চট্টগ্রামে আগুনে পুড়ে একই পরিবারের ৪ জনের মৃত্যু

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:০৮
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নের সিপাহীপাড়ায় বুধবার গভীর রাতে আগুনে পুড়ে একই পরিবারের ৪ জন মারা গেছেন। নিহতরা হলেন- এলাকার আবদুস সালামের পুত্র আবদুর রহিম (৪৮), তার স্ত্রী নাছিমা আক্তার (৩২) এবং তাদের মেয়ে সোলতানা রেশমি আক্তার (৮) ও লাকী আক্তার সুমি (১২)। রাত তিনটার দিকে হঠাত্ তাদের ঘরে আগুন ধরে যায়। সবাই তখন ঘুমিয়ে ছিলেন। চুলা কিংবা বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণা। সংশ্লিষ্টরা জানান, রাতে আবদুর রহিমের টিনের ছাউনিযুক্ত কাঁচা ঘরে আগুন ধরলে লেলিহান শিখা দাউ-দাউ করে জ্বলতে থাকে। পাড়া-প্রতিবেশীরা নাইট গার্ডের মাধ্যমে খবর পেয়ে চিত্কার করে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পানি দিয়ে আগুন নিভানোর চেষ্টা করে; কিন্তু তাদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়। সবকিছু জ্বলে-পুড়ে ছাই হয়ে গেলে ৪ জনের মৃতদেহ লোকজনের দৃষ্টিগোচর হয়। এদিকে আবদুর রহিমের দুই পুত্র ইমরানুল হক (১৪) ও আরমানুল হক (১০) বাড়ির বাইরে থাকায় তারা প্রাণে বেঁচে যায়। খবর পেয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার বাড়ি এসে মা-বাবা ও বোনদের পুড়ে যাওয়া দেহ দেখে তারা চিত্কার করে কাঁদতে শুরু করে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তারা বলে, ‘তাদের কে আশ্রয় দেবে। কারা তাদের মা-বাবার আদর ও বোনের স্নেহ দেবে।’ তাদের করুণ আর্তনাদ শুনে সবার চোখ ভিজে যায়। এ ঘটনায় ওই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অগ্নিকাণ্ডের খবর শুনে সকালে ঘটনাস্থলে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফিজনূর রহমান ও সাতকানিয়া সার্কেলের এএসপি একেএম এমরান হোসেন ভুঁইয়া। তারা হতভাগ্য পরিবারটির বেঁঁচে যাওয়া দুই সন্তান যথাক্রমে আধুনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র ইমরান ও হেফজখানার ছাত্র আরমানকে জড়িয়ে ধরেন। তাত্ক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য আর্থিক অনুদানের ব্যবস্থা করেন। আধুনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল খালেক জানান, ইমরানের লেখাপড়ার খরচ বিদ্যালয় থেকে বহন করা হবে। ইতিমধ্যে তিনি পাঠ্যপুস্তক ও কাপড়ের ব্যবস্থা করেছেন বলে জানান।