ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে শক্ত ভিত কখনোই পায়নি বিজেপি। যদিও শ্যামা প্রসাদ মুখার্জির মতো দলের একজন আদর্শিক নেতা এ রাজ্য থেকেই উঠে এসেছিলেন। যা হোক, সবকিছু দূরে ঠেলে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে মোদীর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গে চমক দেখাতে পারে বিজেপি। কংগ্রেস ও সিপিআই (এম) এর প্রভাব কমায় বিজেপির ভোট এবার দ্বিগুণ হতে পারে।
১৯৯৯ সালের নির্বাচনে লোকসভার দুটি আসনে জয় পেয়েছিল বিজেপি। কিন্তু সেই জয়ের সুযোগকে তারা কাজে লাগাতেপারেনি। ঐ নির্বাচনে বিজেপির শরিক ছিলো তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলের সঙ্গে জোট করে ঐবার সুবিধা পেয়েছিল বিজেপি। কিন্তু জোট ভেঙে যাওয়ার পর বিজেপির ভোট কমে যায়। এবারের নির্বাচনে বিজেপি ভালো করবে বলে আশা করছেন রাজ্য নেতারা। তাদের মতে, গত কয়েক বছরে বিজেপির ভোটার বেড়েছে। ২০১২ সালে জঙ্গিপুরের লোকসভা আসনে উপনির্বাচনে ১১ শতাংশ ভোট পেয়েছিল বিজেপি।
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপির প্রধান রাহুল সিনহা বলেন, এবারের নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে দল ভালো করবে। ইতিমধ্যে বিজেপি রাজ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসাবে উঠে এসেছে। বর্তমানে জনপ্রিয়তায় কংগ্রেস চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। তার মতে, ২০১৬ সালের বিধান সভা নির্বাচনে বিজেপি তৃণমূলের প্রথম চ্যালেঞ্জে পরিণত হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক বিজেপি নেতা বলেন, বিজেপির জনপ্রিয়তা ১৬ শতাংশ হতে পারে। আর এ অবস্থা থাকলে লোকসভার চারটি আসনে জয় পেতে পারে তারা। দার্জিলিং, কৃষ্ণনগর, বনগাঁও ও আসানসোলে জয় পেতে পারে বিজেপি।
তবে কলকাতাভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক সব্যসাচী বসু রায়চৌধুরী বলেন, বিজেপি এবার তৃণমূল ও সিপিআই এর পর তৃতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হতে পারে। কারণ ২০০৯ সালে কংগ্রেস ১৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। বর্তমানে তাদের ভোটের হার আরো কমেছে। এসব ভোটারের বেশিরভাগই তৃণমূল ও বিজেপিকে সমর্থন করছে। এছাড়া বামদেরও কিছু ভোট এবার বিজেপির বাক্সে যেতে পারে।
