পায়ের মাংসপেশীর রগগুলো যেন তামাটে চামড়া ভেদ করে বেরিয়ে আসবে রতন মিয়ার। দুপুরের তপ্ত রৌদ্রে পিচঢালা পথে চাল পড়লে সিদ্ধ হয়ে যায় যেমন করে তেমনই গরম পড়েছে আজ। রতন মিয়ার এক পা কবরে গিয়েছে, অথচ রিকশা চালাতে গিয়ে তার কলিজার সমস্ত পানিটুকু যেন শুষে নিয়েছে সূর্যের বিশাল হা করা মুখখানি। বয়সের ভারে চামড়া ঝুলে পড়েছে ওর গণ্ডারের মতো। আর ঝুলে পড়া চামড়া রিকশা চালাতে গিয়ে একবার মসৃণ হচ্ছে তো আবার কুঁকড়ে যাচ্ছে। ভোরবেলায় চার নম্বর বিবি তাকে একবাটি পান্তা আর কামরাঙ্গা মরিচ দিয়েছিল খেতে। তা-ই খেয়ে এমন ভাদ্র মাসের আগুন রৌদ্র মস্তকের ওপর ধারণ করে রতন মিয়া বেরিয়ে পড়ে, শরীরের ভেতরে রক্তের যে স্রোত বয়ে যাচ্ছে তাকে সচল রাখার জন্য। এক জোড়া ঘুঘু উঠেছে তার রিকশায়। রিকশায় উঠেই ঘুঘু জোড়ার বেটা ঘুঘুটা হুড তুলে দেয়। অথচ তাদের হাতে ছাতা। কিন্তু কী সে কারণ যে যুবক হুড তুলে দিয়েছে। রতন মিয়া দুহাত দিয়ে শক্ত করে ধরে রিকশার ব্রেক, তারপর সকালের পান্তা থেকে উত্পন্ন এক অসুরিক শক্তি দিয়ে চালাতে শুরু করে রিকশা। স্যান্ডেলবিহীন পা দিয়ে প্যাডেল মারতে সচেষ্ট হলে সে লক্ষ করে তার রিকশায় আজ দুটো জলহস্তি উঠেছে। যার ফলে এক পা কবরে চলে যাওয়া রতন মিয়া রিকশার প্যাডেল মারতে পারছে না। অথচ যুবক-যুবতী রঙ্গ করার জন্য রিকশায় উঠে বিপত্তিতে পড়ে যায়, হঠাত্ ছেলেটি মেয়েটিকে জড়িয়ে ধরে একটু চুমু খেতে চাইলে, মেয়েটি বলে ওঠে, ‘আরে দেখছ না চাচা রিকশা চালাচ্ছে, দেখতে পাবে তো’। রতন মিয়ার রিকশায় এমন বেলেল্লাপনা এত জীবনে হয়নি। আর আজ তার গায়ের শক্তিটুকু মনে হচ্ছে সূর্যের বিশাল লম্বা জিহ্বা একটানে শুষে নিয়েছে। হঠাত্ যুবক ছেলেটা রিকশা থামায় আর বলে, ‘চাচা রাখেন তো, আপনি তো টানতেই পারছেন না, আমরা বরং অন্য রিকশা দেখে নেব’। এ বলে ঘুঘু জোড়া হনহনিয়ে চলে যেতে থাকে দূর সূর্যের আলোয়। কিন্তু রতন মিয়ার রিকশাভাড়া আর তারা দিয়ে যায়নি।
ঘরে তার চতুর্থ বউ হামেলা। হামেলা বন্ধ্যা এক মহিলা যে এর আগে স্বামীর সংসার থেকে ফেরত আসে মাকাল ফল হওয়ায়। রতন মিয়ার এ দীর্ঘ জীবনে বহু রং আর মরিচবাতি তার চোখের মণিকে উজ্জ্বল করেছে। কিন্তু হামেলার রূপ, যৌবন আর আলতারাঙা মুখখানি তার মস্তিষ্কের সূক্ষ স্নায়ু থেকে শ্রোণীচক্র পর্যন্ত অদ্ভুত এক শিহরণ জাগিয়ে