহস্পতিবার সংশোধিত এডিপি উত্থাপিত হচ্ছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে। এ অবস্থায় চলমান জটিলতা নিরসনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকে তাকিয়ে আছেন এই দুই মন্ত্রী। এনইসি সভায় প্রধানমন্ত্রী নিজেই সংশোধিত এডিপির আকার চূড়ান্ত করবেন বলে জানা গেছে। অবশ্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বেশি বরাদ্দ চাইলেও অর্থ মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেয়া ৫৫ হাজার কোটি টাকায় হিসেব কষে একটি সারসংক্ষেপ তৈরি করেছে পরিকল্পনা কমিশন। এদিকে, চলতি (২০১৩-১৪) অর্থ-বছরের আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ৩৮ শতাংশ। প্রকল্প সাহায্য ব্যয় হয়েছে বরাদ্দের মাত্র ৩৫ শতাংশ। অন্যদিকে সরকারি বরাদ্দের অর্থ ব্যয় হয়েছে মাত্র ৪০ শতাংশ। নির্বাচনকে ঘিরে সহিংস রাজনৈতিক পরিস্থির কারণে উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন। টানাপোড়েনের জন্য রাজস্ব আদায়ের ঘাটতিও প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে। সার্বিক বিবেচনায় সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দ কমানোর প্রস্তাব করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে অনেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য এলাকার উন্নয়নে বাড়তি বরাদ্দ চেয়েছেন। বরাদ্দের বিষয়ে গেল কয়েক মাস ধরে পরিকল্পনা মন্ত্রী ও অর্থ মন্ত্রীর মধ্যে টানাপোড়ন চলে আসছে। বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর চাহিদা অনুসারে ৬২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ চায় পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল। অন্যদিকে রাজস্ব ঘাটতি ও বাস্তবায়ন সক্ষমতার ভিত্তিতে ৫৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিতে চায় অর্থ মন্ত্রণালয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেয়া ৫৫ হাজার কোটি টাকার আলোকে মন্ত্রণালয়গুলোর জন্য বরাদ্দের একটি সারসংক্ষেপ তৈরি করেছে পরিকল্পনা কমিশন। তাতে পরিবহন, বিদ্যুত্ ও শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। পরিবহন খাতে সর্বোচ্চ ৯ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা দেয়া হয়েছে। যা মোট বরাদ্দের ১৭ শতাংশ। বিদ্যুত্ খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাত হাজার ৮০৪ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। যা মোট বরাদ্দের ১৪ শতাংশ। শিক্ষা ও ধর্ম খাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে সাত হাজার ১৮৮ কোটি টাকা। যা মোট বরাদ্দের ১৩ শতাংশ। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেয়া ৫৫ হাজার কোটি টাকার বাইরে আরো সাত হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন মন্ত্রীরা। সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দের বাইরে কৃষি খাতে ৩০৫ কোটি, পল্ল¬ী উন্নয়ন ও সমবায় খাতে ২ হাজার ৩৮ কোটি এবং পানি সম্পদে ৭৩৩ কোটি অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন মন্ত্রীরা। পাশাপাশি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে ৪৩৫ কোটি, পরিবহনে ৯১৭ কোটি, শিক্ষা খাতে এক হাজার ১৫০ কোটি, স্বাস্থ্য খাতে ৭২ কোটি এবং ভৌত অবকাঠামো খাতে ১১০ কোটি টাকা বাড়তি অর্থ বরাদ্দের দাবি জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে মন্ত্রী-এমপিরা ৬২ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছেন। ২০১২-১৩ অর্থ-বছরের বাস্তবায়ন চিত্র: গেলো ২০১২-১৩ অর্থ-বছরের উন্নয়ন বরাদ্দের চিত্রে দেখা যায়, মূল এডিপিতে ১১৪১টি প্রকল্পের অনুকূলে ৫৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। ১৮৭টি নতুন প্রকল্পসহ সংশোধিত এডিপিতে মোট প্রকল্প সংখ্যা ছিল ১৩২৮টি এবং বরাদ্দ ছিল ৫২ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা। সংশোধিত এডিপিতে সরকারি বরাদ্দের অংশ বৃদ্ধি পেয়েছিলো ৩৬৬ কোটি টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য ৩ হাজার কোটি টাকা হ্রাস পেয়েছিলো। ৩২৪টি প্রকল্প সমাপ্তির জন্য নির্ধারিত ছিল। সমাপ্ত হয়েছে ২০৫টি প্রকল্প। অন্যদিকে উন্নয়ন কর্মসূচির ৭৬টি প্রকল্পে কোন খরচ হয়নি। ১১টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কাজ হয়েছিলো ২০ শতাংশের কম।