মস্তিষ্কের রয়েছে নিজস্ব তড়িত্ প্রবাহ। এর মাধ্যমে কাজ করে ব্রেইন/ মস্তিস্কের সকল অংশ। তড়িত্ প্রবাহের কোন বিপত্তি হলে হয় খিচুনী। খিচুনী বার বার হলে এটিকে বলে মৃগী বা এপিলেপসি। এপিলেপসি বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে। এর কারণও অনেক। খিচুনী হলে রোগী অজ্ঞান হতে পারে, আবার নাও হতে পারে। আবার অনেক সময় খিচুনী হলেও তা সহজে বুঝা যায় না। তবে খিচুনীর ধরন যাই হোক-একবার খিচুনী হলেই চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে হবে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা যেমন: ইইজি, সিটিস্ক্যান, এমআরআই, রক্তের লবণ, শর্করা, ইউরিয়া, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, লিভার ফাংশন সহ অন্যান্য পরীক্ষার মাধ্যমে চিকিত্সক হয়তো বুঝতে পারবেন এটি কোন ধরনের মৃগীরোগ এবং এর কারণ কি। রোগের কারণ ও প্রকৃতি নির্ণয় করা সাপেক্ষে ডাক্তার বুঝতে পারবেন পরবর্তী চিকিত্সা পদ্ধতি কিংবা কোন ওষুধ তার জন্য বেশী সহায়ক।
খিচুনী হওয়ার সময় কি করবেন
এ সময় রোগীর কাছাকাছি যিনি থাকবেন তার দায়িত্ব সাহস এবং উপস্থিত জ্ঞান দিয়ে রোগীকে সহায়তা করা। যেমন-রোগীকে আগুন, পানি, যন্ত্রপাতি ইত্যাদি থেকে দূরে সরিয়ে নেয়া, খিচুনী শেষ হলে কাত করে শুয়ে দেয়া, নাক মুখ পরিস্কার রাখা, খিচুনীর সময় মুখের ভিতরে কাপড়/ অন্যকিছু না দেয়া। খিচুনী ৫ মিনিটের বেশী সময় ধরে হলে কিংবা বার বার হতে থাকলে নিকটবর্তী হাসপাতালে/ চিকিত্সকের নিকট নিয়ে যাওয়া।
মৃগী রোগীদের জীবন যাত্রায় যে পরিবর্তন আনা দরকার
যেহেতু যেকোন সময় হঠাত্ খিচুনী হতে পারে এজন্য এটি দীর্ঘদিন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না থাকলে কিছু কাজ যেমন-আগুন, পানি বা ক্ষতি করতে পারে এমন যন্ত্রপাতি নিয়ে কাজ করা থেকে বিরত থাকা, পুকুর বা নদীতে সাতার কাটা, গোসল করা বা মাছ ধরা, সাইকেল কিংবা গাড়ী চালানো ইত্যাদি হতে বিরত থাকতে হবে।
মৃগী রোগের ওষুধ
এরোগের চিকিত্সায় এখন অনেক ধরণের ওষুধ ব্যবহূত হয়। এর মধ্যে সোডিয়াম ভালপ্রয়েট, কার্বামাজেপিন, টপিরামেট, ইথোসোক্সিমাইড, ক্লোনাজিপাম, গাবাপেন্টিন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। ওষুধগুলোর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও কিছুটা বেশী। আবার ওষুধ খেতে হয় দীর্ঘদিন। কেবল মাত্র একজন দক্ষ চিকিত্সকই রোগের প্রকৃতি, রোগীর বয়স ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে ওষুধ পরিবর্তন, ওষুধ সেবন কাল, পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় করণীয় ইত্যাদি নির্ধারণ করতে পারেন। এজন্য দেরী না করে ডাক্তারের শরনাপন্ন হওয়া জরুরী।
ডা: মো: আলী আশরাফ জুয়েল
মেডিসিন বিভাগ, লায়ন্স চক্ষু হাসপাতাল
আগারগাঁও, ঢাকা-১২০৭