তুলেছিল প্রথম দেখাতে। আর হামেলা বলে, ‘বুইড়া বেডার তলে আলাদা মজা আছে গো লো...। রতন মিয়ার প্রথম দুই বউ মারা যায় কোন সে আজব রোগে তা সৃষ্টিকর্তা বলতে পারবে। তবে তৃতীয় বউ অর্থাত্ আম্বিয়া ছিল এক গুণবতী মেয়ে। দু’টা সন্তান জন্ম দিয়ে সে যেন মহারানি অম্বা হয়ে যায়। দুইটা ছেলে সন্তান জন্ম দেয় সে। আর তৃতীয় সন্তান হতে গিয়ে প্রসবের সময় যখন পার হয়ে যাচ্ছিল ঠিক কোন অমঙ্গলে আর বাচ্চা প্রসব হয়নি। কত দেশের কত হেকিম-কবিরাজ আর ওঝা দেখানোর পরও কাজ হচ্ছিল না। অথচ সেই সময়টায় পর্দার ওপাশ থেকে রোগী দেখা হতো। গ্রামের লোকজন বলাবলি করছিল যে, ‘আম্বিয়া নাকি সাপ পেটে ধারণ করেছে, কেউ বলছে বাঁদুড়, কেউ বলছে অন্য কিছু...’ রিকশার প্যাডেলে আবার রতন মিয়ার পা খামচে ধরে। পায়ের মাংসপেশীতে এক ফোঁটা জোর নেই যে সে রিকশা চালাবে।
নেমে পড়া যুবক-যুবতী চলে যাওয়ার সময় একটা টাকাও তাকে দিয়ে যায়নি। রৌদ্রের তীব্রতা আরো বাড়তে থাকে, মনে হচ্ছে আকাশ থেকে ঝাড়ুর শলার মতো তীব্র বেগে রোদের চিকন শলাকা রতন মিয়ার অক্ষমতাকে তীব্রভাবে অকাট্য করার জন্য সারা গায়ে বিঁধছে। একসময় এক কেজি চালের ভাত খেয়ে ফেলা রতন মিয়া এখন রাতের বাসি পান্তা খেয়ে কেমন মিইয়ে গিয়েছে, ঠিক যেন জলবিহীন কলমিলতা, অথচ এইতো কিছুদিন আগেই রতন মিয়া রাতের চোখে লাল কাপড় বেঁধে যখন আম্বিয়ার যৌবন পুকুরে বাটারফ্লাই সাঁতার কাটত সারারাত, তখন এক রাজ্যের সমস্ত শক্তি এসে তার পায়ের নিচে মাথা নত করত। অথচ আজ এ তপ্ত দুপুরে নাগর-নাগরীদ্বয় তাকে চেটাং চেটাং কথা শুনিয়ে চলে যায়। নিজের অক্ষমতাকে সে কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না। অথচ হামেলা তার ঝুলে পড়া গালে যখন মিহি হাত বুলিয়ে দেয় তখন তার মনে হয়, এখনো তাহলে সে আগের সেই রতন মিয়াই আছে। কবিরাজ বলেছে, ‘পেটের মইধ্যে ছোডো মানুষ মইরা গেছে, অহন যদি চিকিত্সা করি, তয় দুইশত ছয়ডা হাড় আইব হের শরীর থাইক্কা’। আম্বিয়ার তৃতীয় সন্তান পেটের ভেতর মারা যায়। এটা সেই সময় যখন এদেশে বাচ্চা সিজার করা হয় না। অগত্যা রতন মিয়া রাজি হয় কবিরাজ মশায়ের কথায়। জোঁকের তৈল দেওয়া এক বোতল তৈল মাখতে বলেছে বিশেষ জায়গায়। বউয়ের চিকিত্সা আর সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে রতন মিয়া বেশি খাটতে থাকে। যার ফলে