অবসরে খেটে খান লাইলী আক্তার। ঘরকন্যার কাজ সেরে বাকি সময়টা ব্যস্ত থাকেন ব্লক আর বুটিকের শো-পিস তৈরির কাজে। যে কাজটির মাধ্যমে তিনি স্বপ্ন এঁকে চলেছেন দারিদ্র্য মুক্তির।
বত্রিশ বছরের লাইলী থাকেন রাজধানী ডেমরার সারুলিয়ায়। স্বামী আর এক কন্যা সন্তান নিয়ে তার সংসার। বাসায় ঢুকলেই চোখে পড়ে নানা ডিজাইনের নানা পণ্যের পসরা। ব্লক আর বুটিকের দৃষ্টিনন্দন কারুকাজ খচিত নানা রকমের শো-পিস। ভ্যানিটি ব্যাগ, থাই ফুল, থাই কলাগাছসহ নানা রকমের শো-পিস দেখে যেন চোখ ধাঁধিয়ে যায়। এসব শো-পিস তৈরি করে নিজেই ঢাকার বিভিন্ন মার্কেটে সরবরাহ করেন তিনি।
প্রথমে বাবা আবদুল ওহাবের হাত ধরে এই কাজে হাতেখড়ি লাইলীর। পরে মতিঝিলের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থা থেকে সাড়ে তিন বছর প্রশিক্ষণ নেন । এরপর নিজের বাসায়ই গড়ে তোলেন ব্যবসা। লাইলী জানান, প্রতিটি ভ্যানিটি ব্যাগ আকারভেদে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা, থাই ফুল আকারভেদে ২০০ থেকে ১ হাজার টাকা আর থাই কলাগাছ আকারভেদে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। অবশ্য সব সময় কাজ থাকে না। ফলে প্রতি মাসে গড়ে ৫ হাজার টাকার বেশি আয় করা কঠিন।
লাইলীর পর্যাপ্ত পুঁজি নেই। পুঁজি না থাকায় কাঁচামাল কেনা এবং জনবল নিয়োগ দিতে পারছেন না। তার মতে, চাহিদামত পণ্য সরবরাহ করতে পারলে লাভের অংকটা বাড়তো। বাংলাদেশে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পণ্য বিপণনের জন্য সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনাও নেই। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পণ্য নিয়ে কেন্দ্রীয় ভাবে বিপণনের যদি কোন ব্যবস্থা থাকতো, তাহলে ব্যবসাও ভাল হতো এবং আরো অনেকেই এসব উদ্যোগে নিজেকে শামিল করতো।
লাইলী জানান, রাজধানীর বসুন্ধরা, ইস্টার্ন প্লাজা আর নিউ মার্কেটের বিভিন্ন শো পিসের দোকানে তার উত্পাদিত পণ্য রয়েছে। তবে অনেক দোকানে বাকিতে বিক্রি করার পর ওই টাকা পরবর্তীতে আদায় করা দু:সাধ্য হয়ে পড়ে। নারী উদ্যোক্তা ভেবে অনেকেই কম গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। ফলে সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও ব্যবসাটিকে শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড় করাতে পারছেন না তিনি।
