আমার কাছে আমার মতোই সুচিত্রা। যদিও আমি ওর নিছক সৌন্দর্যের চেয়ে ওর ব্যক্তি ইমেজের শক্তিকেই বেশি স্যালুট করি। ওকে নিয়ে এই অ্যাক্রিলিক ক্যানভাসটা তৈরির সময় আমার এমনটাই মনে হয়েছে। রুমী নোমানের এই উদ্যোগকেও আমি ভীষণ রকম অ্যাপ্রিশিয়েট করি। আমাকে যখন মহানায়িকার জন্মদিন উপলক্ষে বিশেষ এই চিত্রকলাটি তৈরির কথা বলা হলো, তখন খানিকক্ষণ আমি ভাবলাম তার কোনদিকটা আমি ফোকাস করতে পারি। সেই থেকেই এই কাজটি করা। আমার কাছে সুচিত্রা একটা বিষয়ে সবার উপরে। তা হলো, আজকের এই অর্থলোলুপ সমাজে সামান্য টাকার বিনিময় হলেই অমিতাভ, শাহরুখেরা লজেন্সের বিজ্ঞাপন করতে ছুটে যান। অথচ তার ওই পরিমাণ অর্থ না হলেও জীবিকা নির্বাহে সমস্যা হতো না। সেদিক দিয়ে ভিডিও ক্যামেরার সামনে তো অনেক দূরের কথা, নিজের ঘরের মানুষদের জন্যও স্টিল ক্যামেরায় ছবি তোলেননি। সে কারণে আমার ক্যানভাসের এই তুলি আঁকা অবয়বের সাথে তার ওই পোট্রেটটাও কিন্তু একটি দারুণ চিত্রকলা। যে ছবিটা থেকে আমাদের এই উপমহাদেশের শিল্পীদের অনেক কিছু শেখার আছে। ৬ এপ্রিল মহানায়িকার এই জন্মদিন উপলক্ষে এই বিশেষ আয়োজনে তাই আমার এই চিত্রটি তার অগণিত ভক্তদের কথা চিন্তার পাশাপাশি আমাদের শোবিজ ওয়ার্ল্ডের এইসব তারকাদের জন্যও একটা দৃষ্টান্ত তৈরির চেষ্টা করেছি মাত্র। শিল্পাঙ্গন গ্যালারির পক্ষে ৩০ জন শিল্পীর আঁকা সুচিত্রা সেনের এই অনবদ্য প্রদর্শনী আমার কাছে তাই দারুণ এক উদ্যোগ।
লেখক :প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী, কথাসাহিত্যিক