অতিদ্রুত সে তার জীবনীশক্তি হারাতে থাকে। আর আম্বিয়া সারাদিন বিশাল পেট নিয়ে ভাঙা চৌকিটায় শুয়ে-বসে থাকে। কতদিন রাতে রতন মিয়ার শরীরে চাঁদের আলোর জোছনা বসেছে, কিন্তু সে কিছুতেই বউয়ের কাছে ঘেঁষতে পারেনি। যার ফলে রাত্রিবেলা চরের বালুর মধ্যে গিয়ে সৃষ্টিকর্তাকে কত প্রশ্ন করেছে। কিন্তু ওপর থেকে কোনো প্রতিউত্তর আসেনি। নিজের ভিতরে জোনাকি পোকাগুলো যখন বিন্নি খইয়ের মতো ফুটতে ফুটতে আলোকিত করে ফেলে নিষিদ্ধ চরাচর তখন আম্বিয়া নিষ্কাম। আর রতন মিয়া কামনার সপ্তম শিখরে থেকেও দিকশূন্য এক কৃষ্ণহরিণ। যে জানে না কোথায় স্খলিত হবে তার যৌবন, অবশ্য কৃষ্ণহরিণ বেশি কামাতুর হলে সুন্দরী গাছকে জড়িয়ে কাম চরিতার্থ করে। তাহলে রতন মিয়া কী করবে? এর সমাধানই বা কী?
রাত্রে হামেলার পাশে মরা কামিনী কাঠের মতো শুয়ে থেকে হঠাত্ সে অনুভব করে, বাঁজা হামেলা তার ওই জিনিস পেয়ে আনন্দে কট কট করে হাসছে। রতন মিয়া এপাশ হয়ে তীব্র ক্ষুধা নিয়ে ঘুমাতে চেষ্টা করে, কিন্তু কিছুতেই তার ঘুম আসছে না, চোখের মণিতে যেন জ্বলন্ত তুন্দল। সারাটা দিন রিকশা চালিয়ে এক কেজি চালের টাকাও সে জোগাড় করতে পারেনি। এখন সে রাতজাগা পেঁচাদের মতো চোখ জ্বলজ্বল করে ঘুমের ভান করছে। অথচ আম্বিয়ার ঘরের দু’ছেলে তাকে রেখে দূরে কোথায় গিয়ে সংসার পেতেছে। রতন মিয়ার দুই পোলা তাকে রেখে আলাদা হয়ে গিয়ে ঘরজামাই হয়েছে। বউদের আঁচলের তলায় বসে দুই পোলা সারাক্ষণ ওয়া ওয়া করে। এমন পোলা জন্ম দেওয়ার সময় রতন মিয়ার বউ পুঁটি মাছের মতো তড়পাইছে। আনন্দে খলবল করে বউয়ের জন্য, সন্তানদের জন্য বাড়তি কত প্রকার উপঢৌকন কিনে দিয়েছে রতন মিয়া। নিজের ভেতরের মানুষটাকে বেশি ভালো না বেসে সে বউ আর দুই পোলারে পাগলের মতো ভালবেসেছিল। অথচ এই দুই পোলা তাকে লাথি মাইরা ঘর থেকে বের করে দেয়। বুইড়া শ্বশুরের নাকি চোখ খারাপ, তাছাড়া রতন মিয়া তো আর কাক নয় যে চোখে চশমা পরে থাকবে, শুধু শুধু এই জীবনের পড়ন্ত বিকেলে তাকে অতিথি পাখির মতো মিথ্যে আবাস থেকে আবারও উদ্বাস্তু হতে হয়। রতন মিয়ার একাকীত্ব ঘোচানোর জন্য হামেলা বুনো স্থলপদ্ম হয়ে তার জীবনে আসে। প্রথম দুই বউ যখন প্রেমের একটি কলাও পূর্ণ করতে পারছিল না, তার আগেই কালো মাটিতে মিশে যায়। অথচ আম্বিয়া প্রেমের ষোলকলা থেকে কয়েকটা কলাকৌশল শিখিয়ে পেটে সন্তান নিয়ে চলে