ভুলের শহরে কবি ভুল করে বেঁধেছে আবাস;
বে-সুরো মাত্রাহীন চতুর প্রহরগুলো কুরে খায় কবির হূদয়
কবি চায় উম্মুক্ত আকাশ, চায় দিন সারল্যে মোড়া
চায় কবি সাবলীল হাওয়ার হিন্দোল।
ও লাল কৃষ্ণচূড়া... নিকেলের বিকেলের রোদ...
ও প্রিয় সূর্যমুখী... কেন আজ ঊর্ধ্বমুখী নও;
চাতুর্যের ফেরে পড়ে তোমরাও মেকি হয়ে গ্যাছো!
ভুলে ভুলে একাকার হয়ে গ্যাছে শহরের সমগ্র বিষয়;
‘পাখিসব করে রব’—কোথায় সে পয়ারের পাখি
‘কাননে কুসুমকলি...’ ফুটিতেছে কই?
কোথাও পাবে না কবি স্বরমাত্রিক সুছন্দ আমেজ
কোথাও পাবে না কবি রিমঝিম—স্বরবৃত্ত আদর
চতুর বায়স শুধু কাকস্য গদ্য-স্বরে রোরুদ্য দুপুর কাঁপায়;
বায়সের মতো আজ চাতুর্যে জ্বলছে সব নাগরিক চোখ।
ভুলের শহরে কবি ভুল করে বেঁধেছে আবাস :
জীবনের অন্ত্যমিল খূুঁজে-খুঁজে ব্যর্থ হয় কবি
ফাঁকতালে কবি হতে উঠেছে মরিয়া হয়ে
মাথামোটা আমলা ও নেশাবুঁদ ছদ্মবেকার।
ভুলের শহরে কবি দিগভ্রান্ত আজ;
চাঁদের উপমা নারী; চতুর পুরুষের মতো
সেও আজ বুঝে গ্যাছে—
কী হবে হূদয়ে পুষে প্রেমময় রাবীন্দ্রিক মেঘ!
ভুলের শহরে কবি ভুল করে বেঁধেছে আবাস :
এখানে আমলা নেতা জনতা রিকশাচালক
টোকাই সবজিঅলা হকার বারাঙ্গনা
কেরানি বুদ্ধিজীবী কলত্র পতি ও প্রেমী—
সকলেই কুশলী চতুর;
চতুর শহরে কবি বৃথাই হাতড়ে মরে
কবিতার বিশুদ্ধ আবেগ;
যে আবাস বেঁধেছে কবি সে আবাস ভেঙে বলো
কবি আজ পালাবে কোথায়!
