শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি, বজ্রপাতে নিহত ১

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০১৪, ২১:৪১
দেশের বিভিন্ন স্থানে আকস্মিক শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। বাঁশখালীতে বজ পাতে এক লবণ চাষির মৃত্যু ঘটেছে। শিলাবৃষ্টিতে উঠতি ইরি-বোরো ধান, শাক-সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক বাড়ির টিনের চাল ফুটো হয়ে গেছে। শিলার আঘাতে কোন কোন স্থানে প্রচুর সংখ্যক হাঁস-মুরগিও মারা পড়েছে। বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, বাঁশখালীতে গতকাল সকাল ৮টায় আকস্মিক ঝড়ো হাওয়ায় ও শিলা বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দুই শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেসে গেছে ৫ হাজার একর মাঠের উত্পাদিত লবণ। লবণ মাঠে কাজ করার সময় ছনুয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ছনুয়া গ্রামে মো. তৌফিক (১৮) নামের এক লবণ চাষির বজ পাতে মৃত্য হয়েছে। সেনবাগ (নোয়াখালী) সংবাদদাতা জানান, নোয়াখালীর সেনবাগে প্রচণ্ড ঝড় ও শীলাবৃষ্টিতে উঠতি ইরি-বোরো ধান ও বিদ্যুত্ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ভোরে আকস্মিক শিলা বৃষ্টিতে শতশত একর জমির উঠতি ইরি-বোরো ধান মাটিতে মিশে যায়। শীলার আঘাতে অনেক ঘরের চালা ছিদ্র হয়ে যায়। ঝড়ের কারণে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে গিয়ে লাইন ছিঁড়ে যায়। এতে করে ভোর থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত সেনবাগ বিদ্যুিবহীন অবস্থায় থাকে। জয়পুরহাট প্রতিনিতি জানান, জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে শিলা বৃষ্টিতে বসতবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত দেড়টা থেকে ২টা পর্যন্ত স্থায়ী এই শিলা বৃষ্টিতে ধান, শাক-সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়। বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের টিনের চাল ছিদ্র হয়ে যায় এবং পোল্ট্রি খামারগুলোতে কয়েক হাজার মুরগি মারা পড়ে বলে জানিয়েছে জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অফিস। কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, প্রবল শিলা বৃষ্টির কারণে কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলায় মৌসুমী ফসল এবং শাক-সবজির ব্যাপক ক্ষতির আশংকা দেখা দিয়েছে। এতে কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। গৃত বৃহস্পতিবার রাতে আকস্মিকভাবে প্রবল শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী শিলা বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বোরো চাষিরা। কৃষকরা জানান, শিলা বৃষ্টির কারণে অধিকাংশ ধানের শীষ ভেঙ্গে গেছে এবং পাট, তিল, তরমুজ, বাঙ্গি ও শাক-সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।