যায় ওপারে। আম্বিয়ার সন্তান ধারণ আর তার শেষকৃত্য সবকিছুর সমাধান রতন মিয়া করতে পারেনি। ইচ্ছা ছিল দুইটা পোলা বিয়ে দিয়ে আয়-উন্নতি করে তাকে খাওয়াবে। বৃদ্ধ বয়সে তাকে আর তিনচাকার নিচে পিষ্ট হতে হবে না, কিন্তু বিধি যে তার কপালে বাম হাত ঢুকিয়ে রেখেছে সে কথা রতন মিয়ার জানা ছিল না। হামেলার সাথে তার শেষ বয়সে বেশ ভাব হয়ে যায়। কামহীন কামদেবতা কেমন ঝিমিয়ে পড়েছে তার ভেতরে। অথচ প্রতিদিন একটু জল একটু আদর, একটু আগরবাতির গন্ধে যেমন মরা তুলসি গাছ তার ভেতরে প্রাণের সঞ্জীবনী ফিরে পায়, রতন মিয়া তেমনি সেই যৌবনের বসন্তের শিমুল ফুলের মৌ মৌ সুরভি হামেলার স্পর্শে ফিরে পাচ্ছে।
ভোরের আলো ফিকে হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে রতন মিয়া হামেলার আলুথালু শাড়িটা নিজের ওপর থেকে সরিয়ে শরীরটাকে শক্ত করে রিকশা নিয়ে বেরিয়ে পড়ে প্রধান সড়কটায়। জীবনে সে না খেয়ে মারা যাবে তবুও কারো কাছে হাত পাতবে না। সকালের সূর্যের মেজাজটায় আস্তে আস্তে খাঁটি গাওয়া ঘি পড়তে থাকে। আর চিতার আগুনের মতো তা দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে। রতন মিয়া নিজের পেটের ধান্দা ছাড়াও নতুন বিয়ে করা বউ হামেলার কথা চিন্তা করে হলেও তাকে আজ যে করেই হোক এক কেজি চাল আর শুঁটকি কেনার মতো টাকা জোগাড় করতে হবে। রতন মিয়ার মনে যে অস্ফুট স্থলপদ্ম নামক হামেলা আছে, তাকে তো ফোটাতে হবে তারই। ফুলের কলিতে যেমন ভোমর বসে না তেমনি প্রস্ফুটিত ফুল পেলে সবার চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়, তেমনিভাবে বৃদ্ধ রতন মিয়ার প্রেমকাতরতায় হামেলাকে অস্ফুট স্থলপদ্ম না রেখে তাকে জলহীন ডাঙায় প্রেমের জল দিয়ে ফোটাবে সে। দুপুরের তপ্তরৌদ্র অবাধ্য সন্তানের মতো আবারও রতন মিয়াকে যেন ঘরছাড়া করতে চায়, সূর্যের এমন উত্তুঙ্গ তপ্ত আলোর বর্ণালি চুলগুলো কারও বিছার মতো রতন মিয়ার গায়ে ফুসকুড়ি ধরিয়ে দিচ্ছে। অগত্যা রতন মিয়া তার গলার বাঁধ ছেড়ে দেয়, ঠিক যেন বর্ষার সময় বেঁধে রাখা বাঁশের বেড়া দিয়ে কোনো মাছের বিশাল মিছিলরত ঝাঁক। রতন মিয়ার জমে থাকা কণ্ঠ থেকে বের হয়ে আসছে আশ্চর্য এক সিম্ফনি, ‘পায়ের ধাক্কায় তিন চাক্কার রিকশা চলেরে/ দেহইঞ্জিন সারাটা দিন রইদে জ্বলেরে’। গানটা রতন মিয়া নিজেই তৈরি করেছে। প্রায়ই মনের ভেতর থেকে এমন সব কথার বিলোড়ন চলে আসে রিকশা চালাতে গিয়ে। হামেলা কোথাও এতটুকু স্থান পায়নি, স্বামীর সংসার থেকে বিতাড়িত হবার পর থেকে, অথচ রতন মিয়া বিয়ের দিন তাকে রিকশা দিয়ে সারাটা পৃথিবী এক চক্কর দিয়েছে। বাস্তবতার ধারাল ব্লেডে রতন মিয়ার জীবনটা ফালিফালি হয়ে যায় পেকে যাওয়া বাঙ্গির শরীরের মতো। আর বয়সের কঠিন ছাপ বেশ ঘাড় মটকে বসেছে তার ওপর এখন। ঘরের ভেতর এমন অস্ফুট স্থলপদ্ম রেখে সে বাইরে বেরিয়েও স্বস্তি অনুভব করে না। প্রকৃতির মৃদুমন্দ স্পর্শে যেমন ফুল ফোটে তেমনি হামেলা জানে, বৃদ্ধের মনের রং দিয়ে রাঙিয়ে দেবে হামেলার ঊন বুক, ঠোঁট আর গোলাপি স্থলপদ্মের মতো ফুটে সে অদ্ভুত এক প্রেম কথন শুরু করবে রতন মিয়ার জীবনে। বৃদ্ধ রতন মিয়ার সংসারে হামেলা যদি প্রথম জীবনে এসে তাকে পদ্মাপাতায় তুলে দূর মেঘমালায় হারিয়ে যেত তাহলে এ জীবনের পড়ন্ত বিকেলে তাকে রিকশা চালাতে হতো না; বরং আয়েশ করে শুয়ে পান চিবুতে অথবা বিড়ির ধোঁয়া অজগর বানিয়ে সে পৃথিবীতে তার অস্তিত্ব জানান দিত।
এদিকে হামেলা স্বামী, না বাপ, না শ্বশুর, নাকি প্রেমিক ঠিক বুঝে ওঠার পরীক্ষায় খাবি খাচ্ছে মূলা ঝুলানো গাধার মতো। কিন্তু রাতের কালো জঠরে রতন মিয়া এখনো তাজা ঘোড়া যার পিঠ দিয়ে কালো ঘাম ঝরে তপ্ত রৌদ্রে। রিকশা চালিয়ে আজ কিছুটা বাজার সদাই করেছে সে, কিন্তু সে নিজের উন্নত শির লাউডগায় মতো সবসময় ঊর্ধ্ব করে রেখেছে। হামেলা দ্রুত ভাত চড়ায়, সাথে মরিচ ভর্তা আর মানকচুরমুখী আগুনে পোড়া দেয়। এদিকে রতন মিয়া পুকুরঘাটে যায় গোসল করতে, সন্ধ্যার দিকে গোসল করা তার অভ্যাস। হামেলার রান্না শেষ হয়ে যায় আজানের আগেই। কিন্তু বেশ খানিকটা সময় পার হয়ে যাওয়ার পরও রতন মিয়া আসে না। হামেলা বাসন্তী নয় গোলাপি রঙা পাকিজা প্রিন্ট শাড়ি পরে পুকুর ঘাটে যায়, কিন্তু সে দেখে, রতন মিয়া উবু হয়ে পুকুরঘাটে পড়ে আছে। হামেলার গগনবিদারী চিত্কারে এলাকার লোকজন এসে রতন মিয়াকে ধরে তাদের ছোট্ট খুপরি ঘরটায় নিয়ে আসে, হামেলা স্বামীর জন্য সন্তাপ শুরু করে। আকস্মিক রতন মিয়া চোখ খোলে। হামেলার দিকে নিভু দৃষ্টিতে রতন মিয়া তাকিয়ে ভেবে অবাক হয়—এ পৃথিবীতে তাকে নিয়ে এখনো কেউ ভাবে, চোখের জল ফেলে। রতন মিয়ার ভাঁজ করা চামড়ায় হাত দিয়ে হামেলার অস্ফুট স্থলপদ্মের মধ্যে গোলাপি আভা লাগিয়ে দেয় সে!